ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার ছাড়ার চেষ্টা করায় ১১২ রোহিঙ্গাকে কারাদণ্ড

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের একটি আদালত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১১২ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। যার মধ্যে ১২ জন শিশুও রয়েছে। জানা গেছে, বৈধ কোনো কাগজপত্র ছাড়া মিয়ানমার ছাড়ার চেষ্টা করায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘দক্ষিণাঞ্চলের আয়াবতি অঞ্চলের বোগালে শহরের একটি আদালত গত ৬ জানুয়ারি ১১২ জনের দলটিকে এ কারাদণ্ড দেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের আটক করা হয়। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়া একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পাওয়া যায়।

যে ১২ জন শিশুকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ১৩ বছরের কম। এই পাঁচ শিশুকে দুই বছরের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বাকি শিশুদের তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সব শিশুকে ‘শিশু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট।

এদিকে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লাখ লাখ মুসলিমকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। ফলে রোহিঙ্গারা ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন। উল্টো তাদের ওপর চলে নির্যাতন।

ক্যাম্পের দুর্বিষহ জীবন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গারা ছোট ছোট নৌকায় করে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করে থাকেন। কয়েকদিন আগেও ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে ১৮৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। যারা কয়েক সপ্তাহ সাগরে ভেসে ছিলেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাই কমিশনার জানিয়েছেন, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে প্রায় ছয় গুণ বেশি রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমার ছাড়ার চেষ্টা করায় ১১২ রোহিঙ্গাকে কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০২:৩১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৩

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের একটি আদালত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১১২ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। যার মধ্যে ১২ জন শিশুও রয়েছে। জানা গেছে, বৈধ কোনো কাগজপত্র ছাড়া মিয়ানমার ছাড়ার চেষ্টা করায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘দক্ষিণাঞ্চলের আয়াবতি অঞ্চলের বোগালে শহরের একটি আদালত গত ৬ জানুয়ারি ১১২ জনের দলটিকে এ কারাদণ্ড দেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের আটক করা হয়। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়া একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পাওয়া যায়।

যে ১২ জন শিশুকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ১৩ বছরের কম। এই পাঁচ শিশুকে দুই বছরের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বাকি শিশুদের তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সব শিশুকে ‘শিশু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট।

এদিকে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লাখ লাখ মুসলিমকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। ফলে রোহিঙ্গারা ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন। উল্টো তাদের ওপর চলে নির্যাতন।

ক্যাম্পের দুর্বিষহ জীবন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গারা ছোট ছোট নৌকায় করে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করে থাকেন। কয়েকদিন আগেও ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে ১৮৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। যারা কয়েক সপ্তাহ সাগরে ভেসে ছিলেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাই কমিশনার জানিয়েছেন, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে প্রায় ছয় গুণ বেশি রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।