ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ০৫ মামলার পলাতক আসামি ডাকাত মনির’কে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।

ভুক্তভোগী ভিকটিম ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানাধীন চেচরীরামপুর ইউনিয়নের বানাই এলাকার বাসিন্দা। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৯ মার্চ ২০২৪ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা যার যার রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ০১০০ ঘটিকায় অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন ডাকাত বাঁশের মই দিয়ে ভিকটিমের বিল্ডিং এর ২য় তলায় উঠে দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। ছিটকিনি ভাঙ্গার শব্দে ভিকটিমের মেয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেলে তার রুমের বাহিরে বারান্দায় কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন লোককে দেখতে পায়। এসময় তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে ডাকাতদের মধ্য হতে ০২ জন ডাকাত তাকে ধাক্কা দিয়ে রুমে ভিতর প্রবশে করে এবং মেয়েকে চর/থাপ্পর মারলে তার চিৎকার শুনে অপর রুমে ঘুমিয়ে থাকা ভিকটিম এবং তার স্ত্রী’র ঘুম ভেঙ্গে যায়। ভিকটিম ও তার স্ত্রী মেয়ের রুমের দরজা খুললে ০৪ জন ডাকাত তাদের রুমে প্রবেশ করে ভিকটিমকে শাবল দিয়ে হাতে পায়ে আঘাত করে এবং গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে জবাই করার জন্য উদ্যত হলে ভিকটিমের স্ত্রী তার স্বামীকে প্রাণে বাচাঁনোর জন্য আকুতি-মিনতি করলে তাকেও সেলাই রেইঞ্জ দিয়ে পিঠে একাধিক আঘাত করে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারির চাবি নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আলমারির মধ্যে থাকা আনুমানিক ২০ ভড়ি স্বর্ণালংকার, ডায়মন্ডের নাক ফুল ও কানের দুল, এ্যান্ড্রয়েট মোবাইল সেট এবং নগদ ০১ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

উক্ত ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগী ভিকটিম মোঃ ইফসুফ আলী বাদী হয়ে ২২ মার্চ ২০২৪ইং তারিখ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০৮ তারিখ ২২ মার্চ ২০২৪, ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড ১৮৬০।

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পায়ে যে, উক্ত ডাকাতি মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ পলাতক আসামি মোঃ মনিরুল ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার মোড় এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল গত ২৬ মার্চ ২০২৪ইং তারিখ রাত আনুমানিক ০১৩০ ঘটিকায় বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ মনিরুল, পিতা-মৃত খায়রুল ইসলাম, সাং-বড় গৌরীচন্না, থানা-বরগুনা নদর, জেলা-বরগুনাকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আটককৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে উক্ত ডাকাতি মামলার পলাতক আসামি মর্মে স্বীকার করে। মামলা হওয়ার পর হতেই আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট থেকে গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা থেকে চট্টগ্রাম এসে আত্মগোপন করে আসছিল।

উল্লেখ্য, সিডিএমএস পর্যালোচনা করে আটককৃত আসামি মোঃ মনিরুল এর বিরুদ্ধে বরগুনা, পিরোজপুর এবং পটুয়াখলী জেলার বিভিন্ন থানায় ০৫ টি ডাকাতির মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ০৫ মামলার পলাতক আসামি ডাকাত মনির’কে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।

আপডেট সময় ০৩:০০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

ভুক্তভোগী ভিকটিম ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানাধীন চেচরীরামপুর ইউনিয়নের বানাই এলাকার বাসিন্দা। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৯ মার্চ ২০২৪ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা যার যার রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ০১০০ ঘটিকায় অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন ডাকাত বাঁশের মই দিয়ে ভিকটিমের বিল্ডিং এর ২য় তলায় উঠে দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। ছিটকিনি ভাঙ্গার শব্দে ভিকটিমের মেয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেলে তার রুমের বাহিরে বারান্দায় কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন লোককে দেখতে পায়। এসময় তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে ডাকাতদের মধ্য হতে ০২ জন ডাকাত তাকে ধাক্কা দিয়ে রুমে ভিতর প্রবশে করে এবং মেয়েকে চর/থাপ্পর মারলে তার চিৎকার শুনে অপর রুমে ঘুমিয়ে থাকা ভিকটিম এবং তার স্ত্রী’র ঘুম ভেঙ্গে যায়। ভিকটিম ও তার স্ত্রী মেয়ের রুমের দরজা খুললে ০৪ জন ডাকাত তাদের রুমে প্রবেশ করে ভিকটিমকে শাবল দিয়ে হাতে পায়ে আঘাত করে এবং গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে জবাই করার জন্য উদ্যত হলে ভিকটিমের স্ত্রী তার স্বামীকে প্রাণে বাচাঁনোর জন্য আকুতি-মিনতি করলে তাকেও সেলাই রেইঞ্জ দিয়ে পিঠে একাধিক আঘাত করে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারির চাবি নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আলমারির মধ্যে থাকা আনুমানিক ২০ ভড়ি স্বর্ণালংকার, ডায়মন্ডের নাক ফুল ও কানের দুল, এ্যান্ড্রয়েট মোবাইল সেট এবং নগদ ০১ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

উক্ত ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগী ভিকটিম মোঃ ইফসুফ আলী বাদী হয়ে ২২ মার্চ ২০২৪ইং তারিখ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০৮ তারিখ ২২ মার্চ ২০২৪, ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড ১৮৬০।

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পায়ে যে, উক্ত ডাকাতি মামলার তদন্তে সন্দিগ্ধ পলাতক আসামি মোঃ মনিরুল ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার মোড় এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল গত ২৬ মার্চ ২০২৪ইং তারিখ রাত আনুমানিক ০১৩০ ঘটিকায় বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ মনিরুল, পিতা-মৃত খায়রুল ইসলাম, সাং-বড় গৌরীচন্না, থানা-বরগুনা নদর, জেলা-বরগুনাকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আটককৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে উক্ত ডাকাতি মামলার পলাতক আসামি মর্মে স্বীকার করে। মামলা হওয়ার পর হতেই আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট থেকে গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা থেকে চট্টগ্রাম এসে আত্মগোপন করে আসছিল।

উল্লেখ্য, সিডিএমএস পর্যালোচনা করে আটককৃত আসামি মোঃ মনিরুল এর বিরুদ্ধে বরগুনা, পিরোজপুর এবং পটুয়াখলী জেলার বিভিন্ন থানায় ০৫ টি ডাকাতির মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।