সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

মূর্তিমান আতংক বন সংরক্ষক মোল্লা

চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ, কক্সবাজার ও বান্দরবানে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বন কর্মকর্তা ড. মোল্লা রেজাউল করিমের কথিত সিন্ডিকেট। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিটে চাঁদাবাজি, বদলি বানিজ্য, কাঠ পাচার ও অবৈধ জোত পারমিট ইস্যু যেন নতুন করে শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ডিএফও কায়চার আহমেদ, ফরেন্ট রেঞ্জার আবদুল মালেক এবং ফরেস্টার রাশেদ, আনিছুর রহমান, মামুন মিয়া-এই পাঁচজনের নেতৃত্বে বিট ও রেঞ্জ সমূহে নিয়মিত চাঁদা আদায় এবং বদলির মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফরেস্টার মামুন মিয়াকে সার্কেল বদলি করলেও মোল্লা রেজাউল করিমের ক্ষমতাবলে এখনো বহাল তবিয়তে দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ এ আছেন। সূত্রের দাবি, সবকিছুই সিএফ ড. মোল্লা রেজাউল করিমের নির্দেশে ও তার ‘আশীর্বাদে’ ঘটছে।
বান্দরবান জেলা রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় ফরেস্টার আলতাফ এবং সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এফজি নাছিরের বিরুদ্ধে অবৈধ কাঠ বিক্রি ও জোত পারমিট বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়
ব্যবসায়ীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এখন জেলায় কোনো জোত পারমিট পেতে হলে প্রথমে আলতাফ ও নাছিরের ‘অনুমোদন’ নিতে হয়। তাদের মাধ্যমে মোটা অংকের অথ সিএফ মোল্লা রেজাউল করিমকে পৌঁছায়, নতুবা অনুমতি মেলে না।
কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগে অবৈধ করাতকল, বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট পারমিট (টিপি) ও চেকপোস্ট চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন ফরেস্ট রেঞ্জার হুমায়ুন, ফরেন্টার সাদেক ও আলীয় নেওয়াজ। সিএফ মোল্লা রেজাউলের ‘বিশেষ ব্যক্তিগত পছন্দভাজন’ হিসেবে ফরেস্টার সাদেককে কক্সবাজার সদর রেঞ্জে বসানোর জন্যও তিনি তৎপর বলে দাবি সূত্রের।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের একজন সরকারি গাড়ি চালক নামা প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিএফও কায়চার আহমেদ প্রতি মাসো অন্তত দুইবার সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে সিএফ মোল্লা রেজাউল করিমের ঢাকার বাসায় যান। এ সময় ‘কাচাবাজার ও মাছের নামো টাকা ভর্তি বস্তা গাড়িতে তোলা হয়। ড্রাইভাররা আপত্তি জানালো ফরেস্ট গার্ড (এফজি) নেতাদের ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য দুদকের তদন্ত চলমান, তবুও পুরনো কৌশলেই ফিরেছেন মোল্লা রেজাউল ড. মোল্লা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে পূর্বেও অবৈষ্ণ সম্পদ অর্জন, বদলি বানিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালীন কিছুদিন গা-ঢাকা দিলেও বর্তমানে নতুন লোকজনকে কাজে লাগিয়ে পুরনো কাজল পুনরায় শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে সিএফ ড. মোল্লা রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

মূর্তিমান আতংক বন সংরক্ষক মোল্লা

আপডেট সময় ০৭:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ, কক্সবাজার ও বান্দরবানে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বন কর্মকর্তা ড. মোল্লা রেজাউল করিমের কথিত সিন্ডিকেট। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিটে চাঁদাবাজি, বদলি বানিজ্য, কাঠ পাচার ও অবৈধ জোত পারমিট ইস্যু যেন নতুন করে শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ডিএফও কায়চার আহমেদ, ফরেন্ট রেঞ্জার আবদুল মালেক এবং ফরেস্টার রাশেদ, আনিছুর রহমান, মামুন মিয়া-এই পাঁচজনের নেতৃত্বে বিট ও রেঞ্জ সমূহে নিয়মিত চাঁদা আদায় এবং বদলির মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফরেস্টার মামুন মিয়াকে সার্কেল বদলি করলেও মোল্লা রেজাউল করিমের ক্ষমতাবলে এখনো বহাল তবিয়তে দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ এ আছেন। সূত্রের দাবি, সবকিছুই সিএফ ড. মোল্লা রেজাউল করিমের নির্দেশে ও তার ‘আশীর্বাদে’ ঘটছে।
বান্দরবান জেলা রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় ফরেস্টার আলতাফ এবং সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এফজি নাছিরের বিরুদ্ধে অবৈধ কাঠ বিক্রি ও জোত পারমিট বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়
ব্যবসায়ীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এখন জেলায় কোনো জোত পারমিট পেতে হলে প্রথমে আলতাফ ও নাছিরের ‘অনুমোদন’ নিতে হয়। তাদের মাধ্যমে মোটা অংকের অথ সিএফ মোল্লা রেজাউল করিমকে পৌঁছায়, নতুবা অনুমতি মেলে না।
কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগে অবৈধ করাতকল, বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট পারমিট (টিপি) ও চেকপোস্ট চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন ফরেস্ট রেঞ্জার হুমায়ুন, ফরেন্টার সাদেক ও আলীয় নেওয়াজ। সিএফ মোল্লা রেজাউলের ‘বিশেষ ব্যক্তিগত পছন্দভাজন’ হিসেবে ফরেস্টার সাদেককে কক্সবাজার সদর রেঞ্জে বসানোর জন্যও তিনি তৎপর বলে দাবি সূত্রের।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের একজন সরকারি গাড়ি চালক নামা প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিএফও কায়চার আহমেদ প্রতি মাসো অন্তত দুইবার সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে সিএফ মোল্লা রেজাউল করিমের ঢাকার বাসায় যান। এ সময় ‘কাচাবাজার ও মাছের নামো টাকা ভর্তি বস্তা গাড়িতে তোলা হয়। ড্রাইভাররা আপত্তি জানালো ফরেস্ট গার্ড (এফজি) নেতাদের ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য দুদকের তদন্ত চলমান, তবুও পুরনো কৌশলেই ফিরেছেন মোল্লা রেজাউল ড. মোল্লা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে পূর্বেও অবৈষ্ণ সম্পদ অর্জন, বদলি বানিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালীন কিছুদিন গা-ঢাকা দিলেও বর্তমানে নতুন লোকজনকে কাজে লাগিয়ে পুরনো কাজল পুনরায় শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে সিএফ ড. মোল্লা রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।