ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি আমরা হাতে নিয়ে বসে আছি: ইশরাক হোসেন দেশের সব প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী আবারও ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে আর্জেন্টিনা চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন পবিপ্রবিতে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও বায়োইকোনমি বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের মৃত্যু, লক্ষ্মীপুরে শোকের মাতম বানভাসি মানুষের পাশে নীলফামারীর ‘তারুণ্যের আলো সেবা সংঘ’: সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে নীলফামারী জেলা পুলিশের শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা আটক বরগুনার আমতলীতে মিথ্যা মামলা ও মানহানিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের মৃত্যু, লক্ষ্মীপুরে শোকের মাতম

বিদেশের মাটিতে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের দুই সহোদর। মর্মান্তিক এই সংবাদে গ্রামজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল।
নিহতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। তাঁরা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের খলিফাবাড়ির ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের (কুট্টি) বড় ও মেজো ছেলে। জীবিকার তাগিদে দুই ভাই সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

নিহতদের সহকর্মী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে (ভোররাতে) সৌদি আরবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। তাঁদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে দুই ভাই প্রাণ হারান।
গতকাল বুধবার দুই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কামারহাট বাজারসহ পুরো চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। আদরের দুই সন্তানকে হারিয়ে বাবা আব্দুল মালেক ও মা এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গণিপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত বিনয়ী, পরোপকারী ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের বড় দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এলাকাবাসী জানান, তাঁরা কেবল পরিবারের হাল ধরতেই প্রবাসে গিয়েছিলেন, কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ঢল নেমেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল তাঁদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় আছেন। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। স্বজনদের আকুতি, অন্তত শেষবারের মতো যেন দুই ভাইয়ের মুখ দেখার সুযোগ পান এবং নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করতে পারেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি আমরা হাতে নিয়ে বসে আছি: ইশরাক হোসেন

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের মৃত্যু, লক্ষ্মীপুরে শোকের মাতম

আপডেট সময় ০৫:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিদেশের মাটিতে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের দুই সহোদর। মর্মান্তিক এই সংবাদে গ্রামজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল।
নিহতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। তাঁরা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের খলিফাবাড়ির ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের (কুট্টি) বড় ও মেজো ছেলে। জীবিকার তাগিদে দুই ভাই সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

নিহতদের সহকর্মী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে (ভোররাতে) সৌদি আরবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। তাঁদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে দুই ভাই প্রাণ হারান।
গতকাল বুধবার দুই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কামারহাট বাজারসহ পুরো চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। আদরের দুই সন্তানকে হারিয়ে বাবা আব্দুল মালেক ও মা এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গণিপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত বিনয়ী, পরোপকারী ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের বড় দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এলাকাবাসী জানান, তাঁরা কেবল পরিবারের হাল ধরতেই প্রবাসে গিয়েছিলেন, কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ঢল নেমেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল তাঁদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় আছেন। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। স্বজনদের আকুতি, অন্তত শেষবারের মতো যেন দুই ভাইয়ের মুখ দেখার সুযোগ পান এবং নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করতে পারেন।