ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চালে পাওয়া গেল ক্ষতিকারক মাত্রায় আর্সেনিক-সীসার মতো ভারী ধাতু!

আলু, বেগুনের মতো সবজির পর এবার গবেষণায় প্রধান খাদ্যশস্য চালেও পাওয়া গেল হেভি মেটাল বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সচরাচর খাওয়া হয়, এমন সব চালের নমুনায় আর্সেনিক, সীসার মতো ভারী ধাতু ক্ষতিকারক মাত্রায় পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. নাজমা শাহীনের নেতৃত্বে গবেষকরা ঢাকা শহরের চারটি পাইকারি বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় এমন নাজিরশাইল, মিনিকেট, পাজাম, কাটারী, বাসমতি, কালীজিরা চিনিগুড়া, ব্রি-৩২, বাশফুল, লালবিরুই, এই ১০ ধরনের চালের নমুনা সংগ্রহ করেন।

সংগ্রহ করা চালের মধ্যে সিসা ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে কেজিতে সর্বনিম্ন ০.০১ মিলিগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১.০৮ মিলিগ্রাম। ইউএসইপিএ-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, সীসার স্বাভাবিক মাত্রা কেজিতে ০.০০০০০১ মিলিগ্রাম। একইভাবে, আর্সেনিকের মাত্রা ছিল প্রতিকেজিতে ০.০৪ থেকে ০.৩৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত।

এই দুটি ভারী ধাতুই মানুষের শরীরে ক্যানসার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া, বাকিগুলো নন-কার্সিওজেনিক নানান রোগের জন্য দায়ী হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের মাধ্যমে নিয়মতিভাবে এসব হেভি মেটাল শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মত প্রাণঘাতী রোগের পাশাপাশি উচ্চরক্তচাপ, কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস, হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণে বাধা, প্রস্রাবে সমস্যা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি, মূত্রনালীর সংক্রমণসহ গুরুতর রোগ বাসা বাঁধতে পারে মানুষের শরীরে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চালে পাওয়া গেল ক্ষতিকারক মাত্রায় আর্সেনিক-সীসার মতো ভারী ধাতু!

আপডেট সময় ১০:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

আলু, বেগুনের মতো সবজির পর এবার গবেষণায় প্রধান খাদ্যশস্য চালেও পাওয়া গেল হেভি মেটাল বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সচরাচর খাওয়া হয়, এমন সব চালের নমুনায় আর্সেনিক, সীসার মতো ভারী ধাতু ক্ষতিকারক মাত্রায় পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. নাজমা শাহীনের নেতৃত্বে গবেষকরা ঢাকা শহরের চারটি পাইকারি বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় এমন নাজিরশাইল, মিনিকেট, পাজাম, কাটারী, বাসমতি, কালীজিরা চিনিগুড়া, ব্রি-৩২, বাশফুল, লালবিরুই, এই ১০ ধরনের চালের নমুনা সংগ্রহ করেন।

সংগ্রহ করা চালের মধ্যে সিসা ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে কেজিতে সর্বনিম্ন ০.০১ মিলিগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১.০৮ মিলিগ্রাম। ইউএসইপিএ-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, সীসার স্বাভাবিক মাত্রা কেজিতে ০.০০০০০১ মিলিগ্রাম। একইভাবে, আর্সেনিকের মাত্রা ছিল প্রতিকেজিতে ০.০৪ থেকে ০.৩৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত।

এই দুটি ভারী ধাতুই মানুষের শরীরে ক্যানসার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া, বাকিগুলো নন-কার্সিওজেনিক নানান রোগের জন্য দায়ী হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের মাধ্যমে নিয়মতিভাবে এসব হেভি মেটাল শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মত প্রাণঘাতী রোগের পাশাপাশি উচ্চরক্তচাপ, কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস, হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণে বাধা, প্রস্রাবে সমস্যা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি, মূত্রনালীর সংক্রমণসহ গুরুতর রোগ বাসা বাঁধতে পারে মানুষের শরীরে।