ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৫ প্লট, ৪ ফ্ল্যাট ও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কালুখালীর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম তৃতীয় বিয়ে নিয়ে ‘মহাবিপদে’ আমির খান! খেলা শুরুর আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল মারামারি, আটক ৩ সমগ্র উত্তরবঙ্গের ইয়াবার ডিলার শা আপেল কে নিয়ে নানান বিতর্কের গুণজন যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫৬ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্ক করল চীন বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নদীর চরে জীবন যাপন করছে বাসন্তী মুন্ডাদের মতো অনেক মানুষের পরিবার

ওপারে সুন্দরবনের গভীর অরণ্য, সেখানে প্রকৃতি যেন এক অপরূপ রাজ্য। বনজঙ্গল, নদী, ও মিঠা পানির খাল-মহাল যেন এক বিরাট রহস্যের আবরণে আচ্ছাদিত। আর এই সুন্দরবনের পাশে, নদীর চরে জীবন যাপন করছে বাসন্তী মুন্ডাদের মতো অনেক মানুষের পরিবার, যারা প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকে।
খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা একটি নদী তীরবর্তী এলাকা—যেখানে লোনা জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত—সেখানে বাসন্তী দের মতো অনেক মানুষের জীবন সংগ্রামের সঙ্গে একাকার। নদীর চরে, লোনা জলে, তাদের দিন চলে। তারা নদী থেকে জীবিকা সংগ্রহ করে, কিন্তু সেই নদীই কখনো তাদের সুখ, কখনো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি কয়রা ইউনিয়নের ৬ নং কয়রা টিপাখালি মুন্ডাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে হতদরিদ্র সব পরিবারের।যেখানে অধিকাংশ পরিবার নদীর চরে বসবাস করে।

এই এলাকার বাসন্তী দের মতো গ্রামবাসীরা মূলত মতসজীবি। তারা নদী থেকে মাছ- কাকড়া ধরে জীবিকা উপার্জন করেন। কিন্তু একদিকে নদীর স্বাভাবিক ওঠানামা, অন্যদিকে লোনা জল এসে তাদের বারান্দা তলিয়ে দিয়ে যায়। তেমনি, বন্যার সময় নদী তাদের ঘরবাড়ি ও জমি তছনছ করে দেয়। অথচ, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা একটাই—নদী তাদের খাদ্য, তাদের জীবিকা, তাদের জীবনের সহায়ক হতে হবে, বিপদ নয়।

কথা হয় তাজমিরা নামে এক গৃহবধূর সাথে।তিনি তখন নদীর পানিতে কাপড় ধোয়ায় ব্যস্ত।তাজমিরা বলেন,তার স্বামী ভাটায় কাজ করে। ২ ছেলে মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন অতিবাহিত হয় তাদের। লোনা জলে গোসল করতে হয়,নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা ফলে ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। একবুক নি:স্বাস ছেড়ে পাশে দাড়িয়ে থাকা স্বরসতী মুন্ডা বলেন.. আমাদের দেখার কেউ নেই বাবা।অনেকেই আসে সাহায্য করবে বলে কিন্তু ফটোসেশান করে নাম মাত্র কিছু দিয়ে চলে যায়।

বন্যার সময় এই অঞ্চলের নদী তীরে বসবাসকারী মানুষদের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়ায় নদীভাঙন। বাসন্তী এবং তার পরিবার জানায়, “প্রতি বছর আমরা বন্যার সময় ভয় পেয়ে থাকি। আমাদের ফসল, ঘরবাড়ি, সমস্ত কিছুই চলে যায় নদীর সঙ্গে।” নদীর যেসব অঞ্চলে এই ধরনের ভাঙন বেশি ঘটে, সেসব এলাকায় বাসন্তী দের মতো পরিবারগুলোর জীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
নদী এবং লোনা জলের সঙ্গে লড়াই করা বাসন্তী দের জীবন শুধুমাত্র সংগ্রাম নয়, এটি অনেকটা একেকটি অসম্ভব যুদ্ধের মতো। তাদের দাবী, সরকারের এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নদীভাঙন রোধকল্পে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে তারা নিরাপদে তাদের জীবন কাটাতে পারেন। তাদের মতে, বন্যা মোকাবিলায় এবং নদী ভাঙন রোধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যেন তাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ প্লট, ৪ ফ্ল্যাট ও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

নদীর চরে জীবন যাপন করছে বাসন্তী মুন্ডাদের মতো অনেক মানুষের পরিবার

আপডেট সময় ০৭:২৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

ওপারে সুন্দরবনের গভীর অরণ্য, সেখানে প্রকৃতি যেন এক অপরূপ রাজ্য। বনজঙ্গল, নদী, ও মিঠা পানির খাল-মহাল যেন এক বিরাট রহস্যের আবরণে আচ্ছাদিত। আর এই সুন্দরবনের পাশে, নদীর চরে জীবন যাপন করছে বাসন্তী মুন্ডাদের মতো অনেক মানুষের পরিবার, যারা প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকে।
খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা একটি নদী তীরবর্তী এলাকা—যেখানে লোনা জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত—সেখানে বাসন্তী দের মতো অনেক মানুষের জীবন সংগ্রামের সঙ্গে একাকার। নদীর চরে, লোনা জলে, তাদের দিন চলে। তারা নদী থেকে জীবিকা সংগ্রহ করে, কিন্তু সেই নদীই কখনো তাদের সুখ, কখনো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি কয়রা ইউনিয়নের ৬ নং কয়রা টিপাখালি মুন্ডাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে হতদরিদ্র সব পরিবারের।যেখানে অধিকাংশ পরিবার নদীর চরে বসবাস করে।

এই এলাকার বাসন্তী দের মতো গ্রামবাসীরা মূলত মতসজীবি। তারা নদী থেকে মাছ- কাকড়া ধরে জীবিকা উপার্জন করেন। কিন্তু একদিকে নদীর স্বাভাবিক ওঠানামা, অন্যদিকে লোনা জল এসে তাদের বারান্দা তলিয়ে দিয়ে যায়। তেমনি, বন্যার সময় নদী তাদের ঘরবাড়ি ও জমি তছনছ করে দেয়। অথচ, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা একটাই—নদী তাদের খাদ্য, তাদের জীবিকা, তাদের জীবনের সহায়ক হতে হবে, বিপদ নয়।

কথা হয় তাজমিরা নামে এক গৃহবধূর সাথে।তিনি তখন নদীর পানিতে কাপড় ধোয়ায় ব্যস্ত।তাজমিরা বলেন,তার স্বামী ভাটায় কাজ করে। ২ ছেলে মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন অতিবাহিত হয় তাদের। লোনা জলে গোসল করতে হয়,নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা ফলে ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। একবুক নি:স্বাস ছেড়ে পাশে দাড়িয়ে থাকা স্বরসতী মুন্ডা বলেন.. আমাদের দেখার কেউ নেই বাবা।অনেকেই আসে সাহায্য করবে বলে কিন্তু ফটোসেশান করে নাম মাত্র কিছু দিয়ে চলে যায়।

বন্যার সময় এই অঞ্চলের নদী তীরে বসবাসকারী মানুষদের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়ায় নদীভাঙন। বাসন্তী এবং তার পরিবার জানায়, “প্রতি বছর আমরা বন্যার সময় ভয় পেয়ে থাকি। আমাদের ফসল, ঘরবাড়ি, সমস্ত কিছুই চলে যায় নদীর সঙ্গে।” নদীর যেসব অঞ্চলে এই ধরনের ভাঙন বেশি ঘটে, সেসব এলাকায় বাসন্তী দের মতো পরিবারগুলোর জীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
নদী এবং লোনা জলের সঙ্গে লড়াই করা বাসন্তী দের জীবন শুধুমাত্র সংগ্রাম নয়, এটি অনেকটা একেকটি অসম্ভব যুদ্ধের মতো। তাদের দাবী, সরকারের এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নদীভাঙন রোধকল্পে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে তারা নিরাপদে তাদের জীবন কাটাতে পারেন। তাদের মতে, বন্যা মোকাবিলায় এবং নদী ভাঙন রোধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যেন তাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে।