ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান তনু উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তার সাবেক স্বামী খাইরুল ইসলাম মনির
একই অভিযোগ তুলে তনুর বিরুদ্ধে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আরও একটি অভিযোগ করেছেন লাভলী নামের এক নারী। উভয় অভিযোগকারী ইসরাত জাহান তনুর প্রার্থিতা বাতিল চেয়েছেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাত জাহান তনু উপজেলার খামারের বাজার এলাকার কলাকান্দা গ্রামের মৃত ডা. এএলএম গোলাম আরহামের মেয়ে।
এদিকে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মুক্তাগাছায় সবাইকে চমকে দিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ইসরাত জাহান তনু।
হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তনু ব্যবসার সুবাদে বছরে দুই লাখ টাকা আয় করেন। বর্তমানে তার নগদ ১১ লাখ টাকা জমা রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তার কোনো ধরনের জমি কিংবা কোনো ধরনের আবাদি কৃষিজমি নেই এবং তার নামে কোনো মামলাও নেই। তবে বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্নকথা।
জানা যায়, বর্তমানে নগদ ও অন্যান্য সব কিছু মিলিয়ে তনু কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকা রয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি ও ক্রয় করা জমি মিলিয়ে ৪৩ শতাংশ জমি রয়েছে তনুর। এছাড়া ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার নামে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্রে তিনি নিজের নাম জান্নাতুল আমান তনু ব্যবহার করলেও হলফনামায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি নিজেকে ইসরাত জাহান উল্লেখ করেছেন।
তবে তনুর সাবেক স্বামী খাইরুলের দাবি, জান্নাতুল আমান তনু ও ইসরাত জাহান তনু একই ব্যক্তি।
এ প্রসঙ্গে অভিযোগকারী খাইরুল ইসলাম মনির যুগান্তরকে বলেন, জন্মের পর তনুর বাবা তার নাম রেখেছিলেন জান্নাতুল আমান (তনু), পরে জাতীয় পরিচয়পত্রে সে তার নাম পরিবর্তন করে হয়ে যান ইসরাত জাহান। আসলে দুইটি নাম একইজনের। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেই তনু দুইটি নাম ব্যবহার করছেন। আমি নিজেই তনুর প্রতারণার শিকার হয়েছি। তার মতো মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে, তার দ্বারা মানুষ প্রতারিত হবে। যে কারণে আমি তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়েছি। প্রয়োজনে আমি উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিব।
ইসরাত জাহান (তনু) এবং জান্নাতুল আমান (তনু) একই ব্যক্তি কিনা? জানতে চাইলে ইসরাত জাহান তনু বিষয়টি এড়িয়ে যান। এছাড়া হলফনামায় তথ্য গোপনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নির্বাচন নিয়েই আপাতত ব্যস্ত, আমার এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা হাসান লিখিত জবাবে বলেন, বিষয়টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রমের আওতাধীন এবং যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ইতোপূর্বে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার করণীয় কিছু নেই। এ বিষয়ে অভিযোগকারীকে নির্বাচন কমিশনের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন ইউএনও।
আমাদের মার্তৃভূমি ডেস্ক : 





















