ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

ক্ষেতলালে করলা চাষে সফলতা, লাভ বাড়ছে কৃষকের

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় এবার মাঠজুড়ে সবুজ করলার সমারোহ দেখা যাচ্ছে। এ বছর ৫০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। উপজেলার আটিগ্রাম, মুনঝার, মিনিগাড়ি, আয়মাপুর, দেওগ্রাম, ঘুগইল, হিন্দা ও বাখেরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি করলা চাষ হয়েছে। মোঘল, গ্লোরি, নবাব ও কাবেরী–৮৮ জাতের মধ্যে ‘মোঘল’ জাতের করলার ফলন ও বাজারমূল্য সবচেয়ে বেশি।

আটিগ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে মোঘল জাতের করলা চাষ করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছি। মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করলে আগাছা কমে, পানি ধরে রাখা সহজ হয় এবং ফলনও বেড়ে যায়। এবার আগের সব মৌসুমের তুলনায় লাভ অনেক বেশি।’ মুনঝারের কৃষক কাবিল হোসেন জানান, ১৬ শতাংশ জমিতে করলা চাষ করে ১ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছি। আগে এত লাভ কল্পনাও করতে পারিনি। এখন আমাদের গ্রামের অনেক কৃষকের আয়ের প্রধান উৎস করলা চাষ।

ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরুল হোসাইন বলেন, মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করলে কৃষকরা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হয়েছেন। মাটি আর্দ্র থাকে, আগাছা কমে ও গাছের ফলন বাড়ে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান জানান, রাসায়নিক সারের পাশাপাশি কৃষকেরা জৈব সার ব্যবহার করায় গাছ সতেজ থাকে, রোগবালাই কমে। এতে ফলন ও মান দুটোই ভালো হয়। ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছি। করলা এখন এখানকার জন্য লাভজনক ফসল হিসেবে নতুন দিগন্ত খুলেছে। আগামী মৌসুমে চাষের পরিধি আরো বাড়বে বলে আশা করছি। সবুজে মোড়া ক্ষেতলালের করলা ক্ষেত এখন এক অনুপ্রেরণার গল্প। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পরিশ্রম ও সঠিক পরামর্শে এই ত্রিমাত্রিক সাফল্যের ফলেই বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবনচিত্র।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

ক্ষেতলালে করলা চাষে সফলতা, লাভ বাড়ছে কৃষকের

আপডেট সময় ১১:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় এবার মাঠজুড়ে সবুজ করলার সমারোহ দেখা যাচ্ছে। এ বছর ৫০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। উপজেলার আটিগ্রাম, মুনঝার, মিনিগাড়ি, আয়মাপুর, দেওগ্রাম, ঘুগইল, হিন্দা ও বাখেরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি করলা চাষ হয়েছে। মোঘল, গ্লোরি, নবাব ও কাবেরী–৮৮ জাতের মধ্যে ‘মোঘল’ জাতের করলার ফলন ও বাজারমূল্য সবচেয়ে বেশি।

আটিগ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে মোঘল জাতের করলা চাষ করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছি। মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করলে আগাছা কমে, পানি ধরে রাখা সহজ হয় এবং ফলনও বেড়ে যায়। এবার আগের সব মৌসুমের তুলনায় লাভ অনেক বেশি।’ মুনঝারের কৃষক কাবিল হোসেন জানান, ১৬ শতাংশ জমিতে করলা চাষ করে ১ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছি। আগে এত লাভ কল্পনাও করতে পারিনি। এখন আমাদের গ্রামের অনেক কৃষকের আয়ের প্রধান উৎস করলা চাষ।

ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরুল হোসাইন বলেন, মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করলে কৃষকরা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হয়েছেন। মাটি আর্দ্র থাকে, আগাছা কমে ও গাছের ফলন বাড়ে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান জানান, রাসায়নিক সারের পাশাপাশি কৃষকেরা জৈব সার ব্যবহার করায় গাছ সতেজ থাকে, রোগবালাই কমে। এতে ফলন ও মান দুটোই ভালো হয়। ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছি। করলা এখন এখানকার জন্য লাভজনক ফসল হিসেবে নতুন দিগন্ত খুলেছে। আগামী মৌসুমে চাষের পরিধি আরো বাড়বে বলে আশা করছি। সবুজে মোড়া ক্ষেতলালের করলা ক্ষেত এখন এক অনুপ্রেরণার গল্প। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পরিশ্রম ও সঠিক পরামর্শে এই ত্রিমাত্রিক সাফল্যের ফলেই বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবনচিত্র।