ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মামলা প্রত্যাহার না করলে মিলবে না নীতি সহায়তা জ্বালানি সংকট দূর করতে নেওয়া হচ্ছে তিন পরিকল্পনা: সেতুমন্ত্রী এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সভা মাছের উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বাংগরা বাজার থানায় মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো গোষ্ঠীর একক অর্জন নয় : ববি হাজ্জাজ এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ‘লাইনম্যানের’ হাতে খুন হন একরাম

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কথিত লাইনম্যানের নেতৃত্বে একদল লোকের হাতে নির্মমভাবে খুন হন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের অটোরিকশাচালক একরাম হোসেন (২০)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার লাইনম্যান নুর আহাম্মদ (৪০) এবং অভিযুক্ত তিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে।

গ্রেপ্তার বাকি তিন অটোরিকশা চালক হলেন— মো. জাহেদ হোসেন (২০), মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাকিব (২০) ও মো. ইসমাইল হোসেন রোনা (২৪)। গ্রেপ্তার চার জনের বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। পিবিআই সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী একরাম তার অটোরিকশা নিয়ে সড়কে বের হন। ওই দিন রাত ৮টা ২৫ মিনিটে দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যম মহাদেবপুর এলাকায় ইপসা অফিসের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাকে রক্তাক্ত এবং আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই নুরুল হুদা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে পিবিআই। একপর্যায়ে ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড শুনানি শেষে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ খানের আদালত আসামি নূর আহাম্মদ ও জাহেদ হোসেনের চার দিন এবং সাকিব ও রানার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে আনার পর আসামিদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে জানা যায়, আসামি নূর আহাম্মদ সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ বাইপাস সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মূলত অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি চাঁদা আদায়ের জন্য এই সমিতি খুলেন তিনি। অন্য আসামিরা অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি চাঁদা আদায়ে নুর আহাম্মদের সহযোগী ছিলেন। এই লাইনে অটোরিকশা চালাতে হলে প্রত্যেক চালককে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। ভুক্তভোগী একরামকে আসামি নুর আহাম্মদ চাঁদা দিতে চাপ দেন। কিন্তু একরাম চাঁদা দিয়ে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুর আহাম্মদ একরামকে খুন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) নাজমুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক হওয়ায় আমরা তথ্য পাই আসামিরাও অটোরিকশা চালক। এরপর বেশ কয়েকজন অটোরিকশা চালককে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। একপর্যায়ে দুই জন আসামি শনাক্ত হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে বাকি দুই জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা গেছে চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই চার জনই ভুক্তভোগীকে খুন করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, আসামিরা পিবিআইয়ের হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। আজ (শনিবার) সকালে তাদের সীতাকুণ্ডে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় পিবিআইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মো. নুরুল হুদা। তিনি বলেন, আমার ভাই কী কারণে কাদের হাতে মারা গেছে আমরা কেউ জানতাম না। মারা যাওয়ার আগে আমার ভাই একদিন আমার মাকে চাঁদার কথা বলেছিলেন। তবে আমরা বিষয়টি খেয়াল করিনি। পিবিআই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মামলা প্রত্যাহার না করলে মিলবে না নীতি সহায়তা

চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ‘লাইনম্যানের’ হাতে খুন হন একরাম

আপডেট সময় ০২:১৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কথিত লাইনম্যানের নেতৃত্বে একদল লোকের হাতে নির্মমভাবে খুন হন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের অটোরিকশাচালক একরাম হোসেন (২০)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার লাইনম্যান নুর আহাম্মদ (৪০) এবং অভিযুক্ত তিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে।

গ্রেপ্তার বাকি তিন অটোরিকশা চালক হলেন— মো. জাহেদ হোসেন (২০), মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাকিব (২০) ও মো. ইসমাইল হোসেন রোনা (২৪)। গ্রেপ্তার চার জনের বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। পিবিআই সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী একরাম তার অটোরিকশা নিয়ে সড়কে বের হন। ওই দিন রাত ৮টা ২৫ মিনিটে দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যম মহাদেবপুর এলাকায় ইপসা অফিসের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাকে রক্তাক্ত এবং আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই নুরুল হুদা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে পিবিআই। একপর্যায়ে ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড শুনানি শেষে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ খানের আদালত আসামি নূর আহাম্মদ ও জাহেদ হোসেনের চার দিন এবং সাকিব ও রানার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে আনার পর আসামিদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে জানা যায়, আসামি নূর আহাম্মদ সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ বাইপাস সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মূলত অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি চাঁদা আদায়ের জন্য এই সমিতি খুলেন তিনি। অন্য আসামিরা অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি চাঁদা আদায়ে নুর আহাম্মদের সহযোগী ছিলেন। এই লাইনে অটোরিকশা চালাতে হলে প্রত্যেক চালককে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। ভুক্তভোগী একরামকে আসামি নুর আহাম্মদ চাঁদা দিতে চাপ দেন। কিন্তু একরাম চাঁদা দিয়ে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুর আহাম্মদ একরামকে খুন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) নাজমুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক হওয়ায় আমরা তথ্য পাই আসামিরাও অটোরিকশা চালক। এরপর বেশ কয়েকজন অটোরিকশা চালককে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। একপর্যায়ে দুই জন আসামি শনাক্ত হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে বাকি দুই জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা গেছে চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই চার জনই ভুক্তভোগীকে খুন করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, আসামিরা পিবিআইয়ের হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। আজ (শনিবার) সকালে তাদের সীতাকুণ্ডে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় পিবিআইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মো. নুরুল হুদা। তিনি বলেন, আমার ভাই কী কারণে কাদের হাতে মারা গেছে আমরা কেউ জানতাম না। মারা যাওয়ার আগে আমার ভাই একদিন আমার মাকে চাঁদার কথা বলেছিলেন। তবে আমরা বিষয়টি খেয়াল করিনি। পিবিআই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।