ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সন্ধ্যার মধ্যে ছয় জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে প্রাথমিক ভূমি পরিদর্শন ‘পিংক বাস’ সার্ভিসে এবার এলো ই-টিকিটিং সেবা দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে : মঈন খান এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা ইতিহাসে প্রথমবার এমন লজ্জায় পড়ল বাংলাদেশ হরমুজকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা করে মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ নয়, রেগুলেট করা : তথ্যমন্ত্রী পার্থ

দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে : মঈন খান

বিগত ১৭ বছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমার মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের কাছে সরকারি সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৫০টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম। কারণ, সরকারের মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা এবং এ মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করে। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি সঠিকভাবে কাজ করলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জনগণের কাছে সঠিকভাবে সেবা পৌঁছে দিতে পারলে এর সুফল পুরো দেশ ও সরকার পাবে। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। স্থানীয় সরকার বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছ থেকেও তিনি অনেক কিছু শিখবেন বলে মন্তব্য করেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সরকার অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হলেও এই ক্ষমতা সরকারের নিজস্ব নয়। জনগণই এ ক্ষমতার উৎস। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ যাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠায়, তারাই সরকার পরিচালনা করেন। জনগণের দেওয়া সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সচ্ছল মানুষ নিজেদের অনেক প্রয়োজন নিজেরাই পূরণ করতে পারেন। কিন্তু দরিদ্র মানুষ সরকারি সহায়তা ও সেবার ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাই তাদের অধিকার ও প্রয়োজন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ কোনো না কোনোভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম জড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিল, তখন জিয়াউর রহমান সাহসের সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সম্মুখ সমরে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশবাসী তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

তিনি বলেন, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে রাজনীতিতে এসেছিলেন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া নিজের জন্য একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের সঙ্গে মিশে, তাদের কাতারে দাঁড়িয়ে এবং প্রতিমন্ত্রীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের সেবা করতে চান।

এ সময় মন্ত্রী অতীতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তখন বিচারকদের স্বাধীনভাবে রায় লেখার সুযোগ ছিল না। মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়া হতো। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জনগণের কাছে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দিতে চাই৷

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ধ্যার মধ্যে ছয় জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে : মঈন খান

আপডেট সময় ১২:৩৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বিগত ১৭ বছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমার মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের কাছে সরকারি সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৫০টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম। কারণ, সরকারের মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা এবং এ মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করে। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি সঠিকভাবে কাজ করলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জনগণের কাছে সঠিকভাবে সেবা পৌঁছে দিতে পারলে এর সুফল পুরো দেশ ও সরকার পাবে। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। স্থানীয় সরকার বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছ থেকেও তিনি অনেক কিছু শিখবেন বলে মন্তব্য করেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সরকার অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হলেও এই ক্ষমতা সরকারের নিজস্ব নয়। জনগণই এ ক্ষমতার উৎস। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ যাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠায়, তারাই সরকার পরিচালনা করেন। জনগণের দেওয়া সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সচ্ছল মানুষ নিজেদের অনেক প্রয়োজন নিজেরাই পূরণ করতে পারেন। কিন্তু দরিদ্র মানুষ সরকারি সহায়তা ও সেবার ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাই তাদের অধিকার ও প্রয়োজন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ কোনো না কোনোভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম জড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিল, তখন জিয়াউর রহমান সাহসের সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সম্মুখ সমরে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশবাসী তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

তিনি বলেন, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে রাজনীতিতে এসেছিলেন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া নিজের জন্য একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের সঙ্গে মিশে, তাদের কাতারে দাঁড়িয়ে এবং প্রতিমন্ত্রীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের সেবা করতে চান।

এ সময় মন্ত্রী অতীতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তখন বিচারকদের স্বাধীনভাবে রায় লেখার সুযোগ ছিল না। মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়া হতো। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জনগণের কাছে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দিতে চাই৷

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।