সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও হাজতে পাঠানো হবে: আইনমন্ত্রী সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পবিপ্রবি’র হিট প্রজেক্টের দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত জন্মদিনের আনন্দের একদিন পরই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যু মাদকমুক্ত ফুলবাড়ী উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জনসচেতনামূলক শোভাযাত্রা ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেবো না : প্রধানমন্ত্রী ৪২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কঠিন বিপদে বাংলাদেশ এনবিআর কর্মকর্তা সম্পদের পাহাড় গড়ে হাজার কোটি টাকা লুট করে পালালেন শহিদুল যমুনা অয়েলে গণবদলি নিয়ে আলোচনা, তালিকায় নেই আওয়ামী পন্থী দেলোয়ার সিন্ডিকেট

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা।
রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে শুরু হয়ে সারা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রোকেয়া হল সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির পাশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভে ছাত্রদল ঢাবি শাখা ও বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা প্রতিবাদে- ‘চবিতে রক্ত ঝরে, ইন্টারিম কি করে?; আমার ভাই আহত কেন? ইন্টারিম জবাব দে; আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব দে’ সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে ছাত্রদল মনোনীত ডাকসুর এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ বলেন, গতকাল রাত থেকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হয়েছে। এসময় অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জিএস পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ৫ আগস্টের পূর্বেও আমরা হামলার শিকার হয়েছি, পরবর্তী সময়েও এসেও মার খেয়েছি। ঢাবি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই– চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা ঢাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সবসময় আছি। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, দায়িত্ব পালন করুন। যদি ব্যর্থ হন তবে তা স্বীকার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, গতকাল রাতে একজন চবি নারী শিক্ষার্থী বাসায় দেরি করে প্রবেশ করার কারণে এক দারোয়ান তার গায়ে হাত তোলে। এর প্রতিবাদ জানাতে আমার ভাই গেলে, তাদেরকে গতকাল রাত থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত হামলার শিকার হতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। চবি প্রশাসন সান্ধ্যকালীন আইন করে শিক্ষার্থীদের মব তৈরিতে উসকানি দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো রক্ত ঝরতে দেবো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্টের পর ৮ আগস্ট সর্বজনীনভাবে গৃহীত একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একটি সুন্দর পরিবেশের আশায় সেই সরকারকে বাংলাদেশের সব মানুষ সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে মবের আস্তানায়। যে প্রশাসন নিয়োগ দিয়েছে, তারাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। যদি আজকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতো, তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম তার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশ স্টেশনে মিষ্টি বিতরণ করা তার কাজ নয়, দিকনির্দেশনা দেওয়া তার কাজ। কিন্তু তিনি এসব কাজের মাধ্যমে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন।

সাহস বলেন, আজকের হামলায় আহত হওয়া সব ভাই-বোনের দায়ভার অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে। তারা যদি আন্তরিকভাবে আমাদের ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতো, তাহলে স্থানীয়রা এই সাহস পেত না। অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় খুব শিগগিরই আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও হাজতে পাঠানো হবে: আইনমন্ত্রী

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা।
রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে শুরু হয়ে সারা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রোকেয়া হল সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির পাশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভে ছাত্রদল ঢাবি শাখা ও বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা প্রতিবাদে- ‘চবিতে রক্ত ঝরে, ইন্টারিম কি করে?; আমার ভাই আহত কেন? ইন্টারিম জবাব দে; আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব দে’ সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে ছাত্রদল মনোনীত ডাকসুর এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ বলেন, গতকাল রাত থেকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হয়েছে। এসময় অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জিএস পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ৫ আগস্টের পূর্বেও আমরা হামলার শিকার হয়েছি, পরবর্তী সময়েও এসেও মার খেয়েছি। ঢাবি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই– চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা ঢাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সবসময় আছি। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, দায়িত্ব পালন করুন। যদি ব্যর্থ হন তবে তা স্বীকার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, গতকাল রাতে একজন চবি নারী শিক্ষার্থী বাসায় দেরি করে প্রবেশ করার কারণে এক দারোয়ান তার গায়ে হাত তোলে। এর প্রতিবাদ জানাতে আমার ভাই গেলে, তাদেরকে গতকাল রাত থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত হামলার শিকার হতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। চবি প্রশাসন সান্ধ্যকালীন আইন করে শিক্ষার্থীদের মব তৈরিতে উসকানি দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো রক্ত ঝরতে দেবো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্টের পর ৮ আগস্ট সর্বজনীনভাবে গৃহীত একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একটি সুন্দর পরিবেশের আশায় সেই সরকারকে বাংলাদেশের সব মানুষ সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে মবের আস্তানায়। যে প্রশাসন নিয়োগ দিয়েছে, তারাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। যদি আজকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতো, তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম তার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশ স্টেশনে মিষ্টি বিতরণ করা তার কাজ নয়, দিকনির্দেশনা দেওয়া তার কাজ। কিন্তু তিনি এসব কাজের মাধ্যমে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন।

সাহস বলেন, আজকের হামলায় আহত হওয়া সব ভাই-বোনের দায়ভার অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে। তারা যদি আন্তরিকভাবে আমাদের ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতো, তাহলে স্থানীয়রা এই সাহস পেত না। অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় খুব শিগগিরই আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।