শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন সাধারণ কর্মচারী (অফিস সহায়ক) মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতিবিহীন জীবন-যাত্রা ও অবৈধভাবে আত্মীয়দের নিয়োগ, ঠিকাদার ও সারাদেশের শিক্ষা প্রকৌশলের দুষ্টুচক্রের সঙ্গে নিবিড় সখ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১৫ বছর আগে সরকারি চাকরিতে ঢুকে নিম্নবেতনের চাকরি করে রাজধানীতে বাড়ি, গাড়িসহ তার নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জসিমের এমনসব ঘটনায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পুরো শিক্ষা মহলে নানা আলোচনা চলছে।
জসিম ইইডির প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে চাকরি করার সুযোগে নিজেকে কখনো পিএস, কখনো পিএ পরিচয় দেন। অর্থাৎ চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে দেখা করতে হলে জসিমের অনুমোদন দরকার হয়।
জসিমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের পক্ষে ছবি, তথ্য প্রমাণসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পত্রিকা অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
তবে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম উদ্দিন। তার ভাষ্যে, অভিযোগকারীরা সবাই তার সহকর্মী ও প্রতিপক্ষ এবং নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। জসিম দাবি করেন, অভিযোগকারীদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ৫ আগস্টের পর তাদের বাড়ীঘর ভেঙ্গেছে জুলাই আন্দোলনকারীরা।
বুধবার সকালে জসিম উদ্দিনকে প্রশ্ন করলে তিনি দাবি করেন, ‘গত ১৫ বছরের সব চিফ স্যারেরা আমাকে পছন্দ করায় আমার কিছু সহকর্মী আমার সঙ্গে প্রতিহিংসায় লিপ্ত। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বর্তমান চিফ স্যার আমাকে ডেকে জানতে চেয়েছেন এসব অভিযোগকারী হিসেবে সহকর্মীদের কাকে কাকে সন্দেহ হয় তার? জসিম কয়েকজনের কথা জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলীকে, এমন দাবি করেন।
জসিম উদ্দিন আরো দাবি করেন, “আমার সন্দেহভাজন অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু হবে। আজ বিকেলে চিফ স্যার অভ্যন্তরীন মিটিং ডেকেছেন।”
জসিমের দাবির সত্যতা জানতে ফোন করা হয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীকে। তিনি বলেন, ‘জসিমের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। একটু আধটু শুনেছি।
জসিমের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়, দুদক ও পত্রিকা অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং পোস্টার ও লিফলেট ছাপানোর সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করবেন আজ তথ্যে অবাক হয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী। তিনি বলেন, জসিমের এমন দাবির কোনো সত্যতা নেই। আজ বিকেলে যে সভা সেটা নিতান্তই অভ্যন্তরীন। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ বা সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত এমন কোনা বিষয় আলোচনা হবে না বিকেলের সভায়।
এদিকে লিখিত অভিযোগে জসিমের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় একটি বহুতল ভবন থাকার কথা বলা হয়েছে। (ঠিকানা: ১৬৭ তিতাস রোড, খানম টাওয়ার, রামপুরা, ঢাকা-১২০৭)। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরেও বাড়ির (ঠিকানা: ৬১৬/১ বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি, রোড-৬, আদাবার, ঢাকা-১২০৭)। খুলনার রূপসা উপজেলাতেও তার একটি বাড়ি থাকার কথা বলা হয়েছে।
জসিমের স্ত্রীর নামে ‘মেসার্স সাঈদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স খোলেন। এই লাইসেন্সের আড়ালেই মূলত অধিদপ্তরের বড় বড় কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। এমন অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে। তবে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেন জসিম।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যক্তির দুর্নীতির দায় অধিদপ্তর কোনোভাবেই নেবে না। জসিমের বিরুদ্ধে যদি অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মেলে, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণসহ যাবতীয় নির্মাণ কাজ করে ইইডি। এখানে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা ছাড়াও নানা গোষ্ঠী নানাভাবে জড়িত। শিক্ষাখাতে চাউর আছে, ইইডির কেউ ঘুষ খায় না। পার্সেন্টেজ খায়।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলামন নাহিদ ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ইইডির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘আপনারা ঘুষ খান কিন্তু একটু কম করে খান। ইইডির ডিডি পদে বহু বছর ছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের আসাদ। গত তিন বছর ধরে আসাদ এনসিটিবিতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















