সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মনিরের বিশাল সাম্রাজ্য

নিজের দুর্নীতি ঢাকতে জোরপুর্বক টাকা দিয়ে সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ করেন, ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মনির হোসেন।
বেতন মাত্র ৩০ হাজার টাকার কম হলেও গড়ে তুলেছেন রাজধানীর বহুতল ভবনে সাতটি ফ্ল্যাট, ২০ কাঠার অধিক জমিসহ ২০ টি দোকানের মার্কেট। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এসব সম্পদ শুধু নিজের নয় স্ত্রী, শ্যালক ও ভায়রাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোঁয়ায় এত সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। একজন সার্ভেয়ার জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪ তম গ্রেডের কর্মচারী। যার বেতন সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। যদি ২০ বছর চাকরি করেন তারপরও বেতন-বোনাস মিলিয়ে ৭০ লাখও হবে না। তবে এত সম্পদ কীভাবে হল তার?

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিসে কর্মরত সার্ভেয়ার মনির হোসেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৃষ্ণপুরে। আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের এল এ শাখায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে স্ট্যান্ রিলিজ করে ময়মনসিংহ জেলায়। কিন্তু অবৈধ অর্থ ও ক্ষমতার জোরে আবারও ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন তিনি। পরেই অনিয়ম দুর্নীতিতে মেতে ওঠেন আবারো।

দুর্নীতির শীর্ষে থাকা সার্ভেয়ার মনিরের মুখোমুখি হতে নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে যায় আমাদের মাতৃভূমি। এসময় তার সাথে কথা বলতে অপেক্ষা করতে হয় বেশ কিছুক্ষণ। একপর্যায়ে দেখা মিললেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি ভিডিও করতেও বাঁধা দেন তিনি।

ক্যামেরা বাহিরে রেখেই কথা হয় মনিরের সঙ্গে। রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকায় রোজ গার্ডেন ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট। ড্যামরার হাজি মিয়া রোডে গ্রিন কটেজ-১ ও গ্রিন কটেজ ২-এ তিনটি ফ্ল্যাট, একই এলাকায় দেড় কোটি টাকা মুল্যের পাঁচ কাঠায় প্লট, সাত কাঠা জমিতে নির্মিত ২০টি দোকান এবং একই এলাকায় গ্রিন কটেজ-৪ ভবনে একাধিক ফ্লাটের প্রশ্ন করতেই এ সবকিছুই অস্বীকার করেন তিনি।

এসময় নিজের দুর্নীতি ঢাকতে, এভাবেই জোরপূর্বক টাকা দিয়ে সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ করেন মনির হোসেন।

ক্যামেরার সামনে অনেকে কথা বলতে রাজি না হলেও ক্যামেরার পেছনে কথা বলছেন মন খুলে।

২০২৩ সালের ১৫ মে দুদকের মুখোমুখি হয়েছিলেন সার্ভেয়ার মনির। এর পর সোচ্চার হয়ে, রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকে নিজের নামের সম্পদ গুলো আত্মীয়দের নামে রেখেছেন তিনি। সেই সঙ্গে নিজের জমিতেও প্রভাবশালীর নামে লাগিয়েছেন সাইনবোর্ড ।

একপর্যায়ে, ড্যামরা থানা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া সালাউদ্দিন সুমন ফোন দিয়ে, নিউজটি না করার অনুরোধ করেন এবং বসেই সব সমস্যার সমাধানের কথা জানান তিনি।

দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন সার্ভেয়ার মনির। তবুও চাকরিতে এখনো সক্রিয় রয়েছেন তিনি। তবে তার এই সম্পদের দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনেকে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মনিরের বিশাল সাম্রাজ্য

আপডেট সময় ০৬:২৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

নিজের দুর্নীতি ঢাকতে জোরপুর্বক টাকা দিয়ে সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ করেন, ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মনির হোসেন।
বেতন মাত্র ৩০ হাজার টাকার কম হলেও গড়ে তুলেছেন রাজধানীর বহুতল ভবনে সাতটি ফ্ল্যাট, ২০ কাঠার অধিক জমিসহ ২০ টি দোকানের মার্কেট। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এসব সম্পদ শুধু নিজের নয় স্ত্রী, শ্যালক ও ভায়রাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোঁয়ায় এত সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। একজন সার্ভেয়ার জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪ তম গ্রেডের কর্মচারী। যার বেতন সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। যদি ২০ বছর চাকরি করেন তারপরও বেতন-বোনাস মিলিয়ে ৭০ লাখও হবে না। তবে এত সম্পদ কীভাবে হল তার?

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিসে কর্মরত সার্ভেয়ার মনির হোসেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৃষ্ণপুরে। আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের এল এ শাখায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে স্ট্যান্ রিলিজ করে ময়মনসিংহ জেলায়। কিন্তু অবৈধ অর্থ ও ক্ষমতার জোরে আবারও ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন তিনি। পরেই অনিয়ম দুর্নীতিতে মেতে ওঠেন আবারো।

দুর্নীতির শীর্ষে থাকা সার্ভেয়ার মনিরের মুখোমুখি হতে নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে যায় আমাদের মাতৃভূমি। এসময় তার সাথে কথা বলতে অপেক্ষা করতে হয় বেশ কিছুক্ষণ। একপর্যায়ে দেখা মিললেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি ভিডিও করতেও বাঁধা দেন তিনি।

ক্যামেরা বাহিরে রেখেই কথা হয় মনিরের সঙ্গে। রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকায় রোজ গার্ডেন ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট। ড্যামরার হাজি মিয়া রোডে গ্রিন কটেজ-১ ও গ্রিন কটেজ ২-এ তিনটি ফ্ল্যাট, একই এলাকায় দেড় কোটি টাকা মুল্যের পাঁচ কাঠায় প্লট, সাত কাঠা জমিতে নির্মিত ২০টি দোকান এবং একই এলাকায় গ্রিন কটেজ-৪ ভবনে একাধিক ফ্লাটের প্রশ্ন করতেই এ সবকিছুই অস্বীকার করেন তিনি।

এসময় নিজের দুর্নীতি ঢাকতে, এভাবেই জোরপূর্বক টাকা দিয়ে সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ করেন মনির হোসেন।

ক্যামেরার সামনে অনেকে কথা বলতে রাজি না হলেও ক্যামেরার পেছনে কথা বলছেন মন খুলে।

২০২৩ সালের ১৫ মে দুদকের মুখোমুখি হয়েছিলেন সার্ভেয়ার মনির। এর পর সোচ্চার হয়ে, রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকে নিজের নামের সম্পদ গুলো আত্মীয়দের নামে রেখেছেন তিনি। সেই সঙ্গে নিজের জমিতেও প্রভাবশালীর নামে লাগিয়েছেন সাইনবোর্ড ।

একপর্যায়ে, ড্যামরা থানা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া সালাউদ্দিন সুমন ফোন দিয়ে, নিউজটি না করার অনুরোধ করেন এবং বসেই সব সমস্যার সমাধানের কথা জানান তিনি।

দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন সার্ভেয়ার মনির। তবুও চাকরিতে এখনো সক্রিয় রয়েছেন তিনি। তবে তার এই সম্পদের দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনেকে।