ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে ব্রিজে উঠতে লাগে মই!

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর গ্রামে একটি ব্রিজে উঠতে লাগে মই। ব্রিজের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে আছেন হাজার হাজার মানুষ।

অনেক পুরোনো ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল, রেলিংও ভেঙে গেছে। নির্মাণের পর থেকে আজও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। যার কারণে এ পথে চলাচলকারী শিশু, বৃদ্ধ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও কৃষকের ফসলাদি নেওয়া-আনাসহ চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রতিদিন এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে মই দিয়ে ব্রিজে উঠে চলাচল করতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের তুজারপুর গ্রামে স্বাধীনতার পর এলজিইডি তত্ত্বাবধানে ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু ওই সময় ব্রিজের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক করেনি। তখন থেকে এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করার জন্য সব চেয়ারম্যানের কাছে বলেছি কিন্তু নির্মাণের আশ্বাস পেয়েছি, বাস্তবতা পাই নাই। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে এখন গ্রামবাসী ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তারা। শুধু আশ্বাস পেয়েছি যুগ যুগ ধরে, কাজের কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বাঁশের মই বানিয়ে কোনোমতে হেঁটে চলছে। কৃষি জমির ফসলাদিসহ হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এভাবে মই বেয়ে ব্রিজ পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাটের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। নিজেরা চাঁদা তুলে মই তৈরি করে কোনোমতে হেঁটে চলতে বাধ্য হচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান মিয়া (৬৫) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্রিজটি ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে ভাঙ্গা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতাম। কিন্তু শিশুদের বয়স্কদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের এই কষ্টের কথা কেউ শোনেন না।

ব্রিজ সংলগ্ন বাসিন্দা ওমর আলী সেখ (৬০) বলেন, ২০০০ সালের পরে আমরা বাড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করি। কিন্তু কোন মেম্বার চেয়ারম্যান এই ব্রিজের গোড়ায় কোনো মাটি দেন নাই। অনেকেই ব্রিজ পার হতে গিয়ে হাত-পা ভেঙে গেছে। অনেকবার মেম্বার চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করেছি কিন্তু কাজ হয়নি।

ব্রিজ সংলগ্ন আরেক বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম (৪৫) বলেন, আমাদের কেউ যদি অসুস্থ হলে কাঁধে করে ব্রিজ পার হতে হয়। অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা করাতে যাতায়াতে ব্যাপক কষ্ট হয়ে ।

শাহিন মোল্লা (২৮) বলেন, বিশ গ্রামের মাঝখানে বিশাল একটি বিল। হাজার হাজার মানুষ জমিতে চাষাবাদ করা হয়। অনেক কৃষকের জমি খালের ওপারে হবার কারণে জমি ফসল মাথায় নিয়ে ব্রিজে উঠতে অনেক কষ্ট হয়। অবিলম্বে দ্রুত ব্রিজের দুই পাশে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) আক্তার হোসেন বলেন, তুজারপুরে এই রকম একটা ব্রিজ আছে তা আমার জানা নেই। সরেজমিন গিয়ে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে সাবেক তুজারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, এই ব্রিজটি অনেক পুরোনো। অনেক আগে এই ব্রিজের উপর দিয়ে সব মানুষ চলাচল করত। এখন বেশি লোক যাতায়াত করে না। তবে কৃষকরা এ পথে বিভিন্ন ফসল আনা নেওয়া করে। যদি সরকার উদ্যোগ নেয়, তাহলে সংযোগ সড়ক ও ব্রিজটির সংস্করণ করা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, এই ব্রিজের খবর আমার জানা ছিল না। আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে খুব দ্রুত এই ব্রিজের সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ব্রিজের দুই প্রান্তে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যে ব্রিজে উঠতে লাগে মই!

আপডেট সময় ০৯:২৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর গ্রামে একটি ব্রিজে উঠতে লাগে মই। ব্রিজের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে আছেন হাজার হাজার মানুষ।

অনেক পুরোনো ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল, রেলিংও ভেঙে গেছে। নির্মাণের পর থেকে আজও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। যার কারণে এ পথে চলাচলকারী শিশু, বৃদ্ধ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও কৃষকের ফসলাদি নেওয়া-আনাসহ চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রতিদিন এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে মই দিয়ে ব্রিজে উঠে চলাচল করতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের তুজারপুর গ্রামে স্বাধীনতার পর এলজিইডি তত্ত্বাবধানে ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু ওই সময় ব্রিজের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক করেনি। তখন থেকে এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করার জন্য সব চেয়ারম্যানের কাছে বলেছি কিন্তু নির্মাণের আশ্বাস পেয়েছি, বাস্তবতা পাই নাই। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে এখন গ্রামবাসী ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তারা। শুধু আশ্বাস পেয়েছি যুগ যুগ ধরে, কাজের কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বাঁশের মই বানিয়ে কোনোমতে হেঁটে চলছে। কৃষি জমির ফসলাদিসহ হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এভাবে মই বেয়ে ব্রিজ পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাটের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। নিজেরা চাঁদা তুলে মই তৈরি করে কোনোমতে হেঁটে চলতে বাধ্য হচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান মিয়া (৬৫) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্রিজটি ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে ভাঙ্গা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতাম। কিন্তু শিশুদের বয়স্কদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের এই কষ্টের কথা কেউ শোনেন না।

ব্রিজ সংলগ্ন বাসিন্দা ওমর আলী সেখ (৬০) বলেন, ২০০০ সালের পরে আমরা বাড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করি। কিন্তু কোন মেম্বার চেয়ারম্যান এই ব্রিজের গোড়ায় কোনো মাটি দেন নাই। অনেকেই ব্রিজ পার হতে গিয়ে হাত-পা ভেঙে গেছে। অনেকবার মেম্বার চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করেছি কিন্তু কাজ হয়নি।

ব্রিজ সংলগ্ন আরেক বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম (৪৫) বলেন, আমাদের কেউ যদি অসুস্থ হলে কাঁধে করে ব্রিজ পার হতে হয়। অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা করাতে যাতায়াতে ব্যাপক কষ্ট হয়ে ।

শাহিন মোল্লা (২৮) বলেন, বিশ গ্রামের মাঝখানে বিশাল একটি বিল। হাজার হাজার মানুষ জমিতে চাষাবাদ করা হয়। অনেক কৃষকের জমি খালের ওপারে হবার কারণে জমি ফসল মাথায় নিয়ে ব্রিজে উঠতে অনেক কষ্ট হয়। অবিলম্বে দ্রুত ব্রিজের দুই পাশে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) আক্তার হোসেন বলেন, তুজারপুরে এই রকম একটা ব্রিজ আছে তা আমার জানা নেই। সরেজমিন গিয়ে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে সাবেক তুজারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, এই ব্রিজটি অনেক পুরোনো। অনেক আগে এই ব্রিজের উপর দিয়ে সব মানুষ চলাচল করত। এখন বেশি লোক যাতায়াত করে না। তবে কৃষকরা এ পথে বিভিন্ন ফসল আনা নেওয়া করে। যদি সরকার উদ্যোগ নেয়, তাহলে সংযোগ সড়ক ও ব্রিজটির সংস্করণ করা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, এই ব্রিজের খবর আমার জানা ছিল না। আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে খুব দ্রুত এই ব্রিজের সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ব্রিজের দুই প্রান্তে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।