ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনা গণপূর্তে রাশেদ কবীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ পিডিবিএফে মাহমুদ হাসানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের ছড়াছড়ি, হাজার কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ ৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম

বহিষ্কৃতদের মঞ্চে বসিয়ে যুব সমাবেশ, মিরসরাই বিএনপিতে সমালোচনা

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত সৃষ্টির অভিযোগে সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ পাঁচ নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু বহিষ্কারাদেশের পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই নেতাদের প্রকাশ্যে অতিথি করে যুব সমাবেশ আয়োজন করায় মিরসরাই বিএনপিতে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল একে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিকেলে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ র‌্যালি বের করে উপজেলা বিএনপির একাংশ। মিরসরাই থানা, জোরারগঞ্জ থানা, মিরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা যুবদলের উদ্যোগে বড়তাকিয়া বাজার থেকে শুরু হয়ে র‌্যালি উপজেলা সদরে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন রানা এবং সঞ্চালনা করেন এস এম সুমন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন। এছাড়া বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ও জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন স্তরের শত শত নেতা-কর্মী সমাবেশে যোগ দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহিষ্কৃত নেতাদের প্রকাশ্যে মঞ্চে বসানো শুধু দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নই তোলে না, বরং কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে বিভাজনও আরও গভীর করতে পারে।
এর আগে গত ২৯ জুলাই কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের ভেতরে সংঘাত ও হানাহানি সৃষ্টি করে দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, গাজী নিজাম উদ্দিন, দিদারুল আলম মিয়াজী, সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আউয়াল বলেন, “আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় যুব সমাবেশের বিষয়ে অবগত নই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে হাইকমান্ডকে অবশ্যই জানানো হবে।”
উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, “বহিষ্কৃত নেতাদের নিয়ে যুব সমাবেশ করার সুযোগ নেই। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা যাবে না। এমন ঘটনা ঘটলে হাইকমান্ডকে জানানো হবে।”
অন্যদিকে যুব সমাবেশে অংশ নেওয়া মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “আমরা জুলাই-আগস্টের প্রোগ্রাম করেছি। বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। বহিষ্কৃত হলেও তারা বিএনপি করতে পারেন, নিষেধ নেই। এটি কোনো দলীয় ব্যানারের প্রোগ্রাম ছিল না।” তবে একাধিক সূত্রে দেখা গেছে, সমাবেশটি মিরসরাই থানা, জোরারগঞ্জ থানা, মিরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা যুবদলের উদ্যোগেই হয়েছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনা গণপূর্তে রাশেদ কবীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

বহিষ্কৃতদের মঞ্চে বসিয়ে যুব সমাবেশ, মিরসরাই বিএনপিতে সমালোচনা

আপডেট সময় ০১:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত সৃষ্টির অভিযোগে সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ পাঁচ নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু বহিষ্কারাদেশের পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই নেতাদের প্রকাশ্যে অতিথি করে যুব সমাবেশ আয়োজন করায় মিরসরাই বিএনপিতে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল একে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিকেলে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ র‌্যালি বের করে উপজেলা বিএনপির একাংশ। মিরসরাই থানা, জোরারগঞ্জ থানা, মিরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা যুবদলের উদ্যোগে বড়তাকিয়া বাজার থেকে শুরু হয়ে র‌্যালি উপজেলা সদরে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন রানা এবং সঞ্চালনা করেন এস এম সুমন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন। এছাড়া বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ও জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন স্তরের শত শত নেতা-কর্মী সমাবেশে যোগ দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহিষ্কৃত নেতাদের প্রকাশ্যে মঞ্চে বসানো শুধু দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নই তোলে না, বরং কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে বিভাজনও আরও গভীর করতে পারে।
এর আগে গত ২৯ জুলাই কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের ভেতরে সংঘাত ও হানাহানি সৃষ্টি করে দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, গাজী নিজাম উদ্দিন, দিদারুল আলম মিয়াজী, সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আউয়াল বলেন, “আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় যুব সমাবেশের বিষয়ে অবগত নই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে হাইকমান্ডকে অবশ্যই জানানো হবে।”
উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, “বহিষ্কৃত নেতাদের নিয়ে যুব সমাবেশ করার সুযোগ নেই। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা যাবে না। এমন ঘটনা ঘটলে হাইকমান্ডকে জানানো হবে।”
অন্যদিকে যুব সমাবেশে অংশ নেওয়া মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “আমরা জুলাই-আগস্টের প্রোগ্রাম করেছি। বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। বহিষ্কৃত হলেও তারা বিএনপি করতে পারেন, নিষেধ নেই। এটি কোনো দলীয় ব্যানারের প্রোগ্রাম ছিল না।” তবে একাধিক সূত্রে দেখা গেছে, সমাবেশটি মিরসরাই থানা, জোরারগঞ্জ থানা, মিরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা যুবদলের উদ্যোগেই হয়েছে।