কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গোসল করা নারী পর্যটকদের গোপনে ভিডিও করছিলেন মো. রুবেল (৩০) নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাকে ধরে ট্যুরিস্ট পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
জানা গেছে, রুবেল বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান চালানোর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। সেদিন সৈকতে নারী পর্যটকরা গোসল করছিলেন। তখন রুবেল গোপনে ভিডিও করছিলেন এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলছিলেন।
স্থানীয় এক ফটোগ্রাফার কাওছার বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল ওই ব্যক্তি হয়তো নিজের পরিবারের সদস্যদের ভিডিও করছে। কিন্তু পরে দেখি সে পুরো সৈকত ঘুরে ঘুরে ভিডিও করছে। সন্দেহ হলে আমি কাছে গিয়ে দেখি, সে অশ্লীলভাবে ভিডিও করছে। তখন তাকে ধরে ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে দেই।
ডাব বিক্রেতা মেহেদী হাসান জানান, চিল্লাচিল্লি শুনে কাছে যাই। তার মোবাইল চেক করে দেখি, নারী পর্যটকদের অর্ধশতাধিক অশ্লীল ভিডিও রয়েছে। তখন তাকে মোবাইলসহ পুলিশের হাতে তুলে দিই।
এ ঘটনার পর সৈকতে উপস্থিত অনেক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে যদি নিরাপদ না থাকি, তাহলে কুয়াকাটায় আর আসা যাবে না। প্রশাসনের উচিত এমন ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও, ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসিন সাদেক বলেন, রুবেলকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয় এবং এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ধরনের অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, রায়ের পর তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কুয়াকাটায় পর্যটকদের কেউ হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি 





















