ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ  সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হচ্ছেন ‘জুনিয়র শিক্ষক’ শফিউল্লাহ মজুমদার কিরণ? বনের জমি দখলে বিট কর্মকর্তা মানিকের সহযোগিতার অভিযোগ শত কোটি টাকার নদী খনন প্রকল্পের ছাইদুর রহমানের অনিময় দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি-লুটপাটের অভিযোগ আমার আল্লাহ ছাড়া কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চাই না: ভাবনা বিনা স্বার্থে চিকিৎসা সেবা প্রধান করায়, তোপের মুখে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত প্রাথমিক চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম  জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৩ অনুষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ

দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত থেকে নিজের নাম বাদ দিতে এবং অপকর্ম আড়াল করতে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ঠিকাদার ও বিসিসির একাধিক সূত্র জানায়, নির্ধারিত হারে ঘুষ না পেলে কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না হুমায়ুন কবির।

সংস্কারের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের অ্যানেক্স ভবন সংস্কারের নামে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ প্রধান প্রকৌশলীর কাছে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশালে তার একটি ছয়তলা ভবন এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এবং সেই ব্যবসার তদারকিতে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, কাজ পাওয়ার পর থেকে বিল ছাড় হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ঘুষ দিতে হয়, যার বড় অংশ প্রকৌশল শাখায় যায়। তাদের দাবি, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। ঘুষ না দিলে বিলের ফাইল আটকে রেখে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।

বকেয়া বিল ছাড়েও ঘুষের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও প্রয়াত আহসান হাবিব কামালের আমলের বকেয়া বিল ছাড় করাতেও বড় অঙ্কের কমিশন নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ১ থেকে দেড় কোটি টাকার বিল ছাড়ের বিপরীতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে, যা প্রকৌশল শাখার বিভিন্ন কর্মকর্তার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো।

মামলা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলারও আসামি হুমায়ুন কবির। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে গঠিত ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ’ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন শাখার প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি।

শাস্তির বদলে পদোন্নতির অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও উল্টো সাবেক নগর প্রশাসক রায়হান কাউসার তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেন, যা নিয়ে বিসিসির ভেতরে-বাইরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ ও অন্যান্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ 

দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির

আপডেট সময় ১১:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত থেকে নিজের নাম বাদ দিতে এবং অপকর্ম আড়াল করতে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ঠিকাদার ও বিসিসির একাধিক সূত্র জানায়, নির্ধারিত হারে ঘুষ না পেলে কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না হুমায়ুন কবির।

সংস্কারের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের অ্যানেক্স ভবন সংস্কারের নামে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ প্রধান প্রকৌশলীর কাছে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশালে তার একটি ছয়তলা ভবন এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এবং সেই ব্যবসার তদারকিতে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, কাজ পাওয়ার পর থেকে বিল ছাড় হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ঘুষ দিতে হয়, যার বড় অংশ প্রকৌশল শাখায় যায়। তাদের দাবি, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। ঘুষ না দিলে বিলের ফাইল আটকে রেখে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।

বকেয়া বিল ছাড়েও ঘুষের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও প্রয়াত আহসান হাবিব কামালের আমলের বকেয়া বিল ছাড় করাতেও বড় অঙ্কের কমিশন নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ১ থেকে দেড় কোটি টাকার বিল ছাড়ের বিপরীতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে, যা প্রকৌশল শাখার বিভিন্ন কর্মকর্তার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো।

মামলা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলারও আসামি হুমায়ুন কবির। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে গঠিত ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ’ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন শাখার প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি।

শাস্তির বদলে পদোন্নতির অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও উল্টো সাবেক নগর প্রশাসক রায়হান কাউসার তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেন, যা নিয়ে বিসিসির ভেতরে-বাইরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ ও অন্যান্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।