প্রবাস জীবনের স্বপ্নকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার নতুন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলা জেলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা মোঃ মাকছুদ (পিতা- রুহুল আমিন, মাতা- চান মোহর) অভিযোগ করেছেন, তাকে দুবাই প্রেরণের নাম করে বাগেরহাটের মোংলার সুজন খান বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
২০২৫ সালের শুরুতে মাকছুদ এবং সুজন খানের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সুজন খান দুবাই প্রেরণের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন এবং এর বিপরীতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করবেন। চুক্তির শর্ত অনুসারে মাকছুদ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় প্রথম ধাপে ৭০ হাজার টাকা নগদে প্রদান করেন, যা স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে নেওয়া হয়।
কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও কোনো ভিসা, টিকেট কিংবা বৈধ কাগজপত্র হাতে পাননি ভুক্তভোগী। বরং বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সুজন খান নানা অজুহাতে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।
মাকছুদ বলেন, “আমি ভেবেছিলাম বৈধ পথে চাকরির সুযোগ পাবো। এজন্য কষ্ট করে ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু আজ আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
এলাকার সচেতন মহল জানিয়েছে, বিদেশ পাঠানোর নামে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। দালাল ও প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগী চাইলে থানায় মামলা বা ভোক্তা অধিকার ও দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা রোধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন 























