ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযানে নামছে পুলিশের নতুন ‘স্পেশাল’ ইউনিট নেপালে কাদার ভেতর উদ্ধারকারীদের মরিয়া অনুসন্ধান, নিখোঁজ ৩০০০ সবজির চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা রংপুরের চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ইমরান হাশমি সরকার গুম, খুন ও নির্যাতনমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী রুশ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৩৭, আহত ৪২ লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হঠাৎ ঢাকাসহ ৪০ জেলায় সতর্কবার্তা

ইসলামপুরে কর্মসৃজন প্রকল্প কাজ চলছে ঢিলেঢালা, কাজে ব্যাপক ফাঁকি

জামালপুরের ইসলামপুর ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসৃচী ১১০ দিন কর্মদিবসের দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ ৪ফেব্রæয়ারী ২০২৩ শুরু হয়েছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচীর ১১০ দিন কর্ম দিবসে কাজ করার কথা। ১২টি ইউনিয়নের ৯৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৮শ ১৪জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা। দৈনিক শ্রমিক প্রতি ৪শ টাকা হারে মজুরী পাবেন। প্রকল্পে মোট ১২ কোটি ৩৮ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ৯৪টি প্রকল্পের অধিনে শ্রমিক নির্বাচন করে শ্রমিকদের হাতে জব কার্ড বিতরণ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে কাজ শুরু করার কথা ওইসব প্রকল্পের সভাপতিদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালের চর ইউনিয়নসহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নের চিত্র একই। গোয়ালের চর ইউনিয়নের ৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৭০নং প্রকল্প তারা বাড়ী পাকা রাস্তা হইতে নবীর উদ্দিনের বাড়ী হয়ে আবেদালীর বাড়ী ভায়া নোদার আলীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত। সেখানে ৪২জন শ্রমিক ৫কর্ম দিবস কাজ করার কথা থাকলেও কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা থেকে যে দিন কোন সাহেবেরা আসে ওই দিন শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়। সাবেক ইউপি সদস্য শাহার আলী চটকা জানান, প্রতিদিন ৪২জন শ্রমিক কাজ করলে ৪২ জন শ্রমিকের মজুরী আসে প্রতিদিন ১৬ হাজার ৮শ টাকা। ১১০ কর্মদিবসে ১৮ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক দিবস কাজ চলছে তাতে ৫ ভাগের এক ভাগ কাজ হয়নি (মাটি কাটেনি)। সিংহভাগ টাকা লুটপাটের পায়তারা চলছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

অপর দিকে পলবান্ধা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর সিরাজাবাদ আছমতের বাড়ী থেকে সদাগরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের শুরুতেই কিছু অংশ মাটি কাজ করতে দেখা যায়। ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্পে দেখা যায়, ওইসব প্রকল্পে কর্মদিবসে কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি। নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায় কোন শ্রমিক নেই।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান রোমান হাসানকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ১ম প্রকল্পের কাজের মেম্বার সাহেবরা নিজের পকেটে টাকা দিয়ে মাটি কেটেছে। তাদের হাতে টাকা নেই। তারপরেও প্রত্যেক প্রকল্পের সভাপতিরা এখন পর্যন্ত ২য় পর্যায়ের দেড়-দুই লক্ষ টাকা কাজ করেছে। তাছাড়া রমজান মাস হওয়া শ্রমিকরা সঠিক সময়ে আসতে পারে না। ঈদের পর থেকে একযোগে মাটি কেটে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মু. তানভীর হাসান রোমানকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, কোথায় মাটি মাটি কাটা হয়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটুকে মাটি কাটার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, কোথায় মাটি কাটা হচ্ছে না-সঠিক তথ্য জানান ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযানে নামছে পুলিশের নতুন ‘স্পেশাল’ ইউনিট

ইসলামপুরে কর্মসৃজন প্রকল্প কাজ চলছে ঢিলেঢালা, কাজে ব্যাপক ফাঁকি

আপডেট সময় ০২:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩

জামালপুরের ইসলামপুর ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসৃচী ১১০ দিন কর্মদিবসের দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ ৪ফেব্রæয়ারী ২০২৩ শুরু হয়েছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচীর ১১০ দিন কর্ম দিবসে কাজ করার কথা। ১২টি ইউনিয়নের ৯৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৮শ ১৪জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা। দৈনিক শ্রমিক প্রতি ৪শ টাকা হারে মজুরী পাবেন। প্রকল্পে মোট ১২ কোটি ৩৮ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ৯৪টি প্রকল্পের অধিনে শ্রমিক নির্বাচন করে শ্রমিকদের হাতে জব কার্ড বিতরণ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে কাজ শুরু করার কথা ওইসব প্রকল্পের সভাপতিদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালের চর ইউনিয়নসহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নের চিত্র একই। গোয়ালের চর ইউনিয়নের ৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৭০নং প্রকল্প তারা বাড়ী পাকা রাস্তা হইতে নবীর উদ্দিনের বাড়ী হয়ে আবেদালীর বাড়ী ভায়া নোদার আলীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত। সেখানে ৪২জন শ্রমিক ৫কর্ম দিবস কাজ করার কথা থাকলেও কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা থেকে যে দিন কোন সাহেবেরা আসে ওই দিন শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়। সাবেক ইউপি সদস্য শাহার আলী চটকা জানান, প্রতিদিন ৪২জন শ্রমিক কাজ করলে ৪২ জন শ্রমিকের মজুরী আসে প্রতিদিন ১৬ হাজার ৮শ টাকা। ১১০ কর্মদিবসে ১৮ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক দিবস কাজ চলছে তাতে ৫ ভাগের এক ভাগ কাজ হয়নি (মাটি কাটেনি)। সিংহভাগ টাকা লুটপাটের পায়তারা চলছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

অপর দিকে পলবান্ধা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর সিরাজাবাদ আছমতের বাড়ী থেকে সদাগরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের শুরুতেই কিছু অংশ মাটি কাজ করতে দেখা যায়। ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্পে দেখা যায়, ওইসব প্রকল্পে কর্মদিবসে কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি। নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায় কোন শ্রমিক নেই।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান রোমান হাসানকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ১ম প্রকল্পের কাজের মেম্বার সাহেবরা নিজের পকেটে টাকা দিয়ে মাটি কেটেছে। তাদের হাতে টাকা নেই। তারপরেও প্রত্যেক প্রকল্পের সভাপতিরা এখন পর্যন্ত ২য় পর্যায়ের দেড়-দুই লক্ষ টাকা কাজ করেছে। তাছাড়া রমজান মাস হওয়া শ্রমিকরা সঠিক সময়ে আসতে পারে না। ঈদের পর থেকে একযোগে মাটি কেটে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মু. তানভীর হাসান রোমানকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, কোথায় মাটি মাটি কাটা হয়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটুকে মাটি কাটার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, কোথায় মাটি কাটা হচ্ছে না-সঠিক তথ্য জানান ব্যবস্থা নেওয়া হবে।