ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবাম ফাউন্ডেশনের সহায়তায় কাউখালীর রাসেল এখন স্বাবলম্বী

কাউখালীর রাঙ্গীপাড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ রাসেল (১৮)। বাবা আলী আহাম্মেদও ছিলেন দিনমজুর। ১৫ সালের শেষ দিকে রাসেলের বাবা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অভাবের সংসারে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে অঘোর অন্ধকারে রেখে তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে দিশেহারা রাসেলের মা। তিন শিশু সন্তানকে বুকে আগলে রেখে দিনমজুরি করে এখন পর্যন্ত টিকে আছেন মা। পরিবারের বড় রাসেল এখন আঠারোতে পা দিয়েছে। নিজে দিনমজুরি করে সংসারের হাল ধরলেও ছোট দুই ভাই আব্দুর রহমান ও ফয়সালকে মায়ের স্বপ্ন পূরণে ভর্তি করিয়েছেন রাঙ্গীপাড়া মহিস্ সুন্নাহ মাদরাসায়। প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে তারা এখন যথারীতি ২য় ও পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। শত অভাব অনটনের মাঝেও রাসেল ছোট দুই ভাইকে পিতৃস্নেহে তাদের লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

রাসেলের এমন মহানুভবতার খবরে তার পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে চট্টগ্রাম ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আবাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। পরিবারের ভরণপোষণ ও ছোট ভাইদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সংগঠনের স্বাবলম্বী প্রজেক্টের আওতায় তাকে উপহার দিলেন একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শামসুল আলম খাঁন মুরাদ, সেক্রেটারি মোঃ রাশেদ উল্লাহ, রাংগামাটি প্রতিনিধি আহসান হাবীব ও সেজাউল করিম মণি।
রিকশা পেয়ে রিজিকের সন্ধানে দিনভর ছুটে চলে রাসেল। দিন শেষে তার উপার্জনও খোব একটা খারাপ না। রাসেল জানায়, সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ৭শ থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতে কষ্ট হয়না। দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য আবাম ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানায়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবাম ফাউন্ডেশনের সহায়তায় কাউখালীর রাসেল এখন স্বাবলম্বী

আপডেট সময় ১২:২৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

কাউখালীর রাঙ্গীপাড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ রাসেল (১৮)। বাবা আলী আহাম্মেদও ছিলেন দিনমজুর। ১৫ সালের শেষ দিকে রাসেলের বাবা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অভাবের সংসারে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে অঘোর অন্ধকারে রেখে তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে দিশেহারা রাসেলের মা। তিন শিশু সন্তানকে বুকে আগলে রেখে দিনমজুরি করে এখন পর্যন্ত টিকে আছেন মা। পরিবারের বড় রাসেল এখন আঠারোতে পা দিয়েছে। নিজে দিনমজুরি করে সংসারের হাল ধরলেও ছোট দুই ভাই আব্দুর রহমান ও ফয়সালকে মায়ের স্বপ্ন পূরণে ভর্তি করিয়েছেন রাঙ্গীপাড়া মহিস্ সুন্নাহ মাদরাসায়। প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে তারা এখন যথারীতি ২য় ও পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। শত অভাব অনটনের মাঝেও রাসেল ছোট দুই ভাইকে পিতৃস্নেহে তাদের লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

রাসেলের এমন মহানুভবতার খবরে তার পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে চট্টগ্রাম ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আবাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। পরিবারের ভরণপোষণ ও ছোট ভাইদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সংগঠনের স্বাবলম্বী প্রজেক্টের আওতায় তাকে উপহার দিলেন একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শামসুল আলম খাঁন মুরাদ, সেক্রেটারি মোঃ রাশেদ উল্লাহ, রাংগামাটি প্রতিনিধি আহসান হাবীব ও সেজাউল করিম মণি।
রিকশা পেয়ে রিজিকের সন্ধানে দিনভর ছুটে চলে রাসেল। দিন শেষে তার উপার্জনও খোব একটা খারাপ না। রাসেল জানায়, সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ৭শ থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতে কষ্ট হয়না। দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য আবাম ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানায়।