ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষায়’ আইআরজিসি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারার অপেক্ষায় রয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বর্তমানে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় শনিবার আইআরজিসি মার্কিন বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই জলপথে মার্কিন বাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আইআরজিসি।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ঘোষণা দেন, যথাযথ সময়েই নৌবাহিনী এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে পাহারা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘‘আমরা তাদের উপস্থিতির অপেক্ষায় আছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মার্কিনিরা যেন ১৯৮৭ সালে তাদের সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটনে’ লাগা আগুন এবং সম্প্রতি লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা মনে রাখে।’’

• পারস্য উপসাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলা
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাতায়াতের রুট হিসেবে হরমুজ প্রণাণিকে ব্যবহার করায় পারস্য উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া সেই ট্যাঙ্কার ট্যাঙ্কারের নাম প্রিমা। তবে সেটি কোন দেশের তা জানায়নি রেভল্যুশনারি গার্ড।

বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘‘আমরা বার বার সতর্কবার্তা দিয়েছি যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং তাদের মিত্র সমর্থকদের জাহাজ চলাচল নিষেধ। কিন্তু প্রিমা নামের ট্যাঙ্কারটি আমাদের সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি।’’

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি বছরে ২২ ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ, বড় সুযোগ বললেন মিরাজ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষায়’ আইআরজিসি

আপডেট সময় ০৪:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পারাপারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারার অপেক্ষায় রয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বর্তমানে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় শনিবার আইআরজিসি মার্কিন বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই জলপথে মার্কিন বাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আইআরজিসি।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ঘোষণা দেন, যথাযথ সময়েই নৌবাহিনী এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে পাহারা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘‘আমরা তাদের উপস্থিতির অপেক্ষায় আছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মার্কিনিরা যেন ১৯৮৭ সালে তাদের সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটনে’ লাগা আগুন এবং সম্প্রতি লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা মনে রাখে।’’

• পারস্য উপসাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলা
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাতায়াতের রুট হিসেবে হরমুজ প্রণাণিকে ব্যবহার করায় পারস্য উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া সেই ট্যাঙ্কার ট্যাঙ্কারের নাম প্রিমা। তবে সেটি কোন দেশের তা জানায়নি রেভল্যুশনারি গার্ড।

বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘‘আমরা বার বার সতর্কবার্তা দিয়েছি যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং তাদের মিত্র সমর্থকদের জাহাজ চলাচল নিষেধ। কিন্তু প্রিমা নামের ট্যাঙ্কারটি আমাদের সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি।’’

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।