ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে মেলে গ্যাস, ছয় মাস ধরে সেই গ্যাসে রান্না

পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে উঠে আসছে প্রাকৃতিক গ্যাস। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই গ্যাসই এখন সেই পরিবারের রান্নার জ্বালানি। প্রায় ছয় মাস ধরে অনবরত উঠছে গ্যাসটি, আর সেই গ্যাসেই তারা চা, ডিম ভাজা ও ভাত রান্না করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতকাটা গ্রামে।

রোববার (২ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, মাটির নিচ থেকে পাইপ দিয়ে ক্রমাগত গ্যাস উঠছে। বিষয়টি দেখতে আশপাশের লোকজন ভিড় করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় হঠাৎ পাইপের মুখ দিয়ে গ্যাস উঠতে থাকে। পরে তারা অন্যত্র টিউবওয়েল স্থাপন করেন। প্রথমে বিষয়টি তারা গুরুত্ব না দিলেও দেখতে পান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গ্যাস ওঠা বন্ধ হয়নি। বর্তমানে পাইপলাইন স্থাপন করে সেই গ্যাসেই রান্না করছেন পরিবারের সদস্যরা।

ইউপি সদস্যের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, গ্যাস ওঠা শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর আমরা সেখানে দুই ফুট লম্বা একটি লোহার পাইপ লাগিয়েছি। আশপাশের মানুষ আসে, আমরা তাদের চা বানিয়ে খাওয়াই, মাঝেমধ্যে ভাতও রান্না করি। বিষয়টা আশ্চর্যজনক, তবে ভয়ও লাগে কখন কী হয় বলা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন আকন বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমনভাবে গ্যাস ওঠার খবর শুনেছি। কিন্তু এখানে সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো ছয় মাস পার হলেও এখনো গ্যাস ওঠা বন্ধ হয়নি। অন্য জায়গায় এক-দেড় মাসের মধ্যে থেমে যায়। হয়তো এখানে গ্যাসের খনি থাকতে পারে। তবুও ভয় লাগে, কারণ বাড়িতে ছোট বাচ্চারা আছে। তারা যদি আগুন নিয়ে খেলা করে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উঠছে, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বিষয়টি আমি চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত আরা জামান উর্মি বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। আজই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে মেলে গ্যাস, ছয় মাস ধরে সেই গ্যাসে রান্না

আপডেট সময় ০৩:৩১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে উঠে আসছে প্রাকৃতিক গ্যাস। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই গ্যাসই এখন সেই পরিবারের রান্নার জ্বালানি। প্রায় ছয় মাস ধরে অনবরত উঠছে গ্যাসটি, আর সেই গ্যাসেই তারা চা, ডিম ভাজা ও ভাত রান্না করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতকাটা গ্রামে।

রোববার (২ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, মাটির নিচ থেকে পাইপ দিয়ে ক্রমাগত গ্যাস উঠছে। বিষয়টি দেখতে আশপাশের লোকজন ভিড় করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় হঠাৎ পাইপের মুখ দিয়ে গ্যাস উঠতে থাকে। পরে তারা অন্যত্র টিউবওয়েল স্থাপন করেন। প্রথমে বিষয়টি তারা গুরুত্ব না দিলেও দেখতে পান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গ্যাস ওঠা বন্ধ হয়নি। বর্তমানে পাইপলাইন স্থাপন করে সেই গ্যাসেই রান্না করছেন পরিবারের সদস্যরা।

ইউপি সদস্যের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, গ্যাস ওঠা শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর আমরা সেখানে দুই ফুট লম্বা একটি লোহার পাইপ লাগিয়েছি। আশপাশের মানুষ আসে, আমরা তাদের চা বানিয়ে খাওয়াই, মাঝেমধ্যে ভাতও রান্না করি। বিষয়টা আশ্চর্যজনক, তবে ভয়ও লাগে কখন কী হয় বলা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন আকন বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমনভাবে গ্যাস ওঠার খবর শুনেছি। কিন্তু এখানে সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো ছয় মাস পার হলেও এখনো গ্যাস ওঠা বন্ধ হয়নি। অন্য জায়গায় এক-দেড় মাসের মধ্যে থেমে যায়। হয়তো এখানে গ্যাসের খনি থাকতে পারে। তবুও ভয় লাগে, কারণ বাড়িতে ছোট বাচ্চারা আছে। তারা যদি আগুন নিয়ে খেলা করে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উঠছে, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বিষয়টি আমি চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত আরা জামান উর্মি বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। আজই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।