লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর দপ্তরের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে জনমনে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি- দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত চন্দ্রগঞ্জ বাজার ও থানাকেন্দ্রিক এলাকাকে বাদ দিয়ে ১১নং হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম সীমান্তবর্তী বটতলী নামক নির্জন এলাকায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের চিন্তা বাস্তবতা বিবর্জিত ও জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হবে।
স্থানীয়রা জানান, চন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকাজুড়ে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সুবিধা। এখানে রয়েছে চন্দ্রগঞ্জ থানা, চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানা, বিশ্ববিদ্যালয় মানের কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, ঐতিহ্যবাহী প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ইব্রাহিম মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। চন্দ্রগঞ্জ বাজার কেন্দ্রিক রয়েছে, ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ ,(ΕΙΙΝ: 13817- CODE: 7055) চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর। ৪টি ক্যাডেট ভিত্তিক মাদ্রাসা, মেসার্স শাহী সিএনজি গ্যাস পাম্প, মেসার্স ফ্লোরিডা ফিলিং ষ্টেশন পেট্রোল পাম্প৷
এছাড়াও রয়েছে চন্দ্রগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সরকারি-বেসরকারি প্রায় ১৫টি ব্যাংক, প্রথম সারির ৭টি বীমা কোম্পানির অফিস, উন্নতমানের দুটি কমিউনিটি সেন্টার এবং বৃহৎ বাণিজ্যিক অবকাঠামো।
ব্যবসায়ীদের দাবি, চন্দ্রগঞ্জ বাজার থেকেই সর্বোচ্চ কর, ভ্যাট ও ইজারার মাধ্যমে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ বাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেন। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই স্বয়ংসম্পূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও চন্দ্রগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এখানে রয়েছে ১০নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং অন্তত তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল। পাশাপাশি রামচন্দ্রপুর আশ্রয়ন প্রকল্প, ঐতিহ্যবাহী হযরত দেওয়ান শাহ মাজার ও মেলা, চন্দ্রগঞ্জ সাব-পোস্ট অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সু-বিশাল ডাকবাংলো এবং হাসেম অটো রাইস মিলসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এ এলাকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এতসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র “মধ্যবর্তী স্থান” বিবেচনায় প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে বটতলী এলাকায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য এটি হবে সময় ও অর্থের বাড়তি চাপ।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, উপজেলা সদর দপ্তর এমন স্থানে হওয়া উচিত যেখানে আগে থেকেই প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ। অন্যথায় নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের জোর দাবি, জনগণের মতামত, বিদ্যমান অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানাকেন্দ্রিক এলাকাতেই উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
হুমায়ুন কবির নিজস্ব প্রতিবেদক, 

























