ইসরায়েলি বাহিনী ‘দখলকৃত আমাদের (লেবানন) ভূমির এক ইঞ্চিও দখলে রাখতে পারবে না। আপনারা যত খুশি হুমকি দিন-আমরা পিছু হটব না, নত হব না, পরাজিতও হব না।’
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাশেম। একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা ফিরে আসবে এবং পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিন প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, যেকোনো সমাধানের জন্য তিনি পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে-
২) লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার
৩) আটক ব্যক্তিদের মুক্তি
৫) পুনর্গঠন কার্যক্রম
কাসেম লেবাননের কর্তৃপক্ষের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অপমানজনক ছাড়’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করেন, এ ধরনের আলোচনা অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়াবে এবং দেশের কোনো উপকারে আসবে না।
তিনি সরাসরি আলোচনা বন্ধ করে পরোক্ষ আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এবং বলেন, বর্তমান চুক্তিগুলো ‘আমাদের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।’
কাসেম পুনর্ব্যক্ত করেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ না করার কারণ নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করা এবং লেবাননে ইসরায়েলের বৃহত্তর দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অস্ত্র ছাড়ব না,’ এবং প্রতিরোধের শক্তি ‘বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতার’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
কাসেম যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, তেহরানের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।
তিনি ওয়াশিংটনে লেবাননের কর্তৃপক্ষের আচরণের সমালোচনা করে একে ‘লজ্জাজনক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা এমন শর্ত মেনে নিয়েছে যা ইসরায়েলকে হামলা চালিয়ে যেতে সুযোগ দিয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জবাবে হিজবুল্লাহ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যত খুশি হুমকি দিন—আমরা পিছু হটব না, নত হব না, পরাজিতও হব না।’
প্রসঙ্গত, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৫২১ জন ছাড়িয়েছে (২৭ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত)। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ৭,৮০৪ জন।
আন্তর্জাতিক ডেক্স 
























