ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যপাড়া পাথর খনির এমডি পদে পুনরায় যোগ দিলেন প্রকৌশলী ডি. এম. জোবায়েদ হোসেন কালোবাজারি চক্রের হাতে জিম্মি রেলের টিকিট, অভিযোগের কেন্দ্রে সহজ ডটকমের কর্মী রাবি শিক্ষার্থী পেলেন ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ আগামী দুই দিন শুষ্ক থাকবে আবহাওয়া, কমবে তাপ নিজ কক্ষে ডেকে নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রাবি অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে রাজউকে নকশা অনুমোদনে ৫–৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ, অভিযুক্ত অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলাম আগারগাঁওয়ে হচ্ছে নতুন সচিবালয়, মন্ত্রিসভার অনুমোদন ১৫ মামলার আসামি রাসেলসহ গ্রেপ্তার ৬, উদ্ধার ৯ মোটরসাইকেল খাদ্যে অনিয়ম: সাত দিনে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা ঢাকায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুর রাকিবের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

খাদ্যে অনিয়ম: সাত দিনে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা

দেশজুড়ে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত সাত দিনে ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিএফএসএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়াই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক দেখাতে না পারার মতো অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
ঢাকার বাইরে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে না পারা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি, খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড পাত্রে রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ছয়টি মামলা করা হয়।
এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের ‘মৌচাক বেকারি’তে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় এ জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্যস্থাপনাগুলোতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি করা হয়। এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপাড়া পাথর খনির এমডি পদে পুনরায় যোগ দিলেন প্রকৌশলী ডি. এম. জোবায়েদ হোসেন

খাদ্যে অনিয়ম: সাত দিনে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় ০৭:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশজুড়ে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত সাত দিনে ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিএফএসএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়াই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক দেখাতে না পারার মতো অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
ঢাকার বাইরে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে না পারা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি, খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড পাত্রে রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ছয়টি মামলা করা হয়।
এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের ‘মৌচাক বেকারি’তে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় এ জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্যস্থাপনাগুলোতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি করা হয়। এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।