সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

গাংনীতে ওয়াক ওয়ে নির্মাণে শতভাগ অর্থ লুট

সরকারি প্রকল্পের নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনীতে। ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৫ টাকা ৬৫ পয়সার ওয়াক ওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে একটি ইটও বসানো হয়নি, অথচ পুরো অর্থ গায়েব! অভিযোগের তীর গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর রহমানের দিকে।

সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টি.আর) আওতায় গাংনী উপজেলা চত্বরে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার সুবিধার্থে একটি ওয়াক ওয়ে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় সরকারি কর্মকর্তা শামীম রেজাকে—যিনি নিজেই প্রকৌশলী, আবার প্রকল্প সভাপতি! অথচ সরকারি বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো চাকরিজীবী কর্মকর্তা প্রকল্প সভাপতি হতে পারেন না। এরপরও বরাদ্দের পুরো টাকা তুলে নেন তিনি, মাঠে কাজের চিহ্নমাত্র নেই।

নিয়ম ভেঙে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু দুর্নীতি না, এটি একটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটের ঘটনা।

প্রকৌশলী শামীম রেজা বলেন, প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছি, দ্রুত কাজ শুরু করবো। আমি জোর করে সভাপতি হয়েছি, আমাকে মনসুর রহমান বানিয়েছেন। তবে তাঁর এ বক্তব্য দায় এড়ানোর চেষ্টার মতো বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর রহমান ফোনে বলেন, কাজ কোথায় হচ্ছে তা আমি জানি না, অফিসে এসে সহকারী হাবিবের ফাইল দেখে বলতে পারবো। তাঁর এ ধরনের বক্তব্য প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বহীনতার নগ্ন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাংনী নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

গাংনীতে ওয়াক ওয়ে নির্মাণে শতভাগ অর্থ লুট

আপডেট সময় ০৪:০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

সরকারি প্রকল্পের নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনীতে। ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৫ টাকা ৬৫ পয়সার ওয়াক ওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে একটি ইটও বসানো হয়নি, অথচ পুরো অর্থ গায়েব! অভিযোগের তীর গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর রহমানের দিকে।

সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টি.আর) আওতায় গাংনী উপজেলা চত্বরে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার সুবিধার্থে একটি ওয়াক ওয়ে নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় সরকারি কর্মকর্তা শামীম রেজাকে—যিনি নিজেই প্রকৌশলী, আবার প্রকল্প সভাপতি! অথচ সরকারি বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো চাকরিজীবী কর্মকর্তা প্রকল্প সভাপতি হতে পারেন না। এরপরও বরাদ্দের পুরো টাকা তুলে নেন তিনি, মাঠে কাজের চিহ্নমাত্র নেই।

নিয়ম ভেঙে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু দুর্নীতি না, এটি একটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটের ঘটনা।

প্রকৌশলী শামীম রেজা বলেন, প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছি, দ্রুত কাজ শুরু করবো। আমি জোর করে সভাপতি হয়েছি, আমাকে মনসুর রহমান বানিয়েছেন। তবে তাঁর এ বক্তব্য দায় এড়ানোর চেষ্টার মতো বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর রহমান ফোনে বলেন, কাজ কোথায় হচ্ছে তা আমি জানি না, অফিসে এসে সহকারী হাবিবের ফাইল দেখে বলতে পারবো। তাঁর এ ধরনের বক্তব্য প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বহীনতার নগ্ন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাংনী নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।