ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা হলে কি কোনো অর্থ পান ফুটবলাররা? তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজির বাজারে ক্রেতা সংকট, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ীরা ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ ৪৫০ কোটির ‘কিং’ নিয়ে আসছেন বাবা-মেয়ে আওয়ামী লীগ আমলের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বন্যায় প্রাণহানি : রিজভী যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছেন বুশরা খান নিদ্রা প্রতারণা মামলায় বিএসবি গ্লোবালের খায়রুল বাশারের আরও ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ছিল। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর পিআইবি অডিটোরিয়ামে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মির্জা ফখরুল বলেন, “শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি, সক্ষমতা ও জনগণের ওপর। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনায় কাজ করছেন, তার মধ্যেও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, “শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময় সাধারণ মানুষ মুক্তির আশায় একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে আবারও বঞ্চিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে আমরা কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না। বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল যে বিপুল ভোটে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে। এমনকি আমাকে নিয়েও বলা হয়েছিল আমিও নাকি পরাজিত হবো। কিন্তু দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে। কারণ জনগণ বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান নিয়ে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

 

 

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা হলে কি কোনো অর্থ পান ফুটবলাররা?

জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:১৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ছিল। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর পিআইবি অডিটোরিয়ামে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মির্জা ফখরুল বলেন, “শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি, সক্ষমতা ও জনগণের ওপর। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনায় কাজ করছেন, তার মধ্যেও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, “শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময় সাধারণ মানুষ মুক্তির আশায় একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে আবারও বঞ্চিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে আমরা কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না। বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল যে বিপুল ভোটে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে। এমনকি আমাকে নিয়েও বলা হয়েছিল আমিও নাকি পরাজিত হবো। কিন্তু দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে। কারণ জনগণ বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান নিয়ে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।