সংবাদ শিরোনাম ::
আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান হবে ৪ শতাংশ : বাংলাদেশ ব্যাংক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবি বিরোধী দলীয় নেতার রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত মানিকনগর মডেল হাই স্কুলে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত নারী সাংবাদিকের মামলায় সুপ্রিম কোর্টেও হারলেন ট্রাম্প, দিতে হবে ৫ মিলিয়ন ডলার ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮ দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে মির্জা আব্বাস, চলছে পায়ের থেরাপি অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস

রাত ১১টা পর্যন্ত চলতে পারে মেট্রোরেল

যাত্রীদের চাহিদা ও সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেল চলাচলের সময় আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে মেট্রোরেল চালানোর সময়সীমা আরও ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বাড়তে পারে। এ লক্ষ্যে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, যা শেষ হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মে মাসের শেষদিকে অথবা ঈদুল আজহা’র পর নতুন সময়সূচি কার্যকর হতে পারে। নতুন পরিকল্পনায় ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে যেখানে পাঁচ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করে, সেখানে সময় কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করা হবে।

নতুন প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী শেষ ট্রেন রাত ১১টা পর্যন্ত চালানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই রুটে সর্বশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ১০টা ১০ মিনিটে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী শেষ ট্রেনও রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে এখন শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়।

বর্তমানে উত্তরা থেকে দিনের প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যায় সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত বছর অক্টোবরে এক দফা সময় বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে সকালে আধা ঘণ্টা আগে এবং রাতে আধা ঘণ্টা পরে ট্রেন চলাচল শুরু ও শেষ করা হয়। বর্তমানে এখন প্রতিদিন মোট ২৯৭টি ট্রিপ পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে।

চলাচলের ব্যবধান কমানো হলে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীসেবায় আরও গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য ব্যস্ত দিনে দুই ট্রেনের ব্যবধান পাঁচ মিনিট, যা কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এখন উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলের জন্য ২৪ সেট ট্রেন রয়েছে, প্রতিটিতে ছয়টি করে কোচ। পিক আওয়ারে ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪ সেট ট্রেন পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রযুক্তিগতভাবে সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। শুরুতে প্রকল্পের পরিকল্পনায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেন চালানোর কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে ধাপে ধাপে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রক্ষেপণে প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দৈনিক গড়ে সোয়া চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন, এবং কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুই দিক থেকেই চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হয়। প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল শুরু হলেও, পরে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করে ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা চালু করে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান হবে ৪ শতাংশ : বাংলাদেশ ব্যাংক

রাত ১১টা পর্যন্ত চলতে পারে মেট্রোরেল

আপডেট সময় ১২:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

যাত্রীদের চাহিদা ও সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেল চলাচলের সময় আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে মেট্রোরেল চালানোর সময়সীমা আরও ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বাড়তে পারে। এ লক্ষ্যে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, যা শেষ হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মে মাসের শেষদিকে অথবা ঈদুল আজহা’র পর নতুন সময়সূচি কার্যকর হতে পারে। নতুন পরিকল্পনায় ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে যেখানে পাঁচ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করে, সেখানে সময় কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করা হবে।

নতুন প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী শেষ ট্রেন রাত ১১টা পর্যন্ত চালানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই রুটে সর্বশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ১০টা ১০ মিনিটে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী শেষ ট্রেনও রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে এখন শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়।

বর্তমানে উত্তরা থেকে দিনের প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যায় সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত বছর অক্টোবরে এক দফা সময় বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে সকালে আধা ঘণ্টা আগে এবং রাতে আধা ঘণ্টা পরে ট্রেন চলাচল শুরু ও শেষ করা হয়। বর্তমানে এখন প্রতিদিন মোট ২৯৭টি ট্রিপ পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে।

চলাচলের ব্যবধান কমানো হলে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীসেবায় আরও গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য ব্যস্ত দিনে দুই ট্রেনের ব্যবধান পাঁচ মিনিট, যা কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এখন উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলের জন্য ২৪ সেট ট্রেন রয়েছে, প্রতিটিতে ছয়টি করে কোচ। পিক আওয়ারে ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪ সেট ট্রেন পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রযুক্তিগতভাবে সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। শুরুতে প্রকল্পের পরিকল্পনায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেন চালানোর কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে ধাপে ধাপে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রক্ষেপণে প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দৈনিক গড়ে সোয়া চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন, এবং কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুই দিক থেকেই চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হয়। প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল শুরু হলেও, পরে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করে ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা চালু করে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।