৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দুই মাস ১৬ দিন পার হলেও এখনো সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নথি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়নি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। তারা বলছেন, এ বিলম্ব অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।
এমন অবস্থায় সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিপিএসসির সামনে এক মানববন্ধনে প্রার্থীরা দ্রুত পুনঃফলাফল প্রকাশ, বিধি সংশোধনের নথি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৩ বছর ৭ মাস অপেক্ষার পর ৩০ জুন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলেও এর পরবর্তী ধাপ এখনো শুরু হয়নি, যা প্রার্থীদের জন্য চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রার্থীরা জানান, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর ইতোমধ্যে ২ মাস ১৬ দিন অতিক্রান্ত হলেও বিপিএসসি সুপারিশপ্রাপ্তদের নথি, গেজেটসহ পরবর্তী কার্যক্রম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়নি। অথচ একই সময়ে কমিশন সম্প্রতি ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ করে প্রার্থীদের সুপারিশ করেছে। তাদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন- যদি ৪৮তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্তদের নথি দ্রুত পাঠানো যায়, তবে ৪৪তম বিসিএসের নথি কেন এত দিন আটকে রাখা হলো?
প্রার্থীদের ভাষ্যমতে, ৪৪তম বিসিএসের ফলাফলে প্রায় ৩৭২ জন রিপিট ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। এর ফলে বিপিএসসি বিদ্যমান বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪ এর বিধি ১৭ সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে রিপিট ক্যাডারদের স্থলে মেধাক্রম অনুযায়ী পরবর্তী প্রার্থীদের সুপারিশ করা যায়। বিধি সংশোধনের প্রায় সব ধাপ শেষ হলেও বিপিএসসির মতামতের জন্য নথি গত কয়েক কর্মদিবস ধরে কমিশনে পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে প্রার্থীরা একাধিকবার কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন।
সালেহ আহমদ নামের এক প্রার্থী বলেন, গত ২৮ জুলাই বিপিএসসি ও ২৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি। এছাড়াও ৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরাও সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পৃথকভাবে বিপিএসসির কাছে স্মারকলিপি দেন।
এ পরিস্থিতিতে ৪৪তম বিসিএস প্রার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হচ্ছে-
১. দ্রুততম সময়ে ৪৪তম বিসিএসের পুনঃফলাফল প্রকাশ এবং এর ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
২. সচিব কমিটির সভায় অনুমোদিত বিধি সংশোধনের নথি দ্রুত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা।
৩. পুনঃফলাফলের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 























