পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা হাট ইউনিয়নের ভান্ডারগ্রামে চা বাগান জোরপূর্বক দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (২ এপ্রিল)সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চাকলা হাট ইউনিয়নের নতুন চাকলা বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ অভিযোগ করে বলেন, তার বড় ভাই নইমুল ইসলাম ২০১৭ সালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা হাট ইউনিয়নের ভাণ্ডারুগ্রামে ওবায়দুর রহমানের কাছ থেকে ১০ বিঘা জমি ১৪ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধভাবে গ্রহণ করেন এবং সেখানে চা বাগান গড়ে তোলেন।
তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালে এক লক্ষ টাকা কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও বিলম্ব ঘটে। এ সুযোগে বাগান মালিক চুক্তির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল থাকা সত্ত্বেও চাপ প্রয়োগ করে বাগানটি ফেরত নিতে চান। পরবর্তীতে পরিস্থিতির চাপে নইমুল ইসলাম তিন রাউন্ডের জন্য বাগানটি ছাড়তে সম্মতি দেন।
পরে ওবায়দুর রহমান স্থানীয় হাবিবুর রহমানের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি সম্পাদন করেন, যেখানে প্রতিবছর ৬০ হাজার টাকা খাজনা নির্ধারণ করে পাঁচ বছরের জন্য বাগানটি প্রদান করা হয়।
মাসুদ আরও জানান, ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনটি রাউন্ডের চুক্তি থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বাগান মালিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি টালবাহানা করেন। পরবর্তীতে কোনো সুরাহা না হলে স্থানীয়দের পরামর্শে তারা চাকলা হাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু দাউদ প্রধান এর শরণাপন্ন হন।
তিনি ৩ পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জমির মালিককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দাবি করেন, উক্ত ডিড তিনি দেননি বরং প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে বৈঠকে আপস-মীমাংসা হয়। মীমাংসা অনুযায়ী, হাবিবুর রহমানের ডিডের মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণসহ মোট ২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি দেড় বছর বাগান থেকে যে আয় হয়েছে, সে বিষয়ে প্রথম পক্ষ কোনো দাবি করবে না বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
তবে ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, মীমাংসা অনুযায়ী সমাধান হওয়ার পরও তারা চা পাতা সংগ্রহ করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন। মাসুদ বলেন, ইউপি সদস্যকে অবহিত করে বাগানে চা পাতা কাটতে গেলে হাবিবুর রহমানের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাবিবুর রহমান ও তার সহযোগীরা তাদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দিচ্ছেন।
এদিকে জমির মালিক ওবায়দুর রহমানের ছেলে মুস্তাকিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বলেন, আমার বাবাকে কোম্পানির কার্ড করার কথা বলে সরল বিশ্বাসে ডিডে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ডিডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না এবং এর কোনো কপিও আমাদের কাছে ছিল না।
তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু দাউদ প্রধানের নেতৃত্বে সকল পক্ষের সম্মতিতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তারা সেটি মেনে নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
আনিসুর রহমান মানিক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি। 



















