ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিজি রেজওয়ানুর রহমানের বিরুদ্ধে লুটপাট-অনিয়মের অভিযোগ জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েও বহাল কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাাইর বিআরটিসির অকেজো বাস মেরামতে ‘অলৌকিক’ ব্যয়, ৩.৮৫ লাখ থেকে বেড়ে ৩২ লাখ! একটি ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ গড়ছে সরকার : রিজভী চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর দপ্তর কমপ্লেক্স স্থাপনে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের ফায়ার সার্ভিসের ফাইটারদের পদোন্নতির জট খুলছে: ১২তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ চিলমারী নৌ-বন্দরে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ সফটওয়্যার বদলের আড়ালে রংপুর সিটি করপোরেশনে ৫০ কোটি টাকা লুট ৪ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি, ভূমিধসের আশঙ্কা সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৬ দিন ধরে বন্ধ, পরিচালক বললেন ‘ড. ইউনূসের দোষ’

৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এস আলমের স্ত্রীসহ ৩০ জনের নামে মামলা

ইসলামী ব্যাংকের ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
মামলায় ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনিরুল মওলাকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এস আলম, ইসলামী ব্যাংক ও নাবিল গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারাও আসামি হয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় না করে মোট ৯৫০ কোটি টাকার ভুয়া ডিল সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র তৈরি করেন। আসামিরা তা ব্যবহার করেন, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক অসদাচরণসহ নানান ব্যাংকিং অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বাই-মুরাবাহা টিআর বিনিয়োগ প্রস্তাবনা, সুপারিশ, অনুমোদন, বিতরণ ও উত্তোলন করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
এস আলম ও নাবিল গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের সাপ্লায়ার ও বেনফিশিয়ারি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া ঋণ সৃজন করা হয় বলে এজাহারে বলা হয়।

অর্থের উৎস ও প্রকৃতি গোপন করার জন্য স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি (১৮৬০) এর ৪০৯/ ৪২০/ ৪৬৭/ ৪৬৮/ ৪৭১/ ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৪) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই বিনিয়োগ ঋণটি মন্দ ঋণ হিসেবে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় শ্রেণিকৃত করা হয়েছে।

মামলায় নাবিল গ্রুপের আসামিরা হলেন- নাবিল গ্রুপের চেয়ারম্যানের আত্মীয় ও মার্কেট মাস্টার অ্যানালাইজারের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম, এমডি মো. শাহ আলম, নাবিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শিমুল এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মো. আমিনুল ইসলাম ও নাবিল ট্রেডিংয়ের কর্ণধার ইসরাত জাহান।
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনিরুল মওলাসহ প্রতিষ্ঠানটির আরও যারা আসামি হয়েছেন তারা হলেন- ব্যাংকটির ইভিপি মো. মোজাহিদুল ইসলাম, এভিপি মোহাম্মদ কাইয়ুম শিকদার, মো. কামরুজ্জামান, মো. জহিরুল হক, এফএভিপি মো. আব্দুল কাইয়ুম, মো. আলমগীর হোসেন, ডিএমডি মাহমুদুর রহমান, সাবেক এসভিপি মো. নাজমুল হূদা সিরাজী, ভিপি মো. মমতাজউদ্দিন চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) মিফতাহ উদ্দিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান, এসইভিপি মোহাম্মদ শাব্বির ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

এছাড়া তৎকালীন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সেলিম উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ (প্রতিনিধি এক্সিলেসর ইমপেক্স কোম্পানি লিমিটেড), ড. তানভীর আহম্মদ (প্রতিনিধি প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড), মো. কামরুল হাসান (প্রতিনিধি গ্রান্ড বিজনেস লিমিটেড), প্রফেসর ড. মোহা. ফসিউল আলম ও জেকিউএম হাবিবুল্লাহ।

এস আলমের যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- এস আলম ভেজিটেবল অয়েলের এমডি মো. শহিদুল ইসলাম ও মিশকাত আহমেদ। আলম সুপার এডিবল অয়েলের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদের স্ত্রী শাহানা ফেরদৌস ও এস আলমের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের স্ত্রী ফারজানা পারভীন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজি রেজওয়ানুর রহমানের বিরুদ্ধে লুটপাট-অনিয়মের অভিযোগ

৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এস আলমের স্ত্রীসহ ৩০ জনের নামে মামলা

আপডেট সময় ০৫:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

ইসলামী ব্যাংকের ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
মামলায় ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনিরুল মওলাকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এস আলম, ইসলামী ব্যাংক ও নাবিল গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারাও আসামি হয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় না করে মোট ৯৫০ কোটি টাকার ভুয়া ডিল সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র তৈরি করেন। আসামিরা তা ব্যবহার করেন, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক অসদাচরণসহ নানান ব্যাংকিং অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বাই-মুরাবাহা টিআর বিনিয়োগ প্রস্তাবনা, সুপারিশ, অনুমোদন, বিতরণ ও উত্তোলন করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
এস আলম ও নাবিল গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের সাপ্লায়ার ও বেনফিশিয়ারি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া ঋণ সৃজন করা হয় বলে এজাহারে বলা হয়।

অর্থের উৎস ও প্রকৃতি গোপন করার জন্য স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি (১৮৬০) এর ৪০৯/ ৪২০/ ৪৬৭/ ৪৬৮/ ৪৭১/ ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৪) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই বিনিয়োগ ঋণটি মন্দ ঋণ হিসেবে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় শ্রেণিকৃত করা হয়েছে।

মামলায় নাবিল গ্রুপের আসামিরা হলেন- নাবিল গ্রুপের চেয়ারম্যানের আত্মীয় ও মার্কেট মাস্টার অ্যানালাইজারের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম, এমডি মো. শাহ আলম, নাবিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শিমুল এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মো. আমিনুল ইসলাম ও নাবিল ট্রেডিংয়ের কর্ণধার ইসরাত জাহান।
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনিরুল মওলাসহ প্রতিষ্ঠানটির আরও যারা আসামি হয়েছেন তারা হলেন- ব্যাংকটির ইভিপি মো. মোজাহিদুল ইসলাম, এভিপি মোহাম্মদ কাইয়ুম শিকদার, মো. কামরুজ্জামান, মো. জহিরুল হক, এফএভিপি মো. আব্দুল কাইয়ুম, মো. আলমগীর হোসেন, ডিএমডি মাহমুদুর রহমান, সাবেক এসভিপি মো. নাজমুল হূদা সিরাজী, ভিপি মো. মমতাজউদ্দিন চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) মিফতাহ উদ্দিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান, এসইভিপি মোহাম্মদ শাব্বির ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

এছাড়া তৎকালীন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সেলিম উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ (প্রতিনিধি এক্সিলেসর ইমপেক্স কোম্পানি লিমিটেড), ড. তানভীর আহম্মদ (প্রতিনিধি প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড), মো. কামরুল হাসান (প্রতিনিধি গ্রান্ড বিজনেস লিমিটেড), প্রফেসর ড. মোহা. ফসিউল আলম ও জেকিউএম হাবিবুল্লাহ।

এস আলমের যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- এস আলম ভেজিটেবল অয়েলের এমডি মো. শহিদুল ইসলাম ও মিশকাত আহমেদ। আলম সুপার এডিবল অয়েলের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদের স্ত্রী শাহানা ফেরদৌস ও এস আলমের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের স্ত্রী ফারজানা পারভীন।