ভোটের হাওয়া বইছে দেশের সর্বত্রই। কতিপয় রাজনৈতিক দল প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। কাপাসিয়ার রাজনীতির মাঠে এখন বিএনপি আর জামায়াত বেশ সক্রিয়। দল দুটি সংগঠনকে গোছানোর পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠও গোছাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী আসনেও বেশ সক্রিয়। সুযোগ পেলেই জনসংযোগের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে।
গাজীপুর ৪ আসন, ঢাকার খুব কাছে গাজীপুরের এই আসন রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৬৫ কি.মি. উত্তর-পূর্বে ঐতিহ্যবাহী শীতলক্ষ্যা নদীর দুই তীরে ১১টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ৯৯টি ওয়ার্ড নিয়ে শালবনে ঘেরা ৩৫৭ বর্গ কি.মি. জায়গা নিয়ে বিস্তৃত ১৯৭ গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসন।
তথ্য বলছে, এ আসনটিতে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী, ৯১ ও ৯৬ সালে বিএনপি পর পর দু’বার এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে ছিলো। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, এবার এ পরিসংখ্যান বদলে যাবে। বিএনপি’র হয়ে এ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং নীরবে মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ও দলীয় কর্মসূচিতে যাঁদের আগে দেখা যায়নি, ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁদের আনাগোনায় দলীয় কার্যালয় এখন জমজমাট। যাঁরা আগে ঝামেলা এড়াতে দলের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকতেন, তাঁরাও এখন সক্রিয়। উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা এখন নতুন কমিটি গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর কাপাসিয়ায় প্রকাশ্যে সংগঠনের কার্যক্রম চালাতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। এখন রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা বদলানোয় দলটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আবারও সভা-সমাবেশ করছে। নেতারা ধর্মীয় ও সামাজিক নানা আয়োজনেও অংশ নিচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনী মাঠে এখনো ঝড় না উঠলেও বইছে মৃদু বাতাস। চায়ের দোকানগুলোতে রয়েছে নির্বাচনী আলোচনা তবে বিএনপি ও জামায়াত বাদে অন্যদলগুলো নিয়েও রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নির্বাচনী মাঠে বিএনপির কিছু কিছু নেতার দৌড়ঝাঁপ নিয়েও রয়েছে আলোচনা সমালোচনা।
বিএনপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, বিগত সরকারের সময়ে কাপাসিয়া বিএনপিকে দমন করতে বিপুলসংখ্যক মামলা করা হয়েছিল। অধিকাংশই ছিল ‘গায়েবি’ মামলা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল শত শত নেতা-কর্মীকে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। গত ৫ আগস্ট আন্দোলনের পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। জামায়াতের নেতারা বলছেন, তাদের দল ইউনিয়নে ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের খেদমতের কাজে নিয়োজিত আছে। তারা আশা করছেন, এবার জামায়াতে ইসলামী এ আসনে জয় লাভ করবে।
এবার নির্বাচনের বিষয় নিয়ে কথা হলে এ এলাকার সাধারণ মানুষেরা জানান, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে বিএনপি জয়ী হবে। অনেকেই আবার বলছেন জামায়াতে ইসলামী জয়ী হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীরা জানান, যদি রিয়াজ ভাইকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে রিয়াজ ভাইকে পরাজিত করার মতো কোনো প্রার্থী নেই এ আসনে। তবে সবাইকে শৃঙ্খলা নিয়ে মাঠে কাজ করতে হবে। রিয়াজ ভাই পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, তার বাবা ছিলেন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ।
কাপাসিয়া উপজেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আমরা দ্রুত সময়ের ভিতরে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আগামী জাতীয় নির্বাচনে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তার কার্যক্রম ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। সে কারণে আওয়ামী লীগ ঘেঁষা বামপন্থীদের অবস্থাও হবে করুণ। এই পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধান দল হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম। অতীতে জামায়াত ও বিএনপি আসন ভাগাভাগি করে কিংবা জোটগতভাবে নির্বাচন করেছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তা হবে না। পৃথকভাবে নির্বাচন করবে দু’দল। এতে করে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে সহজেই। তবে কাপাসিয়া উপজেলায় বিএনপি’র জনপ্রিয়তা একটু বেশি। বিগত দিনে আওয়ামী লীগ এই জনপ্রিয়তাকে কায়দা করে ঢেকে রেখেছিলো।
এম এ হোসেন, গাজীপুর: 

























