সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনিক্যাল ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঝালকাঠিতে পৌর কবরস্থান-৫ এর উদ্বোধন বাজেট নয়, এটি প্রচারণার দলিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর জুড়ী-বড়লেখা সফর, ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নেবে ২ কোটি মানুষ এআই প্রযুক্তির পোষ্টার প্রদর্শনী ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে : আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা,কঠোর অবস্থানে বিজিবি নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে

সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় এবং সরকারে আয়ের টান পড়েছিলো। সেই টান এতটাই ব্যাপক ছিলো যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, যা খুবই মমার্ন্তিক। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ভাঙন ধরেছে। সে সময় ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে গিয়ে পুঁজি পায়নি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করতো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার এরকম কোনো সিন্ডিকেটের কাছে কোনো খাতকেই ইজারা দিতে চায় না, বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়। বিগত সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ঋণ করে লুটপাট করেছে। অতীতে ধমকা-ধমকির মাধ্যমে তথ্য জালিয়াতি করে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সকল তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়া ছাড়াও আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সীমিত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, এছাড়া এবারের বাজেটে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে ভতুর্কির ওপর নজর দিতে হচ্ছে। তবে বাজেট যাতে জনভোগান্তি না বাড়ায়, নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি না করে, ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’- শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম ও সাংবাদিক গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে

আপডেট সময় ০৪:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় এবং সরকারে আয়ের টান পড়েছিলো। সেই টান এতটাই ব্যাপক ছিলো যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, যা খুবই মমার্ন্তিক। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ভাঙন ধরেছে। সে সময় ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে গিয়ে পুঁজি পায়নি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করতো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার এরকম কোনো সিন্ডিকেটের কাছে কোনো খাতকেই ইজারা দিতে চায় না, বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়। বিগত সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ঋণ করে লুটপাট করেছে। অতীতে ধমকা-ধমকির মাধ্যমে তথ্য জালিয়াতি করে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সকল তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়া ছাড়াও আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সীমিত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, এছাড়া এবারের বাজেটে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে ভতুর্কির ওপর নজর দিতে হচ্ছে। তবে বাজেট যাতে জনভোগান্তি না বাড়ায়, নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি না করে, ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’- শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম ও সাংবাদিক গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।