সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজছেন ক্রেতারা, বিক্রেতাদের আশা বাড়বে বিক্রি

চলছে পবিত্র মাহে রমজান। আর মাত্র ১৫ দিন পরেই মুসলমানের দরজায় কড়া নাড়ছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিপণি বিতানগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ঈদের আমেজ। শোরুমগুলো সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি কাপড়ে তৈরি বাহারি পাঞ্জাবিতে।

শোরুম থেকে ফুটপাতে ঘুরে দেখছেন ক্রেতারা। পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজে খুঁজে কিনছেন তারা। তবে ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে বিক্রি ততই বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মাকের্টসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর এলিফ্যান্ট, নিউ মাকের্ট, নুরজাহান মাকের্ট, চাঁদনী মাকের্টগুলোতে তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সি ও প্রবীণ ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজছেন। আবার কেউ কেউ দামাদামী করে পাঞ্জাবীও কিনছেন। মাকের্টগুলো ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই সাজিয়েছেন তাদের শোরুম। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও দেশি-বিদেশি কাপড়ে তৈরি বাহারি পাঞ্জাবিতে ভরে উঠেছে দোকানগুলো। তবে ঈদের আরও ১৫ দিন বাকি। তাই এখনো তেমনটা জমে ওঠেনি পাঞ্জাবির বাজার।

মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সুতির পাশাপাশি সফট লিলেন, কাবুলি ও প্রিন্টের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। তবে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কামরাঙ্গীচর থেকে পাঞ্জাবি কিনতে আসা ইব্রাহীম হোসাইন বলেন, ‘ঈদ তো চলেই আসছে। আজকে ১৪ রোজা শেষ হচ্ছে। বাকী দিনগুলো দৌড় দিয়েই চলে যাবে। তাই আগেভাগে চলে আসছি পাঞ্জাবি কিনতে। মার্কেটে অনেক ডিজাইন আছে। দাম এবার একটু বেশি মনে হচ্ছে। গতবছরের চেয়ে এ বছর পাঞ্জাবির ডিজাইনে নতুনত্ব এসেছে।’ তার সঙ্গে থাকা বন্ধু দীপ বলেন, ‘পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। এ বছর ডিজাইনগুলো সুন্দর। পছন্দের অনেক অপশন রয়েছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে করে গরীব, ধনী সবার বাজেটের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে সাধারণ মানের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া নামিদামি শো-রুমগুলোতে ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা দাম পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি।

রাজধানীর নামী শোরুমগুলোর পাশাপাশি এখন উৎসবের রং লেগেছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। গাউছিয়া, নিউমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। ঈদ ঘিরে সেখানেও তিল ধারণে ঠাঁই নেই। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নিজেদের বাজেটের মধ্যে সেরা পাঞ্জাবীটি খুঁজে নিতে ফুটপাতের এই দোকানগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।

নিউ মার্কেটের পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে মোটামুটি বিক্রি শুরু হয়েছে। কেউ কেউ কিনছে, কেউ দাম দেখে যাচ্ছে। কালারফুল ও সফট কাজ করা পাঞ্জাবির প্রতি তরুণদের চাহিদা বেশি। শিশুরা সাদা পাঞ্জাবি পছন্দ করছে বেশি। ইফতারের পর থেকেই বেচাকেনা বেশি হয়।’

ফুটপাত থেকে সন্তানদের পাঞ্জাবি কিনেছেন মমতাজ বেগম। তিনি অন্যের বাড়ি কাজ করলেও ঈদে দুই সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাতে চান। তিনি নুরজাহান মার্কেটের সামনের ফুটপাত থেকে দুইটি পাঞ্জাবি ৯০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ, আমাদের সন্তানদের জন্য এখান থেকেই পাঞ্জাবি কিনেছি। বড় লোকেরা ভেতর থেকে কিনবে, আমাদের এখানে ভালো।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজছেন ক্রেতারা, বিক্রেতাদের আশা বাড়বে বিক্রি

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

চলছে পবিত্র মাহে রমজান। আর মাত্র ১৫ দিন পরেই মুসলমানের দরজায় কড়া নাড়ছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিপণি বিতানগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ঈদের আমেজ। শোরুমগুলো সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি কাপড়ে তৈরি বাহারি পাঞ্জাবিতে।

শোরুম থেকে ফুটপাতে ঘুরে দেখছেন ক্রেতারা। পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজে খুঁজে কিনছেন তারা। তবে ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে বিক্রি ততই বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মাকের্টসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর এলিফ্যান্ট, নিউ মাকের্ট, নুরজাহান মাকের্ট, চাঁদনী মাকের্টগুলোতে তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সি ও প্রবীণ ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজছেন। আবার কেউ কেউ দামাদামী করে পাঞ্জাবীও কিনছেন। মাকের্টগুলো ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই সাজিয়েছেন তাদের শোরুম। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও দেশি-বিদেশি কাপড়ে তৈরি বাহারি পাঞ্জাবিতে ভরে উঠেছে দোকানগুলো। তবে ঈদের আরও ১৫ দিন বাকি। তাই এখনো তেমনটা জমে ওঠেনি পাঞ্জাবির বাজার।

মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সুতির পাশাপাশি সফট লিলেন, কাবুলি ও প্রিন্টের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। তবে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কামরাঙ্গীচর থেকে পাঞ্জাবি কিনতে আসা ইব্রাহীম হোসাইন বলেন, ‘ঈদ তো চলেই আসছে। আজকে ১৪ রোজা শেষ হচ্ছে। বাকী দিনগুলো দৌড় দিয়েই চলে যাবে। তাই আগেভাগে চলে আসছি পাঞ্জাবি কিনতে। মার্কেটে অনেক ডিজাইন আছে। দাম এবার একটু বেশি মনে হচ্ছে। গতবছরের চেয়ে এ বছর পাঞ্জাবির ডিজাইনে নতুনত্ব এসেছে।’ তার সঙ্গে থাকা বন্ধু দীপ বলেন, ‘পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। এ বছর ডিজাইনগুলো সুন্দর। পছন্দের অনেক অপশন রয়েছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে করে গরীব, ধনী সবার বাজেটের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে সাধারণ মানের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া নামিদামি শো-রুমগুলোতে ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা দাম পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি।

রাজধানীর নামী শোরুমগুলোর পাশাপাশি এখন উৎসবের রং লেগেছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। গাউছিয়া, নিউমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। ঈদ ঘিরে সেখানেও তিল ধারণে ঠাঁই নেই। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নিজেদের বাজেটের মধ্যে সেরা পাঞ্জাবীটি খুঁজে নিতে ফুটপাতের এই দোকানগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।

নিউ মার্কেটের পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে মোটামুটি বিক্রি শুরু হয়েছে। কেউ কেউ কিনছে, কেউ দাম দেখে যাচ্ছে। কালারফুল ও সফট কাজ করা পাঞ্জাবির প্রতি তরুণদের চাহিদা বেশি। শিশুরা সাদা পাঞ্জাবি পছন্দ করছে বেশি। ইফতারের পর থেকেই বেচাকেনা বেশি হয়।’

ফুটপাত থেকে সন্তানদের পাঞ্জাবি কিনেছেন মমতাজ বেগম। তিনি অন্যের বাড়ি কাজ করলেও ঈদে দুই সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাতে চান। তিনি নুরজাহান মার্কেটের সামনের ফুটপাত থেকে দুইটি পাঞ্জাবি ৯০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ, আমাদের সন্তানদের জন্য এখান থেকেই পাঞ্জাবি কিনেছি। বড় লোকেরা ভেতর থেকে কিনবে, আমাদের এখানে ভালো।