সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস দাদির ভিডিও বার্তা দেখে কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে জসীমউদ্দীন বাবুলের পথচলায় দোয়া ও সমর্থন–জনগণের সেবায় সফলতা কামনা লক্ষ্মীপুরের সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ: শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ ভোলাহাটে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ২০২৬ শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত!  নবাগত শিশুকে স্বাগত জানিয়ে গাছ লাগাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কাশবন থেকে ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ভোলাহাটে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে “সখিনা-কলিম” মেধা প্রণোদনা বৃত্তি প্রকল্প বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত ভোলাহাটে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ উদ্বোধন!

চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি সিম্পসন

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬০৯ বার পড়া হয়েছে

পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক টেস্ট অধিনায়ক এবং প্রথম পূর্ণকালীন কোচ বব সিম্পসন। ৮৯ বছর বয়সে সিডনিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অসি ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি।

সিম্পসন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে অসিদের হয়ে ৬২টি টেস্ট খেলেছেন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। ব্যাটিং গড় ৪৬.৮১ এবং বল হাতে নিয়েছেন ৭১ উইকেট। সময়ের অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডার হিসেবেও তার হাঁকডাক ছিল।
১৬ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সিম্পসনের। ঘরোয়া এই ক্রিকেটে ব্যাট হাতে করেন ২১,০২৯ রান করেন এবং লেগ-স্পিন গুগলিতে নেন ৩৪৯টি উইকেট।

অধিনায়ক হিসেবে ২৯টি টেস্ট খেলে ১৯৬৮ সালে প্রথমবার অবসর নেন সিম্পসন। তবে ১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সংকটময় অবস্থায় আবারও মাঠে ফেরেন। ৪১ বছর বয়সে ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি এবং পূর্ণ শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্টে নেতৃত্ব দেন তিনি।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০টি সেঞ্চুরি করেন সিম্পসন, সবগুলোই অধিনায়ক থাকাকালে। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালে ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১১ রান ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম শতক, যা আসে ৩০তম টেস্টে। এছাড়া তিনি দুটি ডাবল সেঞ্চুরিও করেন। অধিনায়ক হিসেবে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫৪.০৭। অথচ অধিনায়কত্বের আগে তার গড় ছিল মাত্র ৩৩.৬৭; কোনো শতকও ছিল না।

বিল লরির সঙ্গে মিলে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সফল ওপেনিং জুটি গড়ে তুলেছিলেন সিম্পসন। ১৯৬৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের ৩৮২ রানের উদ্বোধনী জুটি আজও অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড।

সিম্পসনের অধীনে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ জেতে এবং ১৯৮৯ সালে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করে, যা ২০০৫ পর্যন্ত ধরে রাখে অসিরা।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড বলেন, ‘বব সিম্পসন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মহীরূহ। ১৯৭৭ সালে অবসর ভেঙে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যে সেবা করেছিলেন তিনি, তা ছিল অসাধারণ। তার কোচিং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সোনালী যুগের ভিত্তি গড়ে তোলে।’

শেন ওয়ার্নসহ অনেক খেলোয়াড় তাকে সর্বকালের সেরা কোচ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ওয়ার্ন স্বীকার করেছেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন সিম্পসন।

৭০ বছর বয়স পর্যন্ত কোচিং চালিয়ে যান সিম্পসন। নেদারল্যান্ডসকে ২০০৭ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানোর কৃতিত্বও তার। ১৯৭৮ সালে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়ার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৭ সালে তাকে অফিসার (এও) পদে উন্নীত করা হয়।
১৯৬৫ সালে উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন সিম্পসন এবং আইসিসি হল অব ফেম ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অব ফেমের সদস্য হন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস

চলে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি সিম্পসন

আপডেট সময় ১১:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক টেস্ট অধিনায়ক এবং প্রথম পূর্ণকালীন কোচ বব সিম্পসন। ৮৯ বছর বয়সে সিডনিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অসি ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি।

সিম্পসন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে অসিদের হয়ে ৬২টি টেস্ট খেলেছেন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। ব্যাটিং গড় ৪৬.৮১ এবং বল হাতে নিয়েছেন ৭১ উইকেট। সময়ের অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডার হিসেবেও তার হাঁকডাক ছিল।
১৬ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সিম্পসনের। ঘরোয়া এই ক্রিকেটে ব্যাট হাতে করেন ২১,০২৯ রান করেন এবং লেগ-স্পিন গুগলিতে নেন ৩৪৯টি উইকেট।

অধিনায়ক হিসেবে ২৯টি টেস্ট খেলে ১৯৬৮ সালে প্রথমবার অবসর নেন সিম্পসন। তবে ১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সংকটময় অবস্থায় আবারও মাঠে ফেরেন। ৪১ বছর বয়সে ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি এবং পূর্ণ শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্টে নেতৃত্ব দেন তিনি।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০টি সেঞ্চুরি করেন সিম্পসন, সবগুলোই অধিনায়ক থাকাকালে। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালে ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১১ রান ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম শতক, যা আসে ৩০তম টেস্টে। এছাড়া তিনি দুটি ডাবল সেঞ্চুরিও করেন। অধিনায়ক হিসেবে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫৪.০৭। অথচ অধিনায়কত্বের আগে তার গড় ছিল মাত্র ৩৩.৬৭; কোনো শতকও ছিল না।

বিল লরির সঙ্গে মিলে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সফল ওপেনিং জুটি গড়ে তুলেছিলেন সিম্পসন। ১৯৬৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের ৩৮২ রানের উদ্বোধনী জুটি আজও অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড।

সিম্পসনের অধীনে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ জেতে এবং ১৯৮৯ সালে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করে, যা ২০০৫ পর্যন্ত ধরে রাখে অসিরা।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড বলেন, ‘বব সিম্পসন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মহীরূহ। ১৯৭৭ সালে অবসর ভেঙে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যে সেবা করেছিলেন তিনি, তা ছিল অসাধারণ। তার কোচিং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সোনালী যুগের ভিত্তি গড়ে তোলে।’

শেন ওয়ার্নসহ অনেক খেলোয়াড় তাকে সর্বকালের সেরা কোচ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ওয়ার্ন স্বীকার করেছেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন সিম্পসন।

৭০ বছর বয়স পর্যন্ত কোচিং চালিয়ে যান সিম্পসন। নেদারল্যান্ডসকে ২০০৭ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানোর কৃতিত্বও তার। ১৯৭৮ সালে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়ার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৭ সালে তাকে অফিসার (এও) পদে উন্নীত করা হয়।
১৯৬৫ সালে উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন সিম্পসন এবং আইসিসি হল অব ফেম ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অব ফেমের সদস্য হন।