ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাকিরা-পিকের বাড়ি কিনছেন ইয়ামাল, দাম ১৫৭ কোটি পাঁচ দিনে রিজার্ভ বেড়েছে ২৭৪ মিলিয়ন ডলার কসোভোর সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, ভিডিও ভাইরাল মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে বিরোধের জেরে জামায়াতের তিন নেতা কারাগারে ৩১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি মন খুলে গান গাওয়া যায়, নাম্বার দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী সৌদিতে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

স্বর্ণের লোভে মা-মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, মূল হোতা গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গৃহবধূ জুলেখা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে (১৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূল হোতা পারভেজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে নিহত তানহার মামাতো ভাই।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আকতার হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, টাকার অভাবে মামার বাসা থেকে স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে সে তার মামি ও মামাতো বোনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পারভেজের কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা এবং লক্ষ্মীপুরে দুটি দোকানে বিক্রি করা আরো এক ভরি স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পারভেজের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘাতক পারভেজ দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে লক্ষ্মীপুরে আসে। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের চাপ ও তার ব্যাংক হিসাবে থাকা টাকা তুলতে পারছিল না। এতে সে আর্থিক অভাবে পড়ে।

ঘটনার দিন ৯ অক্টোবর বিকেলে সে বাজার থেকে একটি চাকু কিনে আমড়া ও আপেল নিয়ে তার মামার বাড়িতে যায়। পরে সে তার মামি ও মামাতো বোনকে আমড়া ও আপেল খেতে দেয়। পরে সে মীমের সঙ্গে বাসার দ্বিতীয় তলায় যায়।

সেখানে মীম তার হাতে ছুরি দেখে চিৎকার দেয়।
এদিকে ছুরির বিষয়টি মীম তার মাকে বলে দিতে পারে, এ ভয়ে সে মীমকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মামী জুলেখাকেও একইভাবে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসায় থাকা সে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পারভেজকে ঘটনার ৭ দিন পর রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে দুটি দোকানে বিক্রি করা আরো ১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এসপি বলেন, হত্যা মামলায় পারভেজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পারভেজ একাই পর্যায়ক্রমে তার মামি ও মামাতো বোনকে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর রামগঞ্জ উপজেলায় উত্তর চণ্ডীপুর গ্রামে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা ও মেয়ে কলেজছাত্রী মীমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে ঘাতক পারভেজ বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ব্যবসায়ী মিজান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাকিরা-পিকের বাড়ি কিনছেন ইয়ামাল, দাম ১৫৭ কোটি

স্বর্ণের লোভে মা-মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, মূল হোতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১০:৪৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গৃহবধূ জুলেখা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে (১৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূল হোতা পারভেজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে নিহত তানহার মামাতো ভাই।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আকতার হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, টাকার অভাবে মামার বাসা থেকে স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে সে তার মামি ও মামাতো বোনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পারভেজের কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা এবং লক্ষ্মীপুরে দুটি দোকানে বিক্রি করা আরো এক ভরি স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পারভেজের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘাতক পারভেজ দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে লক্ষ্মীপুরে আসে। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের চাপ ও তার ব্যাংক হিসাবে থাকা টাকা তুলতে পারছিল না। এতে সে আর্থিক অভাবে পড়ে।

ঘটনার দিন ৯ অক্টোবর বিকেলে সে বাজার থেকে একটি চাকু কিনে আমড়া ও আপেল নিয়ে তার মামার বাড়িতে যায়। পরে সে তার মামি ও মামাতো বোনকে আমড়া ও আপেল খেতে দেয়। পরে সে মীমের সঙ্গে বাসার দ্বিতীয় তলায় যায়।

সেখানে মীম তার হাতে ছুরি দেখে চিৎকার দেয়।
এদিকে ছুরির বিষয়টি মীম তার মাকে বলে দিতে পারে, এ ভয়ে সে মীমকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মামী জুলেখাকেও একইভাবে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসায় থাকা সে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পারভেজকে ঘটনার ৭ দিন পর রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে দুটি দোকানে বিক্রি করা আরো ১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এসপি বলেন, হত্যা মামলায় পারভেজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পারভেজ একাই পর্যায়ক্রমে তার মামি ও মামাতো বোনকে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর রামগঞ্জ উপজেলায় উত্তর চণ্ডীপুর গ্রামে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা ও মেয়ে কলেজছাত্রী মীমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে ঘাতক পারভেজ বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ব্যবসায়ী মিজান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।