রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক নতুন ইটভাটা স্থাপন করা হচ্ছে। পূর্বের ভাটাগুলোর দূষণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসতেই এলাকাজুড়ে নতুন ভাটা নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো, কৃষিজমি দখল, বনাঞ্চল উজাড় ও ঘন ধোঁয়ার দূষণে সমগ্র জনপদ আজ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লোকালয় ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালা ও অ্যালার্জিতে ভুগছেন। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে হাঁপানি, ফুসফুসের সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিনই। পরিবেশবিদদের মতে, এসব ভাটার ধোঁয়া ও রাসায়নিক নির্গমনের কারণে মাটি হারাচ্ছে উর্বরতা, কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণী হারাচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটা মালিক জানান, তারা হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন এবং সেই রিটের শুনানি এখনো হয়নি। সেই অজুহাতে তারা নতুন ভাটা নির্মাণ ও ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা— অচিরেই পীরগঞ্জের কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। পীরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ও পরিবেশদূষণকারী ইটভাটা বন্ধ করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে।
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 























