ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোড়াই কটনমিল পরিদর্শন করলেন শরীফুল আলম বালুর ড্রেজার বসানো নিয়ে বাকবিতন্ডা, স্থানীয়দের হাতে মার খেলেন ববি ছাত্রদলের তিন নেতা কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় শাড়ি-মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ জামিনে মুক্ত বেনজীর, অনুমতি ছাড়া দুবাই ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা নওগাঁর সীমান্তে বিজিবির ধাওয়া মাদক ফেলে পালাল পাচারকারীরা রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে প্রা’ণ গেল নারীর, সিআইডির সহায়তায় মিলল পরিচয় ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফ্যাসিস্টের দোসর ডা. মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি আড়ালের অভিযোগ বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প
বদলি বাতিল করে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পদায়ন

ফ্যাসিস্টের দোসর ডা. মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি আড়ালের অভিযোগ

গত ১৭ বছরের পতিত আওয়ামী সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী, স্বাচিপের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং দুনীতির দায়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক ডা. মো. মোরশেদ আলমকে সম্প্রতি জাতীয় কিডনি হাসপাতাল থেকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজে বদলি করা হয়েছিল। মোরশেদ আলমকে ওই বদলি করা হয়েছিল গত ২২ জুন, ২০২৬। কিন্তু সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদায়নের ব্যবস্থা করেছে। এটিকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সংস্কারের নামে আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং বিগত সময়ে করা নানা দুর্নীতির তথ্য আড়াল করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে আত্মগোপন
ডা. মোরশেদ আলম ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (জাতীয় কিডনি হাসপাতাল) এর সহযোগী অধ্যাপক পদে ছিলেন। হাসপাতাল ও চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী শাসনামলে ডা. মোরশেদ আলম চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ব্যানারে রাজপথের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং আওয়ামী লীগের কথিত ‘শান্তি মিছিলে’ তার নিয়মিত ও প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এসব রাজপথের সক্রিয় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বহু ছবি ও ভিডিও বর্তমানে ভাসছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টানা ১৫-২০ দিন প্রাণভয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কতিপয় চিকিৎসক নেতার সাথে আঁতাত করে তিনি লোকচক্ষুর আড়াল থেকে ক্রমান্বয়ে কিডনি হাসপাতালে কর্মস্থলে ফেরেন। অবাক ব্যাপার হলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেত্বত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অতীত অপকর্মের জন্য কোনোই শাস্তি পেতে হয়নি। জাতীয় কিডনি হাসপাতালেই বহাল থেকে যান। শুধু তাই নয়, সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিও বাগিয়ে নেন। এমনকি পদোন্নতির পরে নিয়ম অনুযায়ী অন্যত্র বদলি না হয়ে কিডনি হাসপাতালেই থেকে যান। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে অধ্যাপকের কোনো পদ শূন্য না থাকা সত্ত্বেও ইনসিটু (ওহ-ংরঃঁ) হিসেবে বহাল রাখা হয় তাকে। অবশ্য, এসবের জন্য মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করেন তিনি।

জাতীয় কিডনি হাসপাতালে দুর্নীতির পাহাড়
অভিযোগ রয়েছে যে, জাতীয় কিডনি হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন ডা. মোরশেদ আলম নিজেকে একজন চরম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত করে তোলেন। বিশেষ করে হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ সংস্কারের নামে তিনি বড় অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও লুটপাটে সরাসরি জড়িত ছিলেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং উন্নয়ন কাজের ফান্ড তছরুপের নানা প্রমাণ তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফ্যাসিস্টের দোসর এবং অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান বিএনপি সরকার গত ২২ জুন ডা. মোরশেদ আলমকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে বদলি করে। কিন্তু এর পরেই তিনি পুরনো কৌশলে মন্ত্রণালয়সহ বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। অবশেষে সফলও হয়েছেন।

রহস্যজনক বদলি স্থগিত ও পদায়ন
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনকে দলীয় প্রভাব ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয় হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডা. মোরশেদ আলমকে বগুড়ায় বদলি করা হয়। তবে অভিযোগ উঠে, একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্রকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিয়ে গত ৩০ জুলাই তার পূর্বের বদলি আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা করেন তিনি। একই সাথে কৌশল খাটিয়ে তাকে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে’ পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী, সুবিধাবাদী এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত একজন চিকিৎসকের এভাবে টাকার জোরে ঢাকায় পুনরাগমনে সাধারণ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংবেদনশীল চিকিৎসা খাতে এমন ‘বদলি বাণিজ্য’ এবং দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন চিকিৎসক সমাজ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোড়াই কটনমিল পরিদর্শন করলেন শরীফুল আলম

বদলি বাতিল করে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পদায়ন

ফ্যাসিস্টের দোসর ডা. মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি আড়ালের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

গত ১৭ বছরের পতিত আওয়ামী সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী, স্বাচিপের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং দুনীতির দায়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক ডা. মো. মোরশেদ আলমকে সম্প্রতি জাতীয় কিডনি হাসপাতাল থেকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজে বদলি করা হয়েছিল। মোরশেদ আলমকে ওই বদলি করা হয়েছিল গত ২২ জুন, ২০২৬। কিন্তু সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদায়নের ব্যবস্থা করেছে। এটিকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সংস্কারের নামে আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং বিগত সময়ে করা নানা দুর্নীতির তথ্য আড়াল করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে আত্মগোপন
ডা. মোরশেদ আলম ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (জাতীয় কিডনি হাসপাতাল) এর সহযোগী অধ্যাপক পদে ছিলেন। হাসপাতাল ও চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী শাসনামলে ডা. মোরশেদ আলম চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ব্যানারে রাজপথের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং আওয়ামী লীগের কথিত ‘শান্তি মিছিলে’ তার নিয়মিত ও প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এসব রাজপথের সক্রিয় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বহু ছবি ও ভিডিও বর্তমানে ভাসছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টানা ১৫-২০ দিন প্রাণভয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কতিপয় চিকিৎসক নেতার সাথে আঁতাত করে তিনি লোকচক্ষুর আড়াল থেকে ক্রমান্বয়ে কিডনি হাসপাতালে কর্মস্থলে ফেরেন। অবাক ব্যাপার হলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেত্বত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অতীত অপকর্মের জন্য কোনোই শাস্তি পেতে হয়নি। জাতীয় কিডনি হাসপাতালেই বহাল থেকে যান। শুধু তাই নয়, সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিও বাগিয়ে নেন। এমনকি পদোন্নতির পরে নিয়ম অনুযায়ী অন্যত্র বদলি না হয়ে কিডনি হাসপাতালেই থেকে যান। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে অধ্যাপকের কোনো পদ শূন্য না থাকা সত্ত্বেও ইনসিটু (ওহ-ংরঃঁ) হিসেবে বহাল রাখা হয় তাকে। অবশ্য, এসবের জন্য মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করেন তিনি।

জাতীয় কিডনি হাসপাতালে দুর্নীতির পাহাড়
অভিযোগ রয়েছে যে, জাতীয় কিডনি হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন ডা. মোরশেদ আলম নিজেকে একজন চরম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত করে তোলেন। বিশেষ করে হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ সংস্কারের নামে তিনি বড় অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও লুটপাটে সরাসরি জড়িত ছিলেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং উন্নয়ন কাজের ফান্ড তছরুপের নানা প্রমাণ তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফ্যাসিস্টের দোসর এবং অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান বিএনপি সরকার গত ২২ জুন ডা. মোরশেদ আলমকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে বদলি করে। কিন্তু এর পরেই তিনি পুরনো কৌশলে মন্ত্রণালয়সহ বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। অবশেষে সফলও হয়েছেন।

রহস্যজনক বদলি স্থগিত ও পদায়ন
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনকে দলীয় প্রভাব ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয় হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডা. মোরশেদ আলমকে বগুড়ায় বদলি করা হয়। তবে অভিযোগ উঠে, একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্রকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিয়ে গত ৩০ জুলাই তার পূর্বের বদলি আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা করেন তিনি। একই সাথে কৌশল খাটিয়ে তাকে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে’ পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী, সুবিধাবাদী এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত একজন চিকিৎসকের এভাবে টাকার জোরে ঢাকায় পুনরাগমনে সাধারণ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংবেদনশীল চিকিৎসা খাতে এমন ‘বদলি বাণিজ্য’ এবং দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন চিকিৎসক সমাজ।