সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখা-৫ এর কর্মচারী মিজানের বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে সাড়ে ৭ কোটি টাকার টেন্ডারে নয়ছয়ের অভিযোগ তিন মহাদেশে স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবসা, আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ দুই মাসের বকেয়াসহ জুলাই থেকেই নিয়মিত বেতন পাবেন মাদরাসাশিক্ষকরা : শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রের টাকায় নিজের ‘ভবিষ্যৎ’ গড়লেন সামি! পছন্দের ঠিকাদারকে মাল বুঝে না পেয়েই বিল দিতে তড়িঘড়ি শাহীনের রোমেরোর প্রত্যাবর্তনে স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা, খেলবেন কেপ ভার্দের বিপক্ষে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের নয় জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

তিন মহাদেশে স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবসা, আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি না নিয়ে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিখাতের উদ্যোক্তা ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এসব কোম্পানির বিনিয়োগ ও আয়ের কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে নেই বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। যদিও প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

দেশীয় ব্যবসার আড়ালে বিদেশি প্রতিষ্ঠান

আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম পুরনো প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা প্রযুক্তি খাত ছাড়িয়ে খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বও রয়েছে তাদের।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন জহিরুল ও মাঝহারুল ইসলাম। কোম্পানিটির প্রাথমিক মূলধন ছিল ছয় মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা, যেখানে দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান।

সিঙ্গাপুরের সরকারি নথি অনুযায়ী, কোম্পানিটি তুরস্কের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের নাগরিক পরিচয় অর্জনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।

দুবাইয়েও দুই প্রতিষ্ঠান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও জহিরুল ব্রাদার্সের নামে দুটি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর একটি ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’, যা ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। এতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ। কোম্পানিটির ব্যবসা আফ্রিকাসহ তিন মহাদেশে বিস্তৃত বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় অবস্থিত। এই কোম্পানির ব্যবসাও একাধিক দেশে বিস্তৃত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এনবিআরের নথিতে নেই তথ্য

এসব বিদেশি বিনিয়োগ ও আয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কাছে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আয়কর নথিতেও এসব কোম্পানি থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জহিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য দেননি।

তদন্তে স্থবিরতা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অর্থপাচারের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখতে হবে।”

উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবসরে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখা-৫ এর কর্মচারী মিজানের বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড়

তিন মহাদেশে স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবসা, আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:১৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি না নিয়ে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিখাতের উদ্যোক্তা ও স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এসব কোম্পানির বিনিয়োগ ও আয়ের কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে নেই বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম বিদেশে অন্তত তিনটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। যদিও প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

দেশীয় ব্যবসার আড়ালে বিদেশি প্রতিষ্ঠান

আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম পুরনো প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস নব্বইয়ের দশকে কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা প্রযুক্তি খাত ছাড়িয়ে খাদ্য ও নির্মাণ খাতেও বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বও রয়েছে তাদের।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন জহিরুল ও মাঝহারুল ইসলাম। কোম্পানিটির প্রাথমিক মূলধন ছিল ছয় মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা, যেখানে দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান।

সিঙ্গাপুরের সরকারি নথি অনুযায়ী, কোম্পানিটি তুরস্কের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের নাগরিক পরিচয় অর্জনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।

দুবাইয়েও দুই প্রতিষ্ঠান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও জহিরুল ব্রাদার্সের নামে দুটি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর একটি ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’, যা ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। এতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ। কোম্পানিটির ব্যবসা আফ্রিকাসহ তিন মহাদেশে বিস্তৃত বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় অবস্থিত। এই কোম্পানির ব্যবসাও একাধিক দেশে বিস্তৃত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এনবিআরের নথিতে নেই তথ্য

এসব বিদেশি বিনিয়োগ ও আয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কাছে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আয়কর নথিতেও এসব কোম্পানি থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জহিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য দেননি।

তদন্তে স্থবিরতা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অর্থপাচারের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখতে হবে।”

উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবসরে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি।