ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে দিল্লি যাচ্ছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোরহানউদ্দিনে যানজটে আটকে ফায়ার সার্ভিস, জরুরি সেবা নিয়ে শঙ্কা-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দুর্গাপূজায় টানা ৩ দিন বন্ধ ব্যাংক, শনিবার খোলা সার-বিদ্যুতের সংকট তুলে ধরে প্রতিপক্ষকে জামায়াত প্রার্থীর প্রশ্ন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে রাশেদ খানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মাগুরায় রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হলো কৃষকের ১ হাজার কলাগাছ ধামরাইয়ে দুই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ষাটের দশকের অভিনেত্রী নাসিমা খান ওমরাহ করতে গিয়ে ফেরা হলো না, রিয়াদে হামলায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষক

নওগাঁয় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অভিযুক্ত জাকারিয়া গ্রেপ্তার

নওগাঁর মান্দায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক বৃদ্ধকে মারধর করে নারীর সঙ্গে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মো. জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন (৬২) রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর পূর্বপরিচিত এক নারী ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলে তাঁকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার পরিকল্পনায় অন্য আসামিরাও এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বাড়িতে কথাবার্তার একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে জোরপূর্বক অপর এক নারী আসামির সঙ্গে অশ্লীল ও নগ্ন ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজন চাঁদার টাকা দেওয়ার কথা বলে একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর, রোববার, মান্দা থানায় মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ১১। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

মামলার পর মান্দা থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও মোহনপুর ও মান্দা থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার প্রকৃতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নওগাঁয় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অভিযুক্ত জাকারিয়া গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৭:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর মান্দায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক বৃদ্ধকে মারধর করে নারীর সঙ্গে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মো. জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন (৬২) রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর পূর্বপরিচিত এক নারী ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলে তাঁকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার পরিকল্পনায় অন্য আসামিরাও এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বাড়িতে কথাবার্তার একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে জোরপূর্বক অপর এক নারী আসামির সঙ্গে অশ্লীল ও নগ্ন ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজন চাঁদার টাকা দেওয়ার কথা বলে একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর, রোববার, মান্দা থানায় মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ১১। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

মামলার পর মান্দা থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও মোহনপুর ও মান্দা থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার প্রকৃতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।