ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাড়া মোশাঘনিষ্ঠ শরিয়ত উল্লাহর নেতৃত্বে গ্রীন টিভির ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলা ৪৫ হাজার টাকা বেতনের পাসপোর্ট কর্মকর্তার ৫৯ কোটির সম্পদ নওগাঁর সকল ফিলিং স্টেশনে অ্যাপে মিলছে জ্বালানী তেল রবি আজিয়াটার আর্থিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত করবে বিএসইসি হাজতখানায় শিরীন শারমিন, এজলাসে আইনজীবীদের ফটোসেশন একদিনে ইরানকে তছনছ করার হুমকি ট্রাম্পের, আদৌ কি সম্ভব? ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, সরিয়ে দেওয়া হলো অবৈধ স্থাপনা, রাজউক এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোমিনের সম্পদের পাহাড় মাত্র সাত বছরে শতকোটি টাকার মালিক রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান এক উপাচার্যের ৫৪৭ দিনে ৪২৫ নিয়োগ

ঘরে টাকা রাখলে ডাকাত, ব্যাংকে রাখলে ‘শিক্ষিত ডাকাত’!

হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন গ্রাহকরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক আমানতকারী বলেন, ঘরে টাকা রাখি না ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি এখানেও ডাকাত। তাহলে আমরা কোথায় টাকা রাখব?

এক্সিম ব্যাংকের একজন গ্রাহক জানান, তিনি ছোট কাপড়ের ব্যবসা করেন। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে জমিয়ে একটি ডিপোজিট করেছিলেন, যা গত ডিসেম্বরেই মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই টাকা তুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, “ঈদের সময় টাকার অভাবে ব্যবসা করতে পারিনি। নিজের জমানো টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে, তুলতে পারছি না—এটা কেমন শাস্তি? আমরা কোনো অনুদান চাই না, আমাদের আমানত ও মুনাফাসহ পুরো টাকা ফেরত চাই।”

dhakapost

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আরেক আমানতকারী বলেন, “জমি বিক্রির টাকা ঘরে রাখিনি ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি ব্যাংকেই বড় ডাকাত! তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

আমানতকারীরা বলেন, ব্যাংকগুলো ব্যবসা করে আমানতকারীদের টাকা দিয়ে। তারা কোথায় ব্যবসা করবে এটা জেনে বুঝে বিনিয়োগ করা দরকার। কিন্তু একটি মহান ব্যাংকের পরিচালক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের ঋণের নামে অর্থ লুটপাট করেছে। এ দায় আমানতকারীরা কেন নেবে? ব্যাংকের কাজ লুটপাটের টাকা ফেরত আনা। আর আনতে না পারলে তাদের সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা দুটি দাবি জানান— প্রথমত, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে, যা গত ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। আমানতকারীদের টাকা ফেরতের জন্য একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই স্কিম অনুযায়ী একজন গ্রাহক প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। যাদের আমানত দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। পুরো অর্থ তুলতে সময় লাগবে প্রায় ২১ মাস। ডিপিএস ও এফডিআরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অতীতে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।

নতুন এ ব্যাংকটি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে তহবিল হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর জন্য আমানত বিমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাড়া মোশাঘনিষ্ঠ শরিয়ত উল্লাহর নেতৃত্বে গ্রীন টিভির ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলা

ঘরে টাকা রাখলে ডাকাত, ব্যাংকে রাখলে ‘শিক্ষিত ডাকাত’!

আপডেট সময় ০১:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন গ্রাহকরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক আমানতকারী বলেন, ঘরে টাকা রাখি না ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি এখানেও ডাকাত। তাহলে আমরা কোথায় টাকা রাখব?

এক্সিম ব্যাংকের একজন গ্রাহক জানান, তিনি ছোট কাপড়ের ব্যবসা করেন। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে জমিয়ে একটি ডিপোজিট করেছিলেন, যা গত ডিসেম্বরেই মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই টাকা তুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, “ঈদের সময় টাকার অভাবে ব্যবসা করতে পারিনি। নিজের জমানো টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে, তুলতে পারছি না—এটা কেমন শাস্তি? আমরা কোনো অনুদান চাই না, আমাদের আমানত ও মুনাফাসহ পুরো টাকা ফেরত চাই।”

dhakapost

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আরেক আমানতকারী বলেন, “জমি বিক্রির টাকা ঘরে রাখিনি ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি ব্যাংকেই বড় ডাকাত! তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

আমানতকারীরা বলেন, ব্যাংকগুলো ব্যবসা করে আমানতকারীদের টাকা দিয়ে। তারা কোথায় ব্যবসা করবে এটা জেনে বুঝে বিনিয়োগ করা দরকার। কিন্তু একটি মহান ব্যাংকের পরিচালক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের ঋণের নামে অর্থ লুটপাট করেছে। এ দায় আমানতকারীরা কেন নেবে? ব্যাংকের কাজ লুটপাটের টাকা ফেরত আনা। আর আনতে না পারলে তাদের সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা দুটি দাবি জানান— প্রথমত, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে, যা গত ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। আমানতকারীদের টাকা ফেরতের জন্য একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই স্কিম অনুযায়ী একজন গ্রাহক প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। যাদের আমানত দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। পুরো অর্থ তুলতে সময় লাগবে প্রায় ২১ মাস। ডিপিএস ও এফডিআরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অতীতে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।

নতুন এ ব্যাংকটি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে তহবিল হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর জন্য আমানত বিমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।