গণভোটের রায়ের প্রশ্নে সরকারের (আইনমন্ত্রীর) অনড় অবস্থানের বিপরীতে জামায়াতের স্পষ্ট অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-তে পড়েছে। এই রায় বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াত কোনো নমনীয়তা দেখাবে না। এই মুহূর্তে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের চেয়ে বড় কোনো ইস্যু নেই। জনগণের ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেওয়া হবে না। সংসদ ব্যর্থ হলে জামায়াত জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ছয় মাসের সংসদীয় পথচলায় এই প্রথম দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, বর্তমান জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে দলটির অনড় অবস্থান এই মতবিনিময়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে সভার বিস্তারিত তুলে ধরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে চায়। সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে লক্ষ্য করা গেছে, দলটি প্রথাগত সহিংস ও অস্থিতিশীল রাজনীতির বিপরীতে ‘ইনসাফভিত্তিক’ সংসদীয় চর্চায় মনোনিবেশ করছে।
সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার জামায়াতের ‘গঠনমূলক রাজনীতি’র বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, বিরোধী দল মানেই কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় ঐক্যের মূল নীতি হলো-সরকারের জনকল্যাণমূলক ও ভালো কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী ও মন্দ কাজের গঠনমূলক প্রতিবাদ করা। অতীতে দেশের বিরোধী রাজনীতির যে নেতিবাচক ও ব্যর্থ প্রথা ছিল, তা ভেঙে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র উত্তরণে জামায়াত বদ্ধপরিকর। এই কৌশলগত অবস্থান দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মতবিনিময় সভায় সম্পাদকদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের কার্যকর মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য। এদিনের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সভায় জামায়াতের আমিরের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও স্বনামধন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























