ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন আন্দালিব পার্থের ‘প্রস্তর যুগে’ আটকে আছেন ট্রাম্প : ইরান সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, জানালেন সহমর্মিতা কক্সবাজারে নকল বিদেশি মদ তৈরির কারখানা, আটক ১ লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল: সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০, শহরে থমথমে পরিস্থিতি ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ বাস কাউন্টার সরাতে হবে : ডিএমপি ভারতে পাচারের সময় শিশুসহ ৮ জন উদ্ধার মহেশখালীতে প্রথম দিনে ৪,২৩০ শিশুকে হাম টিকা, জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে জোর প্রচারণা পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে ক্যাশলেস ব্যাংকিং সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত সীমান্তেবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ইদানিং চোরাকারবারিরা তৎপর হয়ে উঠেছে ভারতীয় ০৪টি মহিষ আটক।
এলডিসি উত্তরণে পূর্ণ প্রস্তুতি নেই

অর্থনীতি এখন প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা করছে : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খোদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে উত্তরণের লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি বাংলাদেশের নেই।

রোববার (৫ এপ্রিল) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS-এর একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়নের মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই এখন নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানির প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে পড়বে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও বাংলাদেশ তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘদিন এই চাপ সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা সময় পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে কাজ চলছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন আন্দালিব পার্থের

এলডিসি উত্তরণে পূর্ণ প্রস্তুতি নেই

অর্থনীতি এখন প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা করছে : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খোদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে উত্তরণের লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি বাংলাদেশের নেই।

রোববার (৫ এপ্রিল) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS-এর একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়নের মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই এখন নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানির প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে পড়বে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও বাংলাদেশ তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘদিন এই চাপ সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা সময় পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে কাজ চলছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।