সংবাদ শিরোনাম ::
মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয়

ব্যাংক লুটেরাদের ফেরার আতঙ্কে বিএবি, সুযোগ নেই বলে গভর্নরের আশ্বাস

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি। সংগঠনটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের টাকা লুট করা ব্যক্তিরা যদি এই ধারার সুযোগ নিয়ে আবারও মালিকানা বা পরিচালনায় ফিরে আসেন, তবে পুরো ব্যাংকিং খাতই বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আইনের কঠোর শর্তের কারণে এমন সুযোগ তৈরি হবে না।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

বিএবি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ. কে. আজাদ, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান, বিএবির ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, এই ধারার সুযোগ নিয়ে অতীতে ব্যাংক দখল, অনিয়ম কিংবা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবারও ব্যাংকের পরিচালনায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, আমরা গভর্নরকে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। যারা ব্যাংকিং খাতের টাকা লুট করেছে, তারা যদি এই ধারার সুবিধা নিয়ে ফিরে আসে, তবে পুরো খাতটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তবে গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আইনে এমন কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে, যা পূরণ করে অনিয়মকারীদের ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যাংক খাতকে আবারও ঝুঁকিতে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে না।

বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা মার্জার নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, ইতোমধ্যে যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই বলে গভর্নর জানিয়েছেন।

তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যাংক একীভূত করার আগে যেন পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হয়-এমন পরামর্শ দিয়েছে বিএবি। গভর্নরও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা সচল করতে বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আব্দুল হাই সরকার বলেন, ব্যাংকগুলো চলতি মূলধন সহায়তা দিতে পারে। তবে কেন কোনো কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানা সচল করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ সুবিধা সবাই পাবে না। শুধুমাত্র আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ক্রয়াদেশ রয়েছে, তারাই এই তহবিলের আওতায় আসতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তাদেরই এ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান আবারও সচল করা যায়

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র

ব্যাংক লুটেরাদের ফেরার আতঙ্কে বিএবি, সুযোগ নেই বলে গভর্নরের আশ্বাস

আপডেট সময় ০৯:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি। সংগঠনটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের টাকা লুট করা ব্যক্তিরা যদি এই ধারার সুযোগ নিয়ে আবারও মালিকানা বা পরিচালনায় ফিরে আসেন, তবে পুরো ব্যাংকিং খাতই বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আইনের কঠোর শর্তের কারণে এমন সুযোগ তৈরি হবে না।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

বিএবি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ. কে. আজাদ, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান, বিএবির ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, এই ধারার সুযোগ নিয়ে অতীতে ব্যাংক দখল, অনিয়ম কিংবা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবারও ব্যাংকের পরিচালনায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, আমরা গভর্নরকে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। যারা ব্যাংকিং খাতের টাকা লুট করেছে, তারা যদি এই ধারার সুবিধা নিয়ে ফিরে আসে, তবে পুরো খাতটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তবে গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আইনে এমন কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে, যা পূরণ করে অনিয়মকারীদের ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যাংক খাতকে আবারও ঝুঁকিতে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে না।

বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা মার্জার নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, ইতোমধ্যে যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই বলে গভর্নর জানিয়েছেন।

তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যাংক একীভূত করার আগে যেন পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হয়-এমন পরামর্শ দিয়েছে বিএবি। গভর্নরও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা সচল করতে বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আব্দুল হাই সরকার বলেন, ব্যাংকগুলো চলতি মূলধন সহায়তা দিতে পারে। তবে কেন কোনো কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানা সচল করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ সুবিধা সবাই পাবে না। শুধুমাত্র আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ক্রয়াদেশ রয়েছে, তারাই এই তহবিলের আওতায় আসতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তাদেরই এ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান আবারও সচল করা যায়