ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা

বিজিবির ১১০০ নারী সৈনিক কোনো অংশেই কম নন

সীমান্ত রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ১১শ নারী সদস্য। এক সময় বাহিনীটিতে নারী সদস্য না থাকলেও এখন সরাসরি অস্ত্র হাতে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন তারা। শুধু সংসারই নয়, তারা যে শক্ত হাতে নিজের দেশকেও সামলাতে পারেন এর প্রমাণ এসব নারী সীমান্তরক্ষীরা। তাদের দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক তরুণী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) সর্বশেষ মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের ৬৯৫ জন সদস্য। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৪৬ জন নারী। এই নারী সদস্যদের মধ্যে শারীরিক কসরতে প্রথম হয়েছেন আদিবাসী তরুণী নুখিংসাই মার্মা।

প্যারেড মাঠে মঙ্গলবার নুখিংসাই মার্মা যুগান্তরকে জানান, ছোটবেলা থেকেই বিজিবির প্রশিক্ষণ এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে দেখেন। কয়েক বছর আগে সীমান্তে বিজিবির নারী সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখে তিনি নিজেও স্বপ্ন দেখেন এ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। তার এই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন হলো। এখন থেকে নুখিংসাই মার্মা নিজেও বিজিবির একজন সক্রিয় সদস্য।

তিনি বলেন, অস্ত্র চালনাসহ সব ধরনের ট্রেনিং রপ্ত করেছি। এখন জীবনের শেষটা দিয়ে হলেও এই ভুখণ্ড রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে যাব। তাকে বিজিবিতে যোগদানে সহযোগিতার জন্য কৃষক বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই আদিবাসী তরুণী।

শুধু নুখিংসাই মার্মাই নন, তার মতো অনেকেই উদ্ধুদ্ধ হয়ে বিজিবিতে যোগ দিচ্ছেন। ২০১৬ সালের ৫ জুন ট্রেনিং শেষে সর্বপ্রথম বিজিবিতে ৯৭ জন নারী সদস্য দায়িত্ব পালন শুরু করেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নারী সৈনিকদের বিজিবির হাসপাতালগুলোতে, টেকনাফ, বেনাপোল, হিলি আইসিপিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিয়োজিত করা হয়। এরপর প্রতি বছরই পুরুষ সৈনিকের পাশাপাশি নারী সৈনিক নিয়োগ দিতে থাকে বিজিবি। ৯ বছরের মাথায় এখন বিজিবিতে নারী সৈনিকের সংখ্যা প্রায় ১১শ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিজিবির নারী সৈনিকরা কোনো অংশেই কম নন। তারা পুরুষ সৈনিকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা সীমান্তে চোরাচালান দমনে পেট্রোলিং, চেকপোস্ট ডিউটি, নারী চোরাচালানিদের চেক করাসহ যে কোনো দায়িত্ব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজিবি বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছে। এর অংশীদার এখন নারীরাও।

বিজিবির নারী সদস্যরা সীমান্তে অপারেশনাল কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন। নারী সদস্যরা দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় প্রতিটি নিয়োগেই নারী সৈনিকদের যুক্ত করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মহান দায়িত্ব পালনে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমান ভূমিকা রেখে চলেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিজিবির ১১০০ নারী সৈনিক কোনো অংশেই কম নন

আপডেট সময় ০১:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫

সীমান্ত রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ১১শ নারী সদস্য। এক সময় বাহিনীটিতে নারী সদস্য না থাকলেও এখন সরাসরি অস্ত্র হাতে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন তারা। শুধু সংসারই নয়, তারা যে শক্ত হাতে নিজের দেশকেও সামলাতে পারেন এর প্রমাণ এসব নারী সীমান্তরক্ষীরা। তাদের দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক তরুণী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) সর্বশেষ মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের ৬৯৫ জন সদস্য। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৪৬ জন নারী। এই নারী সদস্যদের মধ্যে শারীরিক কসরতে প্রথম হয়েছেন আদিবাসী তরুণী নুখিংসাই মার্মা।

প্যারেড মাঠে মঙ্গলবার নুখিংসাই মার্মা যুগান্তরকে জানান, ছোটবেলা থেকেই বিজিবির প্রশিক্ষণ এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে দেখেন। কয়েক বছর আগে সীমান্তে বিজিবির নারী সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখে তিনি নিজেও স্বপ্ন দেখেন এ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। তার এই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন হলো। এখন থেকে নুখিংসাই মার্মা নিজেও বিজিবির একজন সক্রিয় সদস্য।

তিনি বলেন, অস্ত্র চালনাসহ সব ধরনের ট্রেনিং রপ্ত করেছি। এখন জীবনের শেষটা দিয়ে হলেও এই ভুখণ্ড রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে যাব। তাকে বিজিবিতে যোগদানে সহযোগিতার জন্য কৃষক বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই আদিবাসী তরুণী।

শুধু নুখিংসাই মার্মাই নন, তার মতো অনেকেই উদ্ধুদ্ধ হয়ে বিজিবিতে যোগ দিচ্ছেন। ২০১৬ সালের ৫ জুন ট্রেনিং শেষে সর্বপ্রথম বিজিবিতে ৯৭ জন নারী সদস্য দায়িত্ব পালন শুরু করেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নারী সৈনিকদের বিজিবির হাসপাতালগুলোতে, টেকনাফ, বেনাপোল, হিলি আইসিপিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিয়োজিত করা হয়। এরপর প্রতি বছরই পুরুষ সৈনিকের পাশাপাশি নারী সৈনিক নিয়োগ দিতে থাকে বিজিবি। ৯ বছরের মাথায় এখন বিজিবিতে নারী সৈনিকের সংখ্যা প্রায় ১১শ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিজিবির নারী সৈনিকরা কোনো অংশেই কম নন। তারা পুরুষ সৈনিকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা সীমান্তে চোরাচালান দমনে পেট্রোলিং, চেকপোস্ট ডিউটি, নারী চোরাচালানিদের চেক করাসহ যে কোনো দায়িত্ব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজিবি বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছে। এর অংশীদার এখন নারীরাও।

বিজিবির নারী সদস্যরা সীমান্তে অপারেশনাল কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন। নারী সদস্যরা দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় প্রতিটি নিয়োগেই নারী সৈনিকদের যুক্ত করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মহান দায়িত্ব পালনে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমান ভূমিকা রেখে চলেছে।