ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নমানের যন্ত্রপাতি দিয়ে রামপাল সচল রাখতে প্রকৌশলীদের মরিয়া চেষ্টা ইইডির প্রকৌশলীর টেবিলে টাকার লেনদেন, ‘স্যারের কাছে ৫ লাখ টাকা রেখে যান’ ৫ ভাইয়ের দাপটে জিম্মি বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় ঘুষ-দুর্নীতি ও সরকারি গাড়ির অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচনায় ঠাকুরগাঁও এলজিইডির প্রকৌশলী মামুন সেই ফজলুল হকই এখন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ দু’নেতাকে অব্যাহতি: তৃণমূলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ লালমনিরহাটের আদিতমারীতে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির দোয়া মাহফিল কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

সাদা ঝিনুকের গালিচায় সেজেছে কুয়াকাটা সৈকত, মুগ্ধ পর্যটকরা

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতে এক বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে। ভোরের আলোয় পুরো সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র সাদা ঝিনুক, যা দেখতে এক বিশাল গালিচার মতো মনে হচ্ছে। এই অনন্য দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটার ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের বিভিন্নস্থানে অসংখ্য সামুদ্রিক ঝিনুক ও শামুক ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে সূর্যোদয় পয়েন্ট গঙ্গামতীতে যাওয়ার পথে এই দৃশ্য বেশি চোখে পড়ছে। তবে এই সৌন্দর্য দেখতে হলে ভাটার সময়ে যেতে হবে, কারণ জোয়ারের সময় পুরো সৈকত পানিতে ডুবে থাকে।

স্থানীয় জেলে সবুজ মিয়া বলেন, জোয়ারের সময় সমুদ্রের ঢেউ এসব ঝিনুক ও শামুক ভাসিয়ে তীরে নিয়ে আসে, যা ভাটার পর সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। এমন দৃশ্য সব সময় দেখা যায় না। পর্যটকরা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা শেয়ার করছেন, যা কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

সাতক্ষীরা থেকে আসা পর্যটক জহির উদ্দিন বলেন, এমন সুন্দর দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি। চারপাশে সাদা ঝিনুক দেখে মনে হচ্ছে যেন রূপকথার কোনো সমুদ্রসৈকতে এসেছি। এই সৌন্দর্য যদি স্থায়ী থাকে, তাহলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনন্দ বহুগুণ বাড়বে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুশার বলেন, এই অপরূপ দৃশ্য পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি পর্যটন প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে স্থানীয়দের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান, যাতে কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ঝিনুক কুড়িয়ে না নেয়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রশাসনের উচিত সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, এমন অপরূপ দৃশ্য অনেক বছর ধরে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “এই সৌন্দর্য রক্ষায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্প রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। সৈকতের এই সৌন্দর্য রক্ষায়ও আমাদের পুলিশ সদস্যরা কাজ করবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিম্নমানের যন্ত্রপাতি দিয়ে রামপাল সচল রাখতে প্রকৌশলীদের মরিয়া চেষ্টা

সাদা ঝিনুকের গালিচায় সেজেছে কুয়াকাটা সৈকত, মুগ্ধ পর্যটকরা

আপডেট সময় ১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতে এক বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে। ভোরের আলোয় পুরো সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র সাদা ঝিনুক, যা দেখতে এক বিশাল গালিচার মতো মনে হচ্ছে। এই অনন্য দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটার ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের বিভিন্নস্থানে অসংখ্য সামুদ্রিক ঝিনুক ও শামুক ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে সূর্যোদয় পয়েন্ট গঙ্গামতীতে যাওয়ার পথে এই দৃশ্য বেশি চোখে পড়ছে। তবে এই সৌন্দর্য দেখতে হলে ভাটার সময়ে যেতে হবে, কারণ জোয়ারের সময় পুরো সৈকত পানিতে ডুবে থাকে।

স্থানীয় জেলে সবুজ মিয়া বলেন, জোয়ারের সময় সমুদ্রের ঢেউ এসব ঝিনুক ও শামুক ভাসিয়ে তীরে নিয়ে আসে, যা ভাটার পর সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। এমন দৃশ্য সব সময় দেখা যায় না। পর্যটকরা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা শেয়ার করছেন, যা কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

সাতক্ষীরা থেকে আসা পর্যটক জহির উদ্দিন বলেন, এমন সুন্দর দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি। চারপাশে সাদা ঝিনুক দেখে মনে হচ্ছে যেন রূপকথার কোনো সমুদ্রসৈকতে এসেছি। এই সৌন্দর্য যদি স্থায়ী থাকে, তাহলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনন্দ বহুগুণ বাড়বে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুশার বলেন, এই অপরূপ দৃশ্য পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি পর্যটন প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে স্থানীয়দের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান, যাতে কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ঝিনুক কুড়িয়ে না নেয়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রশাসনের উচিত সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, এমন অপরূপ দৃশ্য অনেক বছর ধরে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “এই সৌন্দর্য রক্ষায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্প রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। সৈকতের এই সৌন্দর্য রক্ষায়ও আমাদের পুলিশ সদস্যরা কাজ করবে।