ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পবিপ্রবিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি পাওয়ায় প্রফেসর মো. শাহাদাত হোসেনকে সংবর্ধনা সিএফও তাপস পালের বিরুদ্ধে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রাকাবের এমডি নিয়োগে উঠছে যোগ্যতার প্রশ্ন বদলে গেলেন বিআইডব্লিউটিএর আরিফ উদ্দিন ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিলে ককটেল নিক্ষেপ চট্টগ্রাম গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-২-এর প্রকৌশলী মহিবুলকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ পীরগাছা সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দম্ভ ও হয়রানির অভিযোগ প্রকৌশলী আনিছুর রহমানকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ৮৮৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে বড় প্যাকেজ, সীমিত দরদাতায় সিন্ডিকেটের শঙ্কা

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে নজির গড়লেন তারাগঞ্জের ইউএনও

সারাদেশের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে নজির গড়েছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।সারাদেশে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের জাতীয় মূল্যায়নে উপজেলাটি দ্বিতীয় এবং রংপুর বিভাগের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।সদ্য সমাপ্ত এক বছরের মূল্যায়নে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুবেল রানা দেশ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩৩ শতাংশ কাজ করে সারাদেশে দ্বিতীয় এবং রংপুর বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। যাহা রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়(জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন)শাখা এবং বিভাগীয় কশিমনারের কার্যালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তথ্য সুত্রে জানা যায় যে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কাজের মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়।মুলত ১২ মাসের লক্ষ্যমাত্রায় ১৩৩ দশমিক ৪০ শতাংশ কাজ করে সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান পায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা।আর ১৩৫ দশমিক ২২ শতাংশ কাজ করে প্রথম চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলা।

উক্ত সাফল্যটি শুধু পরিসংখ্যানগত অর্জন নয় বরং এটি তারাগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা,সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফসল। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,সদস্য, সচিব, গ্রাম পুলিশ, তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা এবং ইউনিয়নের সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলাফল।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব সম্পর্কে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় বলেন, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে এই নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এটি স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট করা, জমি নিবন্ধনে ও বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণেও অপরিহার্য ভুমিকা রাখে।

বিভিন্ন ইউনিয়নের উদ্যোক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সেবা পাচ্ছে। আমরা সবাই নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেয়ে কার্যক্রমকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে পারছি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে এবং মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে আগের তুলনায় বেড়েছে।ইহার লক্ষ্যে ইউনিয়নগুলোতে গণসচেতনতা কার্যক্রম,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রচার, গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

একসময় তারাগঞ্জের বেশ কিছু ইউনিয়নে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ছিল একটি অনিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে গত এক বছর ধরে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ ও কঠোর তদারকি, নিয়মিত মনিটরিং এবং পুরস্কারপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রতিযোগিতার মনোভাব বেড়েছে ইউনিয়নগুলোর মধ্যে।তারই ফলেই আজকের এই জাতীয় স্বীকৃতি।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল রানা বলেন, এই সাফল্য কেবল প্রশাসনের নয়-এটি তারাগঞ্জবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমি প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদ, উদ্যোক্তা, গ্রাম পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ সাফল্যের ধারা যেন সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিপ্রবিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে নজির গড়লেন তারাগঞ্জের ইউএনও

আপডেট সময় ০৫:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

সারাদেশের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে নজির গড়েছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।সারাদেশে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের জাতীয় মূল্যায়নে উপজেলাটি দ্বিতীয় এবং রংপুর বিভাগের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।সদ্য সমাপ্ত এক বছরের মূল্যায়নে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুবেল রানা দেশ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩৩ শতাংশ কাজ করে সারাদেশে দ্বিতীয় এবং রংপুর বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। যাহা রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়(জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন)শাখা এবং বিভাগীয় কশিমনারের কার্যালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তথ্য সুত্রে জানা যায় যে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কাজের মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়।মুলত ১২ মাসের লক্ষ্যমাত্রায় ১৩৩ দশমিক ৪০ শতাংশ কাজ করে সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান পায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা।আর ১৩৫ দশমিক ২২ শতাংশ কাজ করে প্রথম চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলা।

উক্ত সাফল্যটি শুধু পরিসংখ্যানগত অর্জন নয় বরং এটি তারাগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা,সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফসল। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,সদস্য, সচিব, গ্রাম পুলিশ, তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা এবং ইউনিয়নের সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলাফল।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব সম্পর্কে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় বলেন, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে এই নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এটি স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট করা, জমি নিবন্ধনে ও বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণেও অপরিহার্য ভুমিকা রাখে।

বিভিন্ন ইউনিয়নের উদ্যোক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সেবা পাচ্ছে। আমরা সবাই নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেয়ে কার্যক্রমকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে পারছি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে এবং মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে আগের তুলনায় বেড়েছে।ইহার লক্ষ্যে ইউনিয়নগুলোতে গণসচেতনতা কার্যক্রম,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রচার, গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

একসময় তারাগঞ্জের বেশ কিছু ইউনিয়নে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ছিল একটি অনিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে গত এক বছর ধরে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ ও কঠোর তদারকি, নিয়মিত মনিটরিং এবং পুরস্কারপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রতিযোগিতার মনোভাব বেড়েছে ইউনিয়নগুলোর মধ্যে।তারই ফলেই আজকের এই জাতীয় স্বীকৃতি।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল রানা বলেন, এই সাফল্য কেবল প্রশাসনের নয়-এটি তারাগঞ্জবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমি প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদ, উদ্যোক্তা, গ্রাম পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ সাফল্যের ধারা যেন সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকে।