ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরটিয়ায় হাড়িয়া কামারপাড়া যাওয়ার রাস্তা বেহাল, দুর্ভোগে জনসাধারণ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আল-হিকমা রেসিডেন্সিয়াল মাদরাসার ৫ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি মহারণের আগে স্পেনের ফাঁদে পড়তে চায় না ফ্রান্স মাঝ আকাশে ভেঙে গেল বিমানের জানালা, স্বামীকে বাঁচাতে যা করলেন স্ত্রী ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতির অভিযোগে উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী বরখাস্ত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সমবায় কর্মকর্তা আফজালের অনিয়ম-দুর্নীতি দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা-রেলের আনিসুরপ্রীতির অভিযোগ সিএজি নুরুল ইসলামের অর্থপাচার ও দুর্নীতি মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ মেহেরপুর খাদ্য গুদামে বোরো সংগ্রহে অনিয়ম, ওসিএলএসডি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ

দোয়ারাবাজারে সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

হাওরের বোরো ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার অধিকাংশ ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ।

কৃষকরা বলছেন, এবারও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বাঁধের কাজে। বাঁধের পিআইসি গঠনে দলীয়করণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে গণশুনানি ছাড়াই বাঁধ সংশ্লিষ্ট জমির কৃষকদের বাদ দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিয়ে পিআইসি গঠন করা হয়েছে। অনেক পিআইসিতে পর্যাপ্ত মাটি পড়েনি, মাটির বদলে বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেহের নিগার তনু দাবি করছেন, বাঁধের কাজ ৯৯ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এবার পিআইসি গঠনে কোনো দলীয়করণ হয়নি। স্বচ্ছ ভাবে গণশুনানি করেই পিআইসি গঠন করা হয়েছে। বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সবাইকে দিয়েতু পিআইসি গঠন সম্ভব নয়। যারা পিআইসি পায়নি তারাই বিভিন্ন ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়- উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ৪৭টি পিআইসির মাধ্যমে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলছে। ৪৭টি পিআইসির বরাদ্দ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পিআইসি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়- বেশির ভাগ পিআইসিতে এখনো ঘাস লাগানো হয়নি। অধিকাংশ বাঁধেই এখনো দুর্মুজ করা হয়নি।

পিআইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, তাঁরা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছেন। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ঘাস জন্মাচ্ছে না। আশপাশেও ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা বলছেন, বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েগেছে। এখন দুর্মুজ ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে।
উপজেলার সুরমা ইউনেয়নের শান্তিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে শান্তিপুরে কালনার হাওরের ক্লোজারে নামকাওয়াস্তে মাটি ফেলা হয়েছে। এখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।’

একই ইউনিয়নের গোজাউরা গ্রামের বাসিন্দা আলতাব হোসেন বলেন, ‘রামনগর থেকে গোজাউরা পর্যন্ত চিলাই নদীর বেড়ি বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে ওই বেড়ি বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

দোয়ারাবাজারে বাঁধের কাজ ৬৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনূর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বেশকিছু বাঁধ বালুমাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বাঁধ বন্যা ও অতি বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বেশির ভাগ বাঁধেই কমপেকশন ও স্লোপের কাজে সমস্যা আছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শতভাগ শেষ। এখন কেবল দুর্মুজ ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ঘাস লাগানোর কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। এজন্য কাজের সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব বাঁধের কাজের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ এসেছিল তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাজের টেকসই মান ঠিক রাখতে প্রতিটি বাঁধের কাজ সরেজমিনে গিয়ে মনিটরিং করা হয়েছে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরটিয়ায় হাড়িয়া কামারপাড়া যাওয়ার রাস্তা বেহাল, দুর্ভোগে জনসাধারণ

দোয়ারাবাজারে সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

আপডেট সময় ০২:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫

হাওরের বোরো ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার অধিকাংশ ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ।

কৃষকরা বলছেন, এবারও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বাঁধের কাজে। বাঁধের পিআইসি গঠনে দলীয়করণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে গণশুনানি ছাড়াই বাঁধ সংশ্লিষ্ট জমির কৃষকদের বাদ দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিয়ে পিআইসি গঠন করা হয়েছে। অনেক পিআইসিতে পর্যাপ্ত মাটি পড়েনি, মাটির বদলে বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেহের নিগার তনু দাবি করছেন, বাঁধের কাজ ৯৯ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এবার পিআইসি গঠনে কোনো দলীয়করণ হয়নি। স্বচ্ছ ভাবে গণশুনানি করেই পিআইসি গঠন করা হয়েছে। বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সবাইকে দিয়েতু পিআইসি গঠন সম্ভব নয়। যারা পিআইসি পায়নি তারাই বিভিন্ন ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়- উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ৪৭টি পিআইসির মাধ্যমে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলছে। ৪৭টি পিআইসির বরাদ্দ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পিআইসি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়- বেশির ভাগ পিআইসিতে এখনো ঘাস লাগানো হয়নি। অধিকাংশ বাঁধেই এখনো দুর্মুজ করা হয়নি।

পিআইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, তাঁরা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছেন। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ঘাস জন্মাচ্ছে না। আশপাশেও ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা বলছেন, বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েগেছে। এখন দুর্মুজ ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে।
উপজেলার সুরমা ইউনেয়নের শান্তিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে শান্তিপুরে কালনার হাওরের ক্লোজারে নামকাওয়াস্তে মাটি ফেলা হয়েছে। এখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।’

একই ইউনিয়নের গোজাউরা গ্রামের বাসিন্দা আলতাব হোসেন বলেন, ‘রামনগর থেকে গোজাউরা পর্যন্ত চিলাই নদীর বেড়ি বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে ওই বেড়ি বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

দোয়ারাবাজারে বাঁধের কাজ ৬৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনূর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বেশকিছু বাঁধ বালুমাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বাঁধ বন্যা ও অতি বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বেশির ভাগ বাঁধেই কমপেকশন ও স্লোপের কাজে সমস্যা আছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শতভাগ শেষ। এখন কেবল দুর্মুজ ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ঘাস লাগানোর কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। এজন্য কাজের সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব বাঁধের কাজের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ এসেছিল তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাজের টেকসই মান ঠিক রাখতে প্রতিটি বাঁধের কাজ সরেজমিনে গিয়ে মনিটরিং করা হয়েছে।’