ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক ময়মনসিংহে উপপরিচালক হারুনের পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলী ঘোষণা (২০২৭–২০২৮) সেনবাগে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমন্বিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচি-২০২৬ অনুষ্ঠিত কলেজ শিক্ষকের কাছে ডাকযোগে কাফনের কাপড়, তদন্তে পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আতাহারে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’: বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোটের  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসেব দিলেন প্রশাসক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের কিং কোবরা সাপ উদ্ধার বয়সভিত্তিক দলে বিদেশি কোচ ও বিদেশে প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি উ. কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ না করলে শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার ওয়াশিংটন এবং সিউল তাদের এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে; যা শেষ হবে আগামী শুক্রবার। এই মহড়া শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ধরনের সামরিক মহড়ার জবাবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০১৭ সালের পর পিয়ংইয়ং প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য যথাযথ নয়, এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতি যদি ওয়াশিংটন না চায়, তাহলে তাদের অনর্থক এবং অকার্যকর যুদ্ধের মহড়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। যদি এই মহড়া বন্ধ না করা হয়, তাহলে পরবর্তী সব পরিণতির দায় ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।’

‘ভিজিল্যান্ট স্টর্ম’ নামে সোমবার ওয়াশিংটন এবং সিউল সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এতে দুই দেশের শত শত যুদ্ধবিমান টানা ২৪ ঘণ্টা আক্রমণ চালানোর মহড়া চালাচ্ছে।

সিউল বলেছে, রণতরীর ‘বিরল’ এই মোতায়েন উত্তর কোরিয়ার যেকোনও ধরনের উসকানির কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া-মার্কিন জোটের দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করেছে। বর্তমানে মার্কিন এই রণতরী ফিলিপাইন সাগরে ফ্লাইট অপারেশন পরিচালনা করছে।

গত অক্টোবরে চিরবৈরী প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক হামলার আদলে ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালানোর দাবি জানায় পিয়ংইয়ং। সেই সময় উত্তর কোরিয়া জানায়, মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক স্থাপনা, বিভিন্ন বন্দর এবং বিমানবন্দরকে ‘প্রতীকী’ নিশানা বানিয়ে সফল সামরিক মহড়া চালানো হয়েছে। এই মহড়ায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতীকী নিশানায় যথাযথভাবে আঘাত করেছে। আর মহড়ায় যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম।

গত বছর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আগামী পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে তিনি যেসব নতুন অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছেন তার বিশদ বিবরণ ছিল। এই পরিকল্পনায় তুলনামূলক ছোট যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক বোমা এবং সেগুলো বহন করার জন্য স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অস্ত্রের পরীক্ষায় কিম যে শুধুমাত্র অস্ত্র তৈরির ইচ্ছার তালিকা বাস্তবায়নে কাজ করছেন না, বরং সৈন্যদের সেসব অস্ত্র ব্যবহারেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তা প্রমাণ করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক হামলার আদলে সম্প্রতি কয়েকটি মহড়াও করেছে উত্তর কোরিয়া।

গত সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়াকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রধারী’ দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন কিম জং উন। আর রাষ্ট্রীয় এই তকমা একেবারে ‌‘অপরিবর্তনীয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আইনেও সংশোধন এনেছেন তিনি। পুরোনো আইনে কেবল আক্রান্ত হলেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি ছিল। কিন্তু সংশোধিত আইনে আত্মরক্ষার জন্যও এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের তৎপরতাও বৃদ্ধি করেছে উত্তর কোরিয়া; এখন পর্যন্ত দেশটি অন্তত ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উত্তর কোরিয়া ২০০৬ ও ২০০৭ সালের মাঝে অন্তত ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি উ. কোরিয়ার

আপডেট সময় ০৫:২০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২

দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ না করলে শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার ওয়াশিংটন এবং সিউল তাদের এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে; যা শেষ হবে আগামী শুক্রবার। এই মহড়া শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ধরনের সামরিক মহড়ার জবাবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০১৭ সালের পর পিয়ংইয়ং প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য যথাযথ নয়, এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতি যদি ওয়াশিংটন না চায়, তাহলে তাদের অনর্থক এবং অকার্যকর যুদ্ধের মহড়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। যদি এই মহড়া বন্ধ না করা হয়, তাহলে পরবর্তী সব পরিণতির দায় ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।’

‘ভিজিল্যান্ট স্টর্ম’ নামে সোমবার ওয়াশিংটন এবং সিউল সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এতে দুই দেশের শত শত যুদ্ধবিমান টানা ২৪ ঘণ্টা আক্রমণ চালানোর মহড়া চালাচ্ছে।

সিউল বলেছে, রণতরীর ‘বিরল’ এই মোতায়েন উত্তর কোরিয়ার যেকোনও ধরনের উসকানির কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া-মার্কিন জোটের দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করেছে। বর্তমানে মার্কিন এই রণতরী ফিলিপাইন সাগরে ফ্লাইট অপারেশন পরিচালনা করছে।

গত অক্টোবরে চিরবৈরী প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক হামলার আদলে ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালানোর দাবি জানায় পিয়ংইয়ং। সেই সময় উত্তর কোরিয়া জানায়, মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক স্থাপনা, বিভিন্ন বন্দর এবং বিমানবন্দরকে ‘প্রতীকী’ নিশানা বানিয়ে সফল সামরিক মহড়া চালানো হয়েছে। এই মহড়ায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতীকী নিশানায় যথাযথভাবে আঘাত করেছে। আর মহড়ায় যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম।

গত বছর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আগামী পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে তিনি যেসব নতুন অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছেন তার বিশদ বিবরণ ছিল। এই পরিকল্পনায় তুলনামূলক ছোট যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক বোমা এবং সেগুলো বহন করার জন্য স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অস্ত্রের পরীক্ষায় কিম যে শুধুমাত্র অস্ত্র তৈরির ইচ্ছার তালিকা বাস্তবায়নে কাজ করছেন না, বরং সৈন্যদের সেসব অস্ত্র ব্যবহারেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তা প্রমাণ করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক হামলার আদলে সম্প্রতি কয়েকটি মহড়াও করেছে উত্তর কোরিয়া।

গত সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়াকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রধারী’ দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন কিম জং উন। আর রাষ্ট্রীয় এই তকমা একেবারে ‌‘অপরিবর্তনীয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আইনেও সংশোধন এনেছেন তিনি। পুরোনো আইনে কেবল আক্রান্ত হলেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি ছিল। কিন্তু সংশোধিত আইনে আত্মরক্ষার জন্যও এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের তৎপরতাও বৃদ্ধি করেছে উত্তর কোরিয়া; এখন পর্যন্ত দেশটি অন্তত ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উত্তর কোরিয়া ২০০৬ ও ২০০৭ সালের মাঝে অন্তত ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।