ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন বৈদ্যুতিক তারে ‘বোমা’ আতঙ্ক, বক্সে বাজল শেখ মুজিবের ভাষণ! মুরাদনগরে মাদকের বিরুদ্ধে ওসির কঠোর হুঁশিয়ারি, থানায় স্থাপন অভিযোগ বাক্স সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরসহ রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার নাহিদকে ইনবক্স চেক করতে বললেন মেঘনা আলম, রহস্যটা কী? খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে বিএনপির দোয়া ও মিলাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৯৩ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ ছয় মাসে সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়েছে : রিজভী

বিদেশের স্বপ্নে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক হোতা সুজন!

প্রবাস জীবনের স্বপ্নকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার নতুন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলা জেলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা মোঃ মাকছুদ (পিতা- রুহুল আমিন, মাতা- চান মোহর) অভিযোগ করেছেন, তাকে দুবাই প্রেরণের নাম করে বাগেরহাটের মোংলার সুজন খান বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

২০২৫ সালের শুরুতে মাকছুদ এবং সুজন খানের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সুজন খান দুবাই প্রেরণের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন এবং এর বিপরীতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করবেন। চুক্তির শর্ত অনুসারে মাকছুদ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় প্রথম ধাপে ৭০ হাজার টাকা নগদে প্রদান করেন, যা স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে নেওয়া হয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও কোনো ভিসা, টিকেট কিংবা বৈধ কাগজপত্র হাতে পাননি ভুক্তভোগী। বরং বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সুজন খান নানা অজুহাতে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।

মাকছুদ বলেন, “আমি ভেবেছিলাম বৈধ পথে চাকরির সুযোগ পাবো। এজন্য কষ্ট করে ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু আজ আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”

এলাকার সচেতন মহল জানিয়েছে, বিদেশ পাঠানোর নামে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। দালাল ও প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগী চাইলে থানায় মামলা বা ভোক্তা অধিকার ও দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা রোধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন

বিদেশের স্বপ্নে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক হোতা সুজন!

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রবাস জীবনের স্বপ্নকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার নতুন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলা জেলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা মোঃ মাকছুদ (পিতা- রুহুল আমিন, মাতা- চান মোহর) অভিযোগ করেছেন, তাকে দুবাই প্রেরণের নাম করে বাগেরহাটের মোংলার সুজন খান বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

২০২৫ সালের শুরুতে মাকছুদ এবং সুজন খানের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সুজন খান দুবাই প্রেরণের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন এবং এর বিপরীতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করবেন। চুক্তির শর্ত অনুসারে মাকছুদ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় প্রথম ধাপে ৭০ হাজার টাকা নগদে প্রদান করেন, যা স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে নেওয়া হয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও কোনো ভিসা, টিকেট কিংবা বৈধ কাগজপত্র হাতে পাননি ভুক্তভোগী। বরং বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সুজন খান নানা অজুহাতে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।

মাকছুদ বলেন, “আমি ভেবেছিলাম বৈধ পথে চাকরির সুযোগ পাবো। এজন্য কষ্ট করে ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু আজ আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”

এলাকার সচেতন মহল জানিয়েছে, বিদেশ পাঠানোর নামে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। দালাল ও প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগী চাইলে থানায় মামলা বা ভোক্তা অধিকার ও দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা রোধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।